রাজধানীর কদমতলীতে গাড়িতে ‘প্রেস’ লেখা এবং সঙ্গে টেলিভিশনের বুম ও ক্যামেরা রাখা এক ব্যক্তিকে ৫ হাজার ২০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। গ্রেফতারকৃত আসামির হোসাইন শরীফ ওরফে সোহেল (৪৫)। তিনি ভুয়া সাংবাদিক বলে জানিয়েছে ডিএনসি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে কদমতলী থানার মাতুয়াইল মুক্তি সরণি পোল্ডার রোডে মেসার্স খান অ্যান্ড চৌধুরী ফিলিং স্টেশনের আশপাশে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সন্ধ্যায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো (দক্ষিণ) কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কক্সবাজার থেকে আসা প্রেস লেখা একটি নোয়াহ মাইক্রোবাস ঘিরে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় গাড়ির স্টিয়ারিংয়ের পাশের একটি বাক্সে রাখা শপিং ব্যাগ থেকে ২১টি প্যাকেটে ৪ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে সোহেলের পরনের প্যান্টের ডান পকেটে স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো পাঁচটি প্যাকেট থেকে আরও এক হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা ইয়াবার পরিমাণ ৫ হাজার ২০০ পিস, ওজন ৫২০ গ্রাম।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দাবি, গাড়িতে প্রেস লেখা থাকলেও জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল কোন টেলিভিশনে কাজ করেন, তা জানাতে পারেননি। তাঁর কাছ থেকে একটি প্যানাসনিক ভিডিও ক্যামেরা, স্ট্যান্ডসহ ‘এশিয়ান টিভি’ ও ‘সরেজমিন’ লেখা দুটি বুম এবং ইনফিনিক্স নোট, অপো এ৫৮ ও জিডিএলজি৩৬ মডেলের তিনটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রেস লেখা নোয়াহ মাইক্রোবাসটিও জব্দ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল জানিয়েছেন, তিনি আগে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে সাংবাদিকতায় যুক্ত না থাকলেও ক্যামেরা, বুম, ভিজিটিং কার্ড ও গাড়িতে প্রেস লেখা ব্যবহার করে অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে দাবি করেছে অধিদপ্তর।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় সোহেলের বিরুদ্ধে কদমতলী থানায় মামলা করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।






















