জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাসভাড়ার পর এবার লঞ্চের ভাড়াও পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নৌযান মালিকদের দাবির মুখে ভাড়া বাড়ানো হলেও জনদুর্ভোগের বিষয়টি মাথায় রেখে যতটুকু সম্ভব তা কম রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, বিশ্ববাজার ও সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণে তেলের দাম বাড়ানো ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না, যার ফলে পরিবহন খাতেও সমন্বয় জরুরি হয়ে পড়েছিল।
নৌযান মালিকরা তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং পরিচালন খরচ বাড়ার অজুহাতে ভাড়ায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছিলেন। তবে যাত্রীদের আর্থিক সক্ষমতা ও সার্বিক ভোগান্তির কথা চিন্তা করে সরকার সে দাবি কমিয়ে ৭.৫৪ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধিতে সম্মত হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে লঞ্চের সর্বনিম্ন ভাড়া ৩২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সাথে মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে কোনো পরিবহন মালিক যেন অনিয়ম বা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে না পারে, সেজন্য কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ রেলেও পরিচালন লোকসান কমাতে ভাড়া বাড়ানোর জোর দাবি থাকলেও আপাতত ট্রেনভাড়া অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে। মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, আমজনতার আর্থিক স্বস্তির কথা ভেবে সরকার এখনই রেলভাড়া বাড়ানোর পক্ষে নয়, তবে পরিস্থিতি বাধ্য করলে পরবর্তীতে তা যৌক্তিকভাবে বিবেচনা করা হতে পারে। এছাড়া, সিএনজির মূল্যবৃদ্ধি না হওয়ায় সিএনজিচালিত কোনো যানবাহনে বাড়তি ভাড়া আদায় করা সম্পূর্ণ বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে। এ ধরনের অন্যায় শিডিউল বা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলে সরকার সাথে সাথে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।
























