১০:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেপালে বন্যায় নিখোঁজদের প্রতীকী শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত

  • আপডেট সময় : ০৬:১৮:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 50

নেপালে বন্যায় নিখোঁজদের প্রতীকী শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত

এক সপ্তাহ আগে হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় গ্রাম ও বাড়িঘর ভেসে যাওয়ার পর নিখোঁজ স্বজনদের ‘আত্মার মুক্তির’ জন্য নেপালের পরিবারগুলো প্রতীকী শেষকৃত্য পালন করছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

গত ২৬ আগস্ট চীন-নেপাল সীমান্ত এলাকায় উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলের একটি হিমবাহ ধসে বরফশীতল পানি, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত নেমে আসে। এতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে।

জরুরি উদ্ধারকারী দল এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি লাশ উদ্ধার করেছে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মানুষ।

নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে কয়েক দিন ধরে আশ্রয়কেন্দ্র ও মর্গে খোঁজ চালানোর পর অনেক পরিবার আশা হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ধর্মীয় রীতিতে শেষকৃত্য শুরু করেছে।

স্বামীর প্রতীকী শেষকৃত্যের সময় কান্নারত ছেলের পাশে দাঁড়িয়ে ডোলমা নেওয়ার তামাং বলেন, ‘তার আত্মাকে মুক্তি দেওয়ার জন্য আমাদের এটা করতে হয়েছে, যাতে তিনি যেখানে আছেন, সেখানেই শান্তিতে ও আনন্দে থাকতে পারেন।’

দুর্যোগের সময় তার স্বামী চীনের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন।

ডোলমা এএফপিকে বলেন, ‘আমি খবরটি দেখে তাকে ফোন করেছিলাম। বারবার ফোন করেছি, কিন্তু তিনি কখনোই ফোন ধরেননি।’

ভয়াবহ এই দুর্যোগের এক সপ্তাহ পরও নেপালের উদ্ধারকারীরা নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারের আশা ছাড়েননি। বিশেষ করে ওই অঞ্চলের বিভিন্ন জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের একাধিক সুড়ঙ্গে আটকে থাকা মানুষদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা নিয়ে তারা আশাবাদী।

এখন পর্যন্ত কাদায় পুরোপুরি আটকে থাকা সুড়ঙ্গগুলো থেকে শুধু লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে জীবিতদের কাছে পৌঁছানোর আশায় উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে খনন, ড্রিলিং ও বিস্ফোরণের মাধ্যমে পথ তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানালও হাজার হাজার নিখোঁজ মানুষের কেউ কেউ এখনো জীবিত থাকতে পারেন বলে আশা করছেন।

এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘অলৌকিক ঘটনা ঘটতেই পারে। এই মুহূর্তে আমি পুরোপুরি আশা ছেড়ে দিতে চাই না।’

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেছেন, এই বিপর্যয় ‘হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আমরা যে ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছি, তা বাড়ছে— এর একটি গুরুতর সংকেত।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন একটি বৈশ্বিক দায় আর দুর্যোগ মোকাবিলাও বৈশ্বিক দায়িত্ব।’

বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতমালা হিমালয় বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে দ্রুত উষ্ণ হয়ে উঠছে। এতে হিমবাহ গলার গতি বেড়ে যাচ্ছে।

বৃহত্তর হিমালয় ও হিন্দুকুশ পর্বতমালা অঞ্চলের হিমবাহ প্রায় ২৪ কোটি মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পানির উৎস। পাশাপাশি নিচের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নদী অববাহিকায় বসবাসকারী আরও প্রায় ১৬৫ কোটি মানুষও এসব পানির উৎসের ওপর নির্ভরশীল।

প্রায় ৩ কোটি মানুষের দেশ নেপালে ভয়াবহ এই ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে।

বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ানোর জন্য দায়ী গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে নেপালের অবদান খুবই কম। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের পরিণতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে নেপাল।

কাঠমান্ডু সতর্ক করে বলেছে, পুনর্গঠনের ব্যয় কয়েক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ নেপালের সীমিত হওয়ায় দেশটির অর্থনীতির ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

ধ্বংসযজ্ঞের ব্যাপকতার একটি উদাহরণ হিসেবে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত তিব্বতের গিরং বন্দরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বুধবার পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে। এর আগে ‘দিন-রাত টানা মেরামতের কাজ’ চালাতে হয়েছে বলে তারা জানিয়েছে।

নেপালের মর্গগুলোতে লাশ রাখার জায়গা সংকট তৈরি হওয়ায় ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর শত শত অজ্ঞাত লাশ দাফন করতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

নেপাল জানিয়েছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত ১ হাজার ৫০টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৩ হাজার ৯১৬ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটিতে ১৬ জন নিহত এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৬৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ৪৬২ জন।

এ ছাড়া ভারতের নিম্নাঞ্চলের নদীগুলো থেকেও অন্তত ১৭টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে

15 September 2026

নেপালে বন্যায় নিখোঁজদের প্রতীকী শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত

জনপ্রিয়

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের এজিএম নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে সাবেক নারী কর্মীর শ্লীলতাহানির মামলা

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

নেপালে বন্যায় নিখোঁজদের প্রতীকী শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় : ০৬:১৮:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এক সপ্তাহ আগে হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় গ্রাম ও বাড়িঘর ভেসে যাওয়ার পর নিখোঁজ স্বজনদের ‘আত্মার মুক্তির’ জন্য নেপালের পরিবারগুলো প্রতীকী শেষকৃত্য পালন করছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

গত ২৬ আগস্ট চীন-নেপাল সীমান্ত এলাকায় উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলের একটি হিমবাহ ধসে বরফশীতল পানি, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত নেমে আসে। এতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে।

জরুরি উদ্ধারকারী দল এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি লাশ উদ্ধার করেছে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মানুষ।

নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে কয়েক দিন ধরে আশ্রয়কেন্দ্র ও মর্গে খোঁজ চালানোর পর অনেক পরিবার আশা হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ধর্মীয় রীতিতে শেষকৃত্য শুরু করেছে।

স্বামীর প্রতীকী শেষকৃত্যের সময় কান্নারত ছেলের পাশে দাঁড়িয়ে ডোলমা নেওয়ার তামাং বলেন, ‘তার আত্মাকে মুক্তি দেওয়ার জন্য আমাদের এটা করতে হয়েছে, যাতে তিনি যেখানে আছেন, সেখানেই শান্তিতে ও আনন্দে থাকতে পারেন।’

দুর্যোগের সময় তার স্বামী চীনের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন।

ডোলমা এএফপিকে বলেন, ‘আমি খবরটি দেখে তাকে ফোন করেছিলাম। বারবার ফোন করেছি, কিন্তু তিনি কখনোই ফোন ধরেননি।’

ভয়াবহ এই দুর্যোগের এক সপ্তাহ পরও নেপালের উদ্ধারকারীরা নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারের আশা ছাড়েননি। বিশেষ করে ওই অঞ্চলের বিভিন্ন জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের একাধিক সুড়ঙ্গে আটকে থাকা মানুষদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা নিয়ে তারা আশাবাদী।

এখন পর্যন্ত কাদায় পুরোপুরি আটকে থাকা সুড়ঙ্গগুলো থেকে শুধু লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে জীবিতদের কাছে পৌঁছানোর আশায় উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে খনন, ড্রিলিং ও বিস্ফোরণের মাধ্যমে পথ তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানালও হাজার হাজার নিখোঁজ মানুষের কেউ কেউ এখনো জীবিত থাকতে পারেন বলে আশা করছেন।

এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘অলৌকিক ঘটনা ঘটতেই পারে। এই মুহূর্তে আমি পুরোপুরি আশা ছেড়ে দিতে চাই না।’

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেছেন, এই বিপর্যয় ‘হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আমরা যে ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছি, তা বাড়ছে— এর একটি গুরুতর সংকেত।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন একটি বৈশ্বিক দায় আর দুর্যোগ মোকাবিলাও বৈশ্বিক দায়িত্ব।’

বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতমালা হিমালয় বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে দ্রুত উষ্ণ হয়ে উঠছে। এতে হিমবাহ গলার গতি বেড়ে যাচ্ছে।

বৃহত্তর হিমালয় ও হিন্দুকুশ পর্বতমালা অঞ্চলের হিমবাহ প্রায় ২৪ কোটি মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পানির উৎস। পাশাপাশি নিচের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নদী অববাহিকায় বসবাসকারী আরও প্রায় ১৬৫ কোটি মানুষও এসব পানির উৎসের ওপর নির্ভরশীল।

প্রায় ৩ কোটি মানুষের দেশ নেপালে ভয়াবহ এই ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে।

বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ানোর জন্য দায়ী গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে নেপালের অবদান খুবই কম। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের পরিণতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে নেপাল।

কাঠমান্ডু সতর্ক করে বলেছে, পুনর্গঠনের ব্যয় কয়েক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ নেপালের সীমিত হওয়ায় দেশটির অর্থনীতির ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

ধ্বংসযজ্ঞের ব্যাপকতার একটি উদাহরণ হিসেবে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত তিব্বতের গিরং বন্দরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বুধবার পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে। এর আগে ‘দিন-রাত টানা মেরামতের কাজ’ চালাতে হয়েছে বলে তারা জানিয়েছে।

নেপালের মর্গগুলোতে লাশ রাখার জায়গা সংকট তৈরি হওয়ায় ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর শত শত অজ্ঞাত লাশ দাফন করতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

নেপাল জানিয়েছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত ১ হাজার ৫০টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৩ হাজার ৯১৬ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটিতে ১৬ জন নিহত এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৬৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ৪৬২ জন।

এ ছাড়া ভারতের নিম্নাঞ্চলের নদীগুলো থেকেও অন্তত ১৭টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে

15 September 2026

নেপালে বন্যায় নিখোঁজদের প্রতীকী শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত