মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি ঘোষণার পরও দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। লেবাননের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, বুধবার ইসরাইলি যুদ্ধবিমান দেশটির নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এলাকা এবং এর পার্শ্ববর্তী কফর তেবনিত শহরের পূর্বাঞ্চলীয় উপকণ্ঠে তীব্র হামলা চালায়। এ ছাড়া দক্ষিণের জাহরানি অঞ্চলের আনসারিয়েহ শহরে একটি ড্রোন হামলাও চালানো হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি’র বরাত দিয়ে জানা গেছে, সোমবার শান্তি চুক্তি ঘোষণার পর থেকে লেবাননে সামগ্রিক সহিংসতা কিছুটা কমলেও, এই চুক্তির পরবর্তী ইসরাইলি হামলায় দক্ষিণ লেবাননে অন্তত পাঁচ জন নিহত হয়েছেন।
সহিংসতার তীব্রতা কিছুটা হ্রাস পাওয়ায় দক্ষিণ লেবাননের বাস্তুচ্যুত কিছু বাসিন্দা নিজ গ্রাম ও শহরে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে লেবাননের সেনাবাহিনী তীব্র নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে স্থানীয়দের এখনই উপদ্রুত এলাকায় ফিরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। উল্লেখ্য, গত মার্চের শুরুতে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরাইলের দিকে রকেট নিক্ষেপ করলে লেবানন এই মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের মুখোমুখি হয়, যার জবাবে ইসরাইল লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরাইলি হামলায় দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৮২৬ জনে পৌঁছেছে এবং উদ্ধারকর্মীরা এখনো ধ্বংসস্তূপ থেকে লাশ উদ্ধার করে যাচ্ছেন।
এদিকে সংঘাতের স্থায়ী সমাধান নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ভিন্ন সুর দেখা গেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি মঙ্গলবার স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইসরাইলি বাহিনী লেবাননসহ দখলকৃত অঞ্চল থেকে সম্পূর্ণভাবে সরে না গেলে এই সংঘাতের পূর্ণ সমাধান সম্ভব নয়। এর বিপরীতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইসরাইলি বাহিনী তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী লেবাননে অভিযান চালিয়ে যাবে এবং সেখানে মোতায়েন থাকবে। তবে হিজবুল্লাহ গত মঙ্গলবারের পর থেকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুতে নতুন কোনো হামলার দাবি করেনি। সংগঠনটির নেতা নাইম কাসেম, যিনি বুধবার টেলিভিশনে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে, মঙ্গলবার ইরানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন যে ইসরাইলের সামরিক অভিযান ‘তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে’ ইরান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।


Md.Rasel Khan 













