গ্যাস সংকট, বিদ্যুতের ‘ভূতুড়ে বিল’, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে রাজধানীর পল্টন জিরো পয়েন্ট এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে সমবেত হয়ে সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করে স্লোগান দেন। এতে পল্টন এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। কর্মসূচির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল জামায়াতের নারী কর্মীদের হাতে থাকা গ্যাসের চুলা ও রান্নার পাতিল।
অবস্থান কর্মসূচি থেকে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিরসনে ১০ দফা জনদাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—গত তিন মাসে আদায় করা ‘ভূতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে গণশুনানির আয়োজন, দায়ীদের শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া; প্রিপেইড ও পোস্টপেইড মিটারে ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া ও অন্যান্য অযৌক্তিক চার্জ বাতিলসহ অতিরিক্ত অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত প্রদান এবং বিলিং ব্যবস্থায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
জোটের পক্ষ থেকে আরও দাবি জানানো হয়—গ্যাস সরবরাহ না থাকলে বিল আদায় বন্ধ করা, গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি ও আমদানিনির্ভরতা কমাতে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় জ্বালানি নীতি প্রণয়ন, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান এবং কূপ খননের উদ্যোগ গ্রহণ করা। পাশাপাশি মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালের ব্যর্থতার তদন্ত, ক্ষয়ক্ষতির হিসাব প্রকাশ, পুনরায় চালুর সময়সূচি ঘোষণা এবং বিকল্প জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতের কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
১০ দফা দাবির মধ্যে আরও উল্লেখ করা হয়—গ্যাসের সিস্টেম লস, চুরি ও অপচয় বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, স্মার্ট মিটারিং চালু, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং পুরোনো পাইপলাইন সংস্কারের মাধ্যমে বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্র থেকে সরবরাহ বৃদ্ধি করা। এছাড়া শিল্প, ব্যবসা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান রক্ষা, এলপিজি ও সিএনজির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং জ্বালানি খাতের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
উক্ত অবস্থান কর্মসূচিতে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ, জাগপার সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।





















