১০:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেয়ারবাজার কারসাজি ও মানিলন্ডারিং: সাকিবসহ ১৫ জনের তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১৭ নভেম্বর

  • আপডেট সময় : ০৪:২০:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 32

শেয়ারবাজার কারসাজি ও মানিলন্ডারিং: সাকিবসহ ১৫ জনের তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১৭ নভেম্বর

শেয়ারবাজারে কারসাজি, প্রতারণা ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৭ নভেম্বর নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ শাহজাহান কবিরের আদালতে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তা না হওয়ায় আদালত এই নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

২০২৪ সালের ১৭ জুন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এতে সাকিব আল হাসান ছাড়াও সমবায় অধিদপ্তরের উপ-নিবন্ধক আবুল খায়ের (হিরু), তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান, আবুল কালাম মাদবর, কনিকা আফরোজ, মোহাম্মদ বাশার, সাজেদ মাদবর, আলেয়া বেগম, কাজী ফুয়াদ হাসান, কাজী ফরিদ হাসান, শিরিন আক্তার, জাভেদ এ মতিন, জাহেদ কামাল, হুমায়ূন কবির এবং তানভীর নিজামকে আসামি করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এবং দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিও অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অবৈধ সিরিজ ট্রানজেকশন, প্রতারণামূলক একটিভ ট্রেডিং, গেম্বলিং ও স্পেকুলেশনের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে কৃত্রিমভাবে নির্দিষ্ট কিছু শেয়ারের দাম বাড়ান। এর ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বিপুল পরিমাণ অর্থ হারিয়ে প্রতারিত হন। এভাবে সর্বমোট ২৫৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৩০৪ টাকা আত্মসাৎ করা হয়, যা আইনানুযায়ী অপরাধলব্ধ অর্থ হিসেবে গণ্য।

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত আবুল খায়ের (হিরু) তার স্ত্রীর সহায়তায় ২৯ কোটি ৯৪ লাখ ৪২ হাজার ১৮৫ টাকার অবৈধ উৎস গোপন করে বিভিন্ন খাতে স্থানান্তর করেন। এ ছাড়া তার মালিকানাধীন ১৭টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ৫৪২ কোটি ৩১ লাখ ৫১ হাজার ৯৮২ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য মিলেছে।

অন্যদিকে, সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তিনি আবুল খায়ের (হিরু) কর্তৃক কারসাজিকৃত প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স লি., ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স লি. ও সোনালী পেপারস লি.-এর শেয়ারে অর্থ বিনিয়োগ করেন। এর মাধ্যমে সাকিব সরাসরি মার্কেট ম্যানুপুলেশনে সহায়তা করে ‘রিয়ালাইজড ক্যাপিটাল গেইন’-এর নামে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ২ কোটি ৯৫ লাখ ২ হাজার ৯১৫ টাকা শেয়ারবাজার থেকে আত্মসাৎ করেন।

24 September 2026

শেয়ারবাজার কারসাজি ও মানিলন্ডারিং: সাকিবসহ ১৫ জনের তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১৭ নভেম্বর

জনপ্রিয়

রাজধানীতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৫৪৬,মামলা ৬২

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

শেয়ারবাজার কারসাজি ও মানিলন্ডারিং: সাকিবসহ ১৫ জনের তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১৭ নভেম্বর

আপডেট সময় : ০৪:২০:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শেয়ারবাজারে কারসাজি, প্রতারণা ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৭ নভেম্বর নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ শাহজাহান কবিরের আদালতে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তা না হওয়ায় আদালত এই নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

২০২৪ সালের ১৭ জুন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এতে সাকিব আল হাসান ছাড়াও সমবায় অধিদপ্তরের উপ-নিবন্ধক আবুল খায়ের (হিরু), তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান, আবুল কালাম মাদবর, কনিকা আফরোজ, মোহাম্মদ বাশার, সাজেদ মাদবর, আলেয়া বেগম, কাজী ফুয়াদ হাসান, কাজী ফরিদ হাসান, শিরিন আক্তার, জাভেদ এ মতিন, জাহেদ কামাল, হুমায়ূন কবির এবং তানভীর নিজামকে আসামি করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এবং দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিও অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অবৈধ সিরিজ ট্রানজেকশন, প্রতারণামূলক একটিভ ট্রেডিং, গেম্বলিং ও স্পেকুলেশনের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে কৃত্রিমভাবে নির্দিষ্ট কিছু শেয়ারের দাম বাড়ান। এর ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বিপুল পরিমাণ অর্থ হারিয়ে প্রতারিত হন। এভাবে সর্বমোট ২৫৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৩০৪ টাকা আত্মসাৎ করা হয়, যা আইনানুযায়ী অপরাধলব্ধ অর্থ হিসেবে গণ্য।

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত আবুল খায়ের (হিরু) তার স্ত্রীর সহায়তায় ২৯ কোটি ৯৪ লাখ ৪২ হাজার ১৮৫ টাকার অবৈধ উৎস গোপন করে বিভিন্ন খাতে স্থানান্তর করেন। এ ছাড়া তার মালিকানাধীন ১৭টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ৫৪২ কোটি ৩১ লাখ ৫১ হাজার ৯৮২ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য মিলেছে।

অন্যদিকে, সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তিনি আবুল খায়ের (হিরু) কর্তৃক কারসাজিকৃত প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স লি., ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স লি. ও সোনালী পেপারস লি.-এর শেয়ারে অর্থ বিনিয়োগ করেন। এর মাধ্যমে সাকিব সরাসরি মার্কেট ম্যানুপুলেশনে সহায়তা করে ‘রিয়ালাইজড ক্যাপিটাল গেইন’-এর নামে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ২ কোটি ৯৫ লাখ ২ হাজার ৯১৫ টাকা শেয়ারবাজার থেকে আত্মসাৎ করেন।

24 September 2026

শেয়ারবাজার কারসাজি ও মানিলন্ডারিং: সাকিবসহ ১৫ জনের তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১৭ নভেম্বর