ইসলামী ব্যাংকের পুরনো মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া এবং দ্রুত একটি স্বাধীন ও পেশাদার পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে গণ-অবস্থান নিয়েছেন ব্যাংকটির সাধারণ গ্রাহকরা। পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, সোমবার (২২ জুন) বেলা ১১টায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বাংলাদেশ ব্যাংক অভিমুখে যাত্রা করে এবং পরবর্তীতে গ্রাহকরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে অবস্থান কর্মসূচী পালন করেন।
আন্দোলনকারী গ্রাহকদের মূল দাবি, ইসলামী ব্যাংকে সৎ, যোগ্য ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে। এর মাধ্যমে গ্রাহকদের হারিয়ে যাওয়া আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং ব্যাংকের স্বাভাবিক লেনদেন দ্রুত সচল করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান তারা।
অবস্থান কর্মসূচি থেকে আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি আদায়ে ৭ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো নিচে দেওয়া হলো:
স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন: অংশীজনদের (স্টেকহোল্ডার) সাথে আলোচনার ভিত্তিতে অবিলম্বে সৎ, যোগ্য, অভিজ্ঞ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ইসলামী ব্যাংকের একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে।
বৈধ মালিকানা ফেরত: ২০১৭ সালে গায়ের জোরে এবং রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে ইসলামী ব্যাংকের যেসকল শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে বৈধ মালিকানা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, তাদের মালিকানা অবিলম্বে ফিরিয়ে দিতে হবে।
বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ও বিচার: ব্যাংক লুটেরাদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে। একই সাথে এস আলমসহ যারা ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করেছে, তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
স্থিতিশীলতা আনয়ন ও আতঙ্ক দূরীকরণ: ইসলামী ব্যাংকগুলোতে বিরাজমান আতঙ্ক দূর করতে হবে। ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারকে যেকোনো ধরনের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে।
লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার: ব্যাংক থেকে লুণ্ঠিত হওয়া সমস্ত অর্থ উদ্ধার করতে হবে এবং এস আলমের সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে হবে।
আইন সংশোধন: ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮/ক ধারা অবিলম্বে সংশোধন করতে হবে; কারণ এই ধারার ছদ্মবেশে লুটেরাদের পুনরায় ব্যাংকে পুনর্বাসনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
বক্তব্য প্রত্যাহার: জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া অসত্য বক্তব্য এবং এস আলমের হাতে পুনরায় ব্যাংক তুলে দেওয়ার যে প্রচ্ছন্ন আভাস দেওয়া হয়েছে, তা অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।























