০৮:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিলাম ও খালি কনটেইনারের জটে স্তব্ধ চট্টগ্রাম বন্দর

  • আপডেট সময় : ০১:৪৮:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • 159

নিলাম ও খালি কনটেইনারের জটে স্তব্ধ চট্টগ্রাম বন্দর

চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় ১০ হাজার নিলামযোগ্য এবং আরও ৩ হাজার খালি কনটেইনার জমা হওয়ায় বন্দরের স্বাভাবিক পণ্য হ্যান্ডলিং কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইয়ার্ড ও শেডজুড়ে জমে থাকা এসব কনটেইনারের কারণে বন্দরের ১৮ থেকে ২০ শতাংশ জায়গা এখন পুরোপুরি দখল হয়ে রয়েছে। কাস্টমসের জটিলতা, ধীরগতির নিলাম প্রক্রিয়া, অযাচিত হস্তক্ষেপ, আইনি বাধা এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজির কারণেই মূলত তৈরি হয়েছে এই জট। দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন করা এই বন্দরটিতে সময়মতো নিলাম না হওয়ায় সরকার একদিকে হারাচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব, অন্যদিকে কমছে বন্দরের সার্বিক উৎপাদনশীলতা।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে আমদানি করা এসব নিলামযোগ্য কনটেইনারে রয়েছে ফলমূল, গাড়ি, কেমিক্যাল, সিরামিক, ইলেকট্রনিক্স ও বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যসহ প্রায় ২ লাখ টন পণ্য, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা। মূলতঃ মিথ্যা ঘোষণা ও জালিয়াতির কারণে কাস্টমস অনেক চালান আটকে দিয়েছে, আবার অনেক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম পড়ে যাওয়ায় আমদানিকারকরা নিজ থেকেই পণ্য খালাস করেননি। একই সঙ্গে প্রতিদিন আমদানি পণ্য খালাসের পর কাস্টমস বন্ডেড এরিয়ায় গড়ে ৩ হাজার খালি কনটেইনার জমে থাকছে, যা পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল করে তুলেছে।

এই তীব্র অচলাবস্থা নিরসনে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক) কাস্টমস বন্ডেড এরিয়ার বাইরে খালি কনটেইনার রাখার অনুমতি চেয়ে এবং নিলাম প্রক্রিয়া সহজ করার তাগিদ দিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মো. আমিরুল হকও অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে চিঠি পাঠিয়েছেন। চবকের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের ভেতরের ওপর থেকে চাপ কমাতে চেয়ারম্যানের অনুমোদনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং খুব দ্রুতই সরকারের কাছ থেকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যেই কিছু দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থ ও নৌ মন্ত্রণালয় এবং এনবিআরের নির্দেশনায় নিলাম আইন সংশোধনের উদ্যোগের পাশাপাশি দ্রুত তালিকা তৈরির জন্য কাস্টমসে নতুন ৫০ জন জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিশ্বমানের বন্দর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বন্ডেড এরিয়ার বাইরে খালি কনটেইনার রাখার যে আন্তর্জাতিক নজির রয়েছে, তা প্রয়োগ করা গেলে বন্দরের কার্যক্ষমতা দ্রুত আগের রূপ ফিরে পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

31 October 2026

নিলাম ও খালি কনটেইনারের জটে স্তব্ধ চট্টগ্রাম বন্দর

Spread the love
জনপ্রিয়
গ্রামীণফোনের ৯ মাসের মুনাফায় পতন, তৃতীয় প্রান্তিকে আয় অপরিবর্তিত
গ্রামীণফোনের ৯ মাসের মুনাফায় পতন, তৃতীয় প্রান্তিকে আয় অপরিবর্তিত

এইচএসসি: সেনাবাহিনী পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পাসের হার ৯৬.৫১ শতাংশ

নিলাম ও খালি কনটেইনারের জটে স্তব্ধ চট্টগ্রাম বন্দর

আপডেট সময় : ০১:৪৮:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় ১০ হাজার নিলামযোগ্য এবং আরও ৩ হাজার খালি কনটেইনার জমা হওয়ায় বন্দরের স্বাভাবিক পণ্য হ্যান্ডলিং কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইয়ার্ড ও শেডজুড়ে জমে থাকা এসব কনটেইনারের কারণে বন্দরের ১৮ থেকে ২০ শতাংশ জায়গা এখন পুরোপুরি দখল হয়ে রয়েছে। কাস্টমসের জটিলতা, ধীরগতির নিলাম প্রক্রিয়া, অযাচিত হস্তক্ষেপ, আইনি বাধা এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজির কারণেই মূলত তৈরি হয়েছে এই জট। দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন করা এই বন্দরটিতে সময়মতো নিলাম না হওয়ায় সরকার একদিকে হারাচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব, অন্যদিকে কমছে বন্দরের সার্বিক উৎপাদনশীলতা।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে আমদানি করা এসব নিলামযোগ্য কনটেইনারে রয়েছে ফলমূল, গাড়ি, কেমিক্যাল, সিরামিক, ইলেকট্রনিক্স ও বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যসহ প্রায় ২ লাখ টন পণ্য, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা। মূলতঃ মিথ্যা ঘোষণা ও জালিয়াতির কারণে কাস্টমস অনেক চালান আটকে দিয়েছে, আবার অনেক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম পড়ে যাওয়ায় আমদানিকারকরা নিজ থেকেই পণ্য খালাস করেননি। একই সঙ্গে প্রতিদিন আমদানি পণ্য খালাসের পর কাস্টমস বন্ডেড এরিয়ায় গড়ে ৩ হাজার খালি কনটেইনার জমে থাকছে, যা পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল করে তুলেছে।

এই তীব্র অচলাবস্থা নিরসনে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক) কাস্টমস বন্ডেড এরিয়ার বাইরে খালি কনটেইনার রাখার অনুমতি চেয়ে এবং নিলাম প্রক্রিয়া সহজ করার তাগিদ দিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মো. আমিরুল হকও অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে চিঠি পাঠিয়েছেন। চবকের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের ভেতরের ওপর থেকে চাপ কমাতে চেয়ারম্যানের অনুমোদনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং খুব দ্রুতই সরকারের কাছ থেকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যেই কিছু দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থ ও নৌ মন্ত্রণালয় এবং এনবিআরের নির্দেশনায় নিলাম আইন সংশোধনের উদ্যোগের পাশাপাশি দ্রুত তালিকা তৈরির জন্য কাস্টমসে নতুন ৫০ জন জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিশ্বমানের বন্দর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বন্ডেড এরিয়ার বাইরে খালি কনটেইনার রাখার যে আন্তর্জাতিক নজির রয়েছে, তা প্রয়োগ করা গেলে বন্দরের কার্যক্ষমতা দ্রুত আগের রূপ ফিরে পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

31 October 2026

নিলাম ও খালি কনটেইনারের জটে স্তব্ধ চট্টগ্রাম বন্দর

Spread the love