০২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইইউতে পোশাক রফতানি ৬৪০ মিলিয়ন ডলার কমেছে, মে মাসে মিলেছে আংশিক স্বস্তি

  • আপডেট সময় : ০২:০০:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
  • 47

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানিতে ধীরগতি দেখা গেছে। মে মাসে রফতানিতে উল্লেখযোগ্য পুনরুদ্ধার হলেও সামগ্রিক হিসাবে জুলাই-মে সময়ে ইইউতে পোশাক রফতানি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৪০ মিলিয়ন ডলার কমে ১৭ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। ফলে ইউরোপের বাজারে চাহিদা আগের তুলনায় দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের ১ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার থেকে মে মাসে রফতানি বেড়ে ১ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা মাসভিত্তিক প্রায় ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি। জানুয়ারির পর এটি চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাসিক আয় হলেও বছরের বেশিরভাগ সময়ই রফতানি প্রত্যাশার নিচে ছিল।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজার হিসেবে জার্মানি শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। মে মাসে দেশটিতে রফতানি বেড়ে ৪০৯ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও তা এখনো জুলাইয়ের সর্বোচ্চ অবস্থানের নিচে রয়েছে। স্পেন দ্বিতীয় বৃহত্তম গন্তব্য হিসেবে ৩০০ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলারের পোশাক আমদানি করেছে। এছাড়া ফ্রান্স, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও পোল্যান্ডসহ অন্যান্য বড় বাজারেও মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। নর্ডিক অঞ্চলের মধ্যে সুইডেন ও ডেনমার্কে আমদানি বেড়েছে।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর পরিচালক আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, অর্থবছরের শুরুর দিকে রফতানিতে বড় ধরনের পতন থাকলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ধীরে ধীরে উন্নতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। বাজারে চাহিদা স্থিতিশীল থাকলে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকতে পারে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তবে শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, বৈশ্বিক সংঘাত, দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি, ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়তি প্রতিযোগিতার কারণে পোশাক খাত এখনো চাপের মধ্যে রয়েছে। বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি রকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, গত ১০ মাসের বেশিরভাগ সময়ই খাতটি নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির মুখে ছিল এবং সাম্প্রতিক উন্নতি সত্ত্বেও সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

মোস্তফা গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক তাইমুর রহমানের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়ে যাওয়ায় অনেক সরবরাহকারী ইউরোপমুখী হওয়ায় প্রতিযোগিতা তীব্র হয়েছে এবং দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি কাস্টমস ও বন্ডেড ওয়্যারহাউস-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাঠামোগত জটিলতাও রফতানিকারকদের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

  1. মে মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের মোট রফতানি ছিল ১ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার, যার প্রায় ৯২ শতাংশই এসেছে পোশাক খাত থেকে। ফলে পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণের উদ্যোগ চললেও ইউরোপীয় চাহিদার ওপর বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের উচ্চ নির্ভরতা এখনো স্পষ্ট। শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, মে মাসের ইতিবাচক প্রবণতা কিছুটা স্বস্তি দিলেও রফতানি খাত পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়িয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় এখনো আসেনি।

1 October 2026

ইইউতে পোশাক রফতানি ৬৪০ মিলিয়ন ডলার কমেছে, মে মাসে মিলেছে আংশিক স্বস্তি

Spread the love
জনপ্রিয়

হামলা ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত রাড্ডা মেডিকেল সেন্টার পরিদর্শনে জামায়াত নেতৃবৃন্দ

ইইউতে পোশাক রফতানি ৬৪০ মিলিয়ন ডলার কমেছে, মে মাসে মিলেছে আংশিক স্বস্তি

আপডেট সময় : ০২:০০:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানিতে ধীরগতি দেখা গেছে। মে মাসে রফতানিতে উল্লেখযোগ্য পুনরুদ্ধার হলেও সামগ্রিক হিসাবে জুলাই-মে সময়ে ইইউতে পোশাক রফতানি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৪০ মিলিয়ন ডলার কমে ১৭ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। ফলে ইউরোপের বাজারে চাহিদা আগের তুলনায় দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের ১ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার থেকে মে মাসে রফতানি বেড়ে ১ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা মাসভিত্তিক প্রায় ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি। জানুয়ারির পর এটি চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাসিক আয় হলেও বছরের বেশিরভাগ সময়ই রফতানি প্রত্যাশার নিচে ছিল।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজার হিসেবে জার্মানি শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। মে মাসে দেশটিতে রফতানি বেড়ে ৪০৯ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও তা এখনো জুলাইয়ের সর্বোচ্চ অবস্থানের নিচে রয়েছে। স্পেন দ্বিতীয় বৃহত্তম গন্তব্য হিসেবে ৩০০ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলারের পোশাক আমদানি করেছে। এছাড়া ফ্রান্স, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও পোল্যান্ডসহ অন্যান্য বড় বাজারেও মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। নর্ডিক অঞ্চলের মধ্যে সুইডেন ও ডেনমার্কে আমদানি বেড়েছে।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর পরিচালক আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, অর্থবছরের শুরুর দিকে রফতানিতে বড় ধরনের পতন থাকলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ধীরে ধীরে উন্নতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। বাজারে চাহিদা স্থিতিশীল থাকলে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকতে পারে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তবে শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, বৈশ্বিক সংঘাত, দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি, ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়তি প্রতিযোগিতার কারণে পোশাক খাত এখনো চাপের মধ্যে রয়েছে। বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি রকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, গত ১০ মাসের বেশিরভাগ সময়ই খাতটি নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির মুখে ছিল এবং সাম্প্রতিক উন্নতি সত্ত্বেও সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

মোস্তফা গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক তাইমুর রহমানের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়ে যাওয়ায় অনেক সরবরাহকারী ইউরোপমুখী হওয়ায় প্রতিযোগিতা তীব্র হয়েছে এবং দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি কাস্টমস ও বন্ডেড ওয়্যারহাউস-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাঠামোগত জটিলতাও রফতানিকারকদের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

  1. মে মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের মোট রফতানি ছিল ১ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার, যার প্রায় ৯২ শতাংশই এসেছে পোশাক খাত থেকে। ফলে পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণের উদ্যোগ চললেও ইউরোপীয় চাহিদার ওপর বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের উচ্চ নির্ভরতা এখনো স্পষ্ট। শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, মে মাসের ইতিবাচক প্রবণতা কিছুটা স্বস্তি দিলেও রফতানি খাত পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়িয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় এখনো আসেনি।

1 October 2026

ইইউতে পোশাক রফতানি ৬৪০ মিলিয়ন ডলার কমেছে, মে মাসে মিলেছে আংশিক স্বস্তি

Spread the love