১২:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি সংঘাত: মার্কিন হামলায় উত্তপ্ত ইরান

  • আপডেট সময় : ০৫:০০:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • 39

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি সংঘাত: মার্কিন হামলায় উত্তপ্ত ইরান, হরমুজে কড়া জবাব

ইরানে টানা দশম রাতের মতো হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের এই জোরালো অভিযানের মধ্যেই ইরানের সিরিক, বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ ও ইসফাহানসহ বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মূলত হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর জন্য ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতেই তাদের এই অভিযান। এর আগে গত সোমবার দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের সিরিক শহরের কাছে বেশ কিছু বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় গণমাধ্যম ও আনাদোলু এজেন্সি। ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, সমুদ্রের দিক থেকেও বিস্ফোরণের বিকট শব্দ ভেসে আসে, তবে এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহত হয়েছে সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছু জানানো হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের এই টানা আক্রমণের জবাবে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সংস্থাটি দাবি করেছে, তারা কুয়েতের ‘ক্যাম্প আরিফজান’-এ মোতায়েন থাকা মার্কিন হিমার্স (HIMARS) ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা লক্ষ্য করে ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। জর্ডানে একটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই সেনা নিহত ও একজন নিখোঁজ হওয়ার পর এবং উত্তর ইরাকে আরও এক সেনাসদস্যের প্রাণহানির ঘটনার জেরে দুই দেশের মধ্যে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ রূপ নেয়। এর পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানি হামলার জবাব ‘বহুগুণ বেশি’ শক্তি দিয়ে দেওয়া হবে এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও কঠোর হবে।

এদিকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় নৌপথ এখন চরম ঝুঁকিতে। গত সোমবার হরমুজ প্রণালিতে গ্রিসের মালিকানাধীন দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটে। এর পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) নিশ্চিত করেছে যে ওমানের বন্দরনগরী লিমাহ উপকূলের কাছেও আরেকটি ট্যাংকার আক্রমণের শিকার হয়েছে। একই সময়ে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নতুন করে অবরোধ ঘোষণা করায় মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। হুথিদের এই পদক্ষেপে প্রায় চার বছর ধরে তুলনামূলক শান্ত থাকা ইয়েমেন সংঘাতের আগুন নতুন করে জ্বলে ওঠার চরম আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা পুরো লোহিত সাগরের বাণিজ্যিক নৌপথকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

13 September 2026

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি সংঘাত: মার্কিন হামলায় উত্তপ্ত ইরান

জনপ্রিয়

অতিরিক্ত ৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগ আনবে সরকার ও অ্যামচ্যাম: বাণিজ্যমন্ত্রী

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি সংঘাত: মার্কিন হামলায় উত্তপ্ত ইরান

আপডেট সময় : ০৫:০০:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

ইরানে টানা দশম রাতের মতো হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের এই জোরালো অভিযানের মধ্যেই ইরানের সিরিক, বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ ও ইসফাহানসহ বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মূলত হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর জন্য ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতেই তাদের এই অভিযান। এর আগে গত সোমবার দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের সিরিক শহরের কাছে বেশ কিছু বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় গণমাধ্যম ও আনাদোলু এজেন্সি। ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, সমুদ্রের দিক থেকেও বিস্ফোরণের বিকট শব্দ ভেসে আসে, তবে এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহত হয়েছে সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছু জানানো হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের এই টানা আক্রমণের জবাবে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সংস্থাটি দাবি করেছে, তারা কুয়েতের ‘ক্যাম্প আরিফজান’-এ মোতায়েন থাকা মার্কিন হিমার্স (HIMARS) ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা লক্ষ্য করে ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। জর্ডানে একটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই সেনা নিহত ও একজন নিখোঁজ হওয়ার পর এবং উত্তর ইরাকে আরও এক সেনাসদস্যের প্রাণহানির ঘটনার জেরে দুই দেশের মধ্যে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ রূপ নেয়। এর পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানি হামলার জবাব ‘বহুগুণ বেশি’ শক্তি দিয়ে দেওয়া হবে এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও কঠোর হবে।

এদিকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় নৌপথ এখন চরম ঝুঁকিতে। গত সোমবার হরমুজ প্রণালিতে গ্রিসের মালিকানাধীন দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটে। এর পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) নিশ্চিত করেছে যে ওমানের বন্দরনগরী লিমাহ উপকূলের কাছেও আরেকটি ট্যাংকার আক্রমণের শিকার হয়েছে। একই সময়ে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নতুন করে অবরোধ ঘোষণা করায় মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। হুথিদের এই পদক্ষেপে প্রায় চার বছর ধরে তুলনামূলক শান্ত থাকা ইয়েমেন সংঘাতের আগুন নতুন করে জ্বলে ওঠার চরম আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা পুরো লোহিত সাগরের বাণিজ্যিক নৌপথকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

13 September 2026

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি সংঘাত: মার্কিন হামলায় উত্তপ্ত ইরান