জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শীর্ষ নেতৃত্বে এক বড় পরিবর্তন এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিসিএস কর ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের অত্যন্ত দক্ষ, সৎ ও দূরদর্শী কর্মকর্তা আহসান হাবিব। তিনি বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। সোমবার (২৯ জুন) এই বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
আহসান হাবিবের পুরো জীবনই মেধার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। মেধার এই ধারাবাহিকতা বজায় ছিল তাঁর পেশাগত জীবনেও। সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনি ১৫তম বিসিএস (ট্যাক্সেশন) ক্যাডারে নিজের ব্যাচে প্রথম স্থান অধিকার করেন। মেধা ও যোগ্যতার এই স্বাক্ষর তিনি তাঁর দীর্ঘ চাকরি জীবনের প্রতিটি পদে বজায় রেখেছেন।
এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলের (সিআইসি) মহাপরিচালক থাকাকালে আহসান হাবিবের সাহসিকতা ও কর্মদক্ষতা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচিত হয়। দেশের বড় বড় কর ফাঁকি, কোটি কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম এবং অর্থ পাচার বিরোধী জটিল সব অনুসন্ধানে তিনি সম্মুখভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় সাফল্য ছিল আন্তর্জাতিক অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম ‘উল্কাগেমস’ থেকে সরকারের বিপুল পরিমাণ বকেয়া কর আদায় করা। এই আলোচিত ও দুঃসাহসিক অভিযানটি কর প্রশাসনে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি এনবিআরের কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা সদস্য হিসেবে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া কর অঞ্চল-১৫-এর কমিশনার হিসেবেও তাঁর কাজের সুনাম রয়েছে। তিনি শুধু একজন দক্ষ আমলাই নন, সহকর্মীদের কাছেও অত্যন্ত জনপ্রিয়। বর্তমানে তিনি বিসিএস ট্যাক্সেশন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন চেয়ারম্যানের সামনে বড় কিছু চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। অভ্যন্তরীণ রাজস্ব ঘাটতি পূরণ, কর জাল (Tax Net) সম্প্রসারণ, সম্পূর্ণ কর ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ অটোমেশন বা ডিজিটালাইজড করা এবং কর ফাঁকি রোধ করাই হবে তাঁর প্রধান কাজ। একই সঙ্গে সাধারণ করদাতাদের হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা এবং কর প্রশাসনে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনাও তাঁর জন্য বড় পরীক্ষা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন পেশাদার কর ক্যাডার কর্মকর্তা হিসেবে আহসান হাবিব রাজস্ব প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে থাকা সমস্যাগুলো খুব ভালো করেই জানেন। ফলে তাঁর এই নিয়োগ এনবিআরের কর্মক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দেবে। তাঁর সততা, সাহসিকতা এবং দূরদর্শী নেতৃত্ব দেশের রাজস্ব খাতের সংস্কার ও অর্থনৈতিক ভিতকে আরও মজবুত করতে এক যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলেই সবার প্রত্যাশা।
























