মাঠ প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও সমন্বিত উদ্যোগে সারা দেশে গুরুতর অপরাধের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। গত ২১ জুন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সারা দেশের বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের নিয়ে অনুষ্ঠিত মাসিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভায় এই তথ্য উঠে আসে। সভায় উপস্থাপিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সমন্বয় অধিশাখার কর্মকর্তারা জানান, জেলা প্রশাসকদের পাঠানো মাসিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে মাঠ পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। দেশের আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধগুলোকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যার মধ্যে পূর্বপরিকল্পিত হত্যা, ধর্ষণ, মানব পাচার এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতাধীন অপরাধসমূহ অন্তর্ভুক্ত।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সারা দেশে ২০২৫ সালের মে মাসে মোট ২ হাজার ৮০৯টি গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল। ২০২৬ সালের এপ্রিলে তা কমে ২ হাজার ৫৯৬টিতে এবং মে মাসে আরও কমে ২ হাজার ৫৭২টিতে দাঁড়ায়। অর্থাৎ, এ বছরের এপ্রিলের তুলনায় মে মাসে গুরুতর অপরাধ ২৪টি (০.৯২ শতাংশ) এবং ২০২৫ সালের মে মাসের তুলনায় ২০২৬ সালের মে মাসে ২৩৭টি (৮.৪৪ শতাংশ) অপরাধ কমেছে। বিভাগীয় ও আঞ্চলিক তথ্যে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে ২০২৫ সালের মে মাসে গুরুতর অপরাধ ছিল ৫২১টি, যা ২০২৬ সালের এপ্রিলে ৪৬৬টি এবং মে মাসে ৪৮৫টি হয়। রাজশাহী বিভাগে ২০২৫ সালের মে মাসের ৩৪৯টি অপরাধ ২০২৬ সালের মে মাসে কমে ২৬১টিতে নেমে আসে। খুলনা বিভাগে ২০২৫ সালের মে মাসে ২৭১টি অপরাধ থাকলেও ২০২৬ সালের এপ্রিলে ২১৯টি ও মে মাসে ২৪২টি রেকর্ড করা হয়। বরিশাল বিভাগে ২০২৫ সালের মে মাসে অপরাধ ছিল ২২২টি এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে ছিল ২২১টি। সিলেট বিভাগে ২০২৫ সালের মে মাসের ১৯৩টি অপরাধ ২০২৬ সালের এপ্রিলে ১১৯টি ও মে মাসে ১২৩টিতে দাঁড়ায়। রংপুর বিভাগে ২০২৫ সালের মে মাসের ৩১৩টি অপরাধ ২০২৬ সালের মে মাসে কমে ২৬৩টি হয়। ময়মনসিংহ বিভাগে ২০২৫ সালের মে মাসে গুরুতর অপরাধ ছিল ১৬৩টি এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে তা ছিল ১৬২টি। এছাড়া, মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোতে ২০২৫ সালের মে মাসে অপরাধ ছিল ৪৮৮টি, যা ২০২৬ সালের এপ্রিলে ৪১১টি এবং মে মাসে আরও কমে ৪০২টিতে নেমে আসে।
সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাস পূর্ণ হয়েছে এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশের অপরাধ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। তিনি জানান, অপরাধ দমনে পুলিশ বাহিনীকে আরও শক্তিশালী (বুস্ট আপ) করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ ইতোমধ্যে তিনটি আলোচিত ঘটনার পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলার দ্রুত তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তারকারী পুলিশ সদস্য, দৌলতদিয়ার নৌদুর্ঘটনায় যাত্রীদের প্রাণ রক্ষাকারী নৌ-পুলিশের তিন সদস্য এবং মুন্সীগঞ্জে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় চার আসামিকে গ্রেপ্তারে অবদান রাখা তিন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।























