স্থানীয় স্পিনিং শিল্পকে সুরক্ষা দিতে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতা (এইচএস কোড ৫২০৫, ৫২০৬ ও ৫২০৭) আমদানিতে বিদ্যমান বিশেষ বন্ড সুবিধা তুলে নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পের জন্য বিজিএমইএ, বিকেএমইএ অথবা বিটিএমএর প্রত্যয়নপত্র, প্রযোজ্য শুল্ক ও করের সমপরিমাণ ব্যাংক গ্যারান্টি এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের মাধ্যমে এসব সুতা আমদানির সুযোগ বহাল রাখা হয়েছে। আমদানি করা সুতা দিয়ে উৎপাদিত পণ্য সম্পূর্ণ রপ্তানি শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নপত্র জমা দিলে এই ব্যাংক গ্যারান্টি অবমুক্ত করা হবে।
এনবিআরের এই সিদ্ধান্তে দেশীয় টেক্সটাইল মিল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) সন্তোষ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির মতে, দীর্ঘদিন বন্ড সুবিধায় কম দামে সুতা আমদানির কারণে স্থানীয় মিলগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েছিল। নতুন ব্যবস্থার ফলে দেশীয় সুতার ব্যবহার বাড়বে, বন্ধ বা আংশিক বন্ধ থাকা স্পিনিং মিলগুলো পুনরায় উৎপাদনে ফিরবে, স্থানীয় মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি পাবে, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধ হবে এবং বিদেশি মুদ্রা সাশ্রয় হবে।
অন্যদিকে, এই আদেশে পোশাক খাতের শীর্ষ দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, জ্বালানি সংকটের কারণে স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করতে পারছে না। ফলে দ্রুত প্রয়োজন অনুযায়ী দেশীয় মিল থেকে পর্যাপ্ত সুতা না পেলে কাঁচামাল সংকট দেখা দেবে, উৎপাদন ব্যয় বাড়বে এবং সময়মতো রপ্তানি আদেশ সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়বে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তৈরি পোশাক খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
উদ্বেগের প্রেক্ষিতে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা এবং স্থানীয় মিল থেকে ন্যূনতম ৫০ শতাংশ সুতা কেনার বাধ্যবাধকতা বাতিলের দাবি জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন। একই সঙ্গে গত ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সভায় আলোচনা না হওয়া সত্ত্বেও এটি সভার কার্যবিবরণীতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ তুলেছেন তারা। সব মিলিয়ে, স্থানীয় শিল্পের সুরক্ষা নিশ্চিত করার উদ্যোগের পাশাপাশি রপ্তানিমুখী পোশাক খাতের কাঁচামাল সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।























