ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় মেট্রোরেল ইতোমধ্যে এক অভাবনীয় বিপ্লব এনেছে। তবে পুরান ঢাকা, ধানমন্ডি, জিঞ্জিরা বা মোহাম্মদপুরের মতো সংকীর্ণ ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সাধারণ মেট্রো লাইন সম্প্রসারণ করা কারিগরি ও অর্থনৈতিকভাবে বেশ কঠিন। এই নেটওয়ার্ককে সম্পূর্ণ করতে এবং মেট্রোরেলের পরিপূরক বা ‘ফিডার সার্ভিস’ হিসেবে নিয়ে আসা হচ্ছে মনোরেল। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) প্রায় ৭৯.৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ৫টি মনোরেল করিডোর প্রস্তাব করেছে, যা সরাসরি মেট্রোরেলের আটটি প্রধান লাইনের সাথে যুক্ত হবে। প্রস্তাবিত রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমানবন্দর থেকে বসুন্ধরা, বিমানবন্দর থেকে সাভার, মোহাম্মদপুর থেকে পোস্তগোলা, মধ্য বাড্ডা থেকে ভুলতা এবং রামপুরা থেকে ডেমরা। এই রুটগুলো মূলত মেট্রো লাইন-১, ৩, ৫, ৬, ৭ ও ৮-এর সাথে ইন্টারচেঞ্জ স্টেশন বা পরিবর্তন কেন্দ্র তৈরি করে যাতায়াত ব্যবস্থা সচল রাখবে।
মেট্রোরেল ও মনোরেলের এই নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিতে ত্রিবিধ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রথমত, ইন্টারচেঞ্জ স্টেশনগুলোর অবকাঠামো ২ থেকে ৩ তলা বিশিষ্ট খাড়াভাবে নির্মিত হবে, যেখানে লিফট, সিঁড়ি এবং এস্কেলেটর থাকবে। ওয়াকওয়ে বা ওভারব্রিজের মাধ্যমে উভয় স্টেশন যুক্ত করায় যাত্রীরা প্ল্যাটফর্ম থেকে নেমেই কয়েক গজের মধ্যে অন্য ট্রেনে উঠতে পারবেন। দ্বিতীয়ত, থাকবে একীভূত বা ইন্টিগ্রেটেড টিকিটিং সিস্টেম। এতে একই পাস বা একক টিকিটে যাত্রীরা মেট্রো থেকে নেমে কোনো বিরতি ছাড়াই মনোরেলে চড়তে পারবেন। তৃতীয়ত, থাকবে সময়সূচীর নিখুঁত সমন্বয়। ৪ থেকে ৬টি বগির সমন্বয়ে তৈরি মনোরেলগুলো পিক আওয়ার বা ব্যস্ত সময়ে ৩ থেকে ৫ মিনিট পর পর চলাচল করবে। এতে মেট্রো থেকে নামার সাথে সাথেই মিলবে মনোরেল। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় জমি অধিগ্রহণ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের মতো চ্যালেঞ্জ থাকলেও, জরুরি ব্যাকআপ ব্যবস্থা ও বহুতল স্টেশনের মাধ্যমে তা সমাধানের পরিকল্পনা রয়েছে, যা ঢাকাবাসীর যাতায়াতকে সম্পূর্ণ জ্যামমুক্ত ও গতিময় করবে।





















