ফরিদপুরের মধুখালীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্তর মৃত্যুর ঘটনায় একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন মোড় নিয়েছে। ২ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি প্রকাশ পাওয়ার পর ডিবির মাদক উদ্ধারের দাবি এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এলাকায় তীব্র রহস্য ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, নিজ বাড়ির সামনে শান্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকা ইশতিয়াককে ডিবি সদস্যরা ঘিরে ধরে ধাক্কাধাক্কি করছেন, একপর্যায়ে তাকে কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করা হয় এবং এক কর্মকর্তা তার মাথায় আঘাতও করেন। সবচেয়ে নাটকীয় ও রহস্যজনক অংশটি ঘটে ভিডিওর শেষ দিকে, যখন তল্লাশির স্থান থেকে বেশ কিছুটা দূরে মাটিতে পড়ে থাকা একটি বস্তুকে ডিবির এক সদস্য চিৎকার করে ‘এক টোপলা মাদক’ হিসেবে দাবি করেন। অথচ পুরো ভিডিওর কোথাও ইশতিয়াকের কাছ থেকে সরাসরি সেই বস্তু উদ্ধারের কোনো প্রমাণ মেলেনি।
এদিকে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রান্তর মা খাদিজা আক্তার দাবি করেছেন, গত ২১ জুন বিকেলে আটকের সময় তার চোখের সামনেই ছেলেকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। পরবর্তীতে ডিবি সদস্যরা রাতে প্রথমে ৬৫ হাজার টাকা এবং সকালে আরও ১ লাখ টাকা দাবি করে। সকালে সেই টাকা নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছানোর পর তিনি ছেলের লাশ দেখতে পান।
তবে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। ফরিদপুরের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রান্তর শরীরে দৃশ্যমান কোনো জখমের চিহ্ন ছিল না এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বিএনপি নেতারা একে সরাসরি ‘হত্যাকাণ্ড’ আখ্যা দিয়ে দোষী পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে জেলা ছাত্রলীগ নিহত ইশতিয়াককে নিজেদের কর্মী দাবি করে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। ভিডিওটি জনসমক্ষে আসার পর ডিবির এই অভিযানের সততা এবং হেফাজতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে এখন পুরো জেলাজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।























