কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে জমি-জমা সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে মুতাই শেখ (৫০) ও তার স্ত্রী কমেলা খাতুন (৪৫)কে বাড়িতে ঢুকে এলোপাতাড়ি মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় হাসুয়া, বাটাম ও বাঁশ দিয়ে তাদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী মুতাই শেখের অভিযোগ, দুলাল শেখের নেতৃত্বে ৭-৮ জন তার বাড়িতে এসে প্রথমে তাকে বকাবকি করতে থাকেন। প্রতিবাদ করলে তারা হাসুয়া, বাটাম ও বাঁশ নিয়ে তার ওপর হামলা চালান। এ সময় তার স্ত্রী কমেলা খাতুনকেও মারধর করা হয়। বাড়ির জায়গায় থাকা মেহগনি গাছের ডাল তাদের চালের ওপর ছায়া পড়াকে কেন্দ্র করেই আমাকে মারধর করা হয়েছে।
অভিযোগে হামলায় জড়িতদের মধ্যে রয়েছেন—দুলাল শেখ (৪০), পিতা আলাউদ্দিন শেখ; জয় শেখ (১৮), পিতা রফিকুল ইসলাম; রফিকুল শেখ (৪০), পিতা চন্দ শেখ; আলিফ (১৬), পিতা মঞ্জু শেখ; মঞ্জু শেখ (৪০), পিতা চন্দ শেখ; হেলাল শেখ (৩৫), পিতা আলাউদ্দিন শেখ; রুমা খাতুন (৪০), স্বামী রফিকুল শেখ এবং মিসমা (৩৫), স্বামী হেলাল শেখ।
আহত মুতাই শেখ বলেন, মাঠ থেকে বাড়িতে ফেরার পর দুলালসহ ৭-৮ জন আমার বাড়িতে এসে বকাবকি করতে থাকে। আমি নিষেধ করলেও তারা হাসুয়া, বাটাম ও বাঁশ নিয়ে আমাকে মারধর করে। আমার স্ত্রীকেও তারা মারধর করে। পরে স্থানীয়রা আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে।
আহত কমেলা খাতুন বলেন, বাড়ির জমি নিয়ে আগে থেকেই ঝামেলা রয়েছে। মঙ্গলবার কোনো গণ্ডগোল ছাড়াই তারা বাড়িতে এসে আমাদের মারধর করে। আমার পিঠ ও কোমরে আঘাত করা হয়েছে। চুল ধরে টানাটানি করে জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলে। একপর্যায়ে আমি মাটিতে পড়ে অজ্ঞান হয়ে যাই।
এছাড়াও পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ওই বাড়িতে থানা দুইজন গৃহবধুর শ্লীলতাহানি চেষ্টা চালায়। সেসময় তাদের শশুড় এগিয়ে আসলে তথন এলোপাতাড়ি মারপিট শুরু করে। এছাড়াও বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগও রয়েছে দুলাল শেখ, জয় শেখ গংদের বিরুদ্ধে।
তবে এ ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত দুলাল শেখ বলেন, জমি-জায়গা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ রয়েছে। তার দাবি, পূর্বের একটি ঘটনায় তাদের একজনকে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগে মুতাই পক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল এবং তারা জেলেও ছিলেন। মঙ্গলবার তাদের লোকজনকে বকাবকি করার পর মারধরের ঘটনা ঘটে বলে জানান তিনি।
অভিযুক্ত মঞ্জু শেখ বলেন, জমি-জায়গা নিয়ে পূর্বে তাদের ভাস্তিকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় মামলা হয়েছিল। মঙ্গলবার তারা তাদের লোকজনকে মারার জন্য এলে পাল্টা মারধরের ঘটনা ঘটে। এর আগে জমি নিয়ে সালিশ হলেও মুতাই পক্ষ সালিশের সিদ্ধান্ত মানেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে মারধরের ঘটনায় আহত স্বামী-স্ত্রী বর্তমানে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জমি-জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।























