০৯:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারি সার্ভারের নাগরিক তথ্য অনলাইনে বিক্রি,গ্রেফতার ৫

মোবাইলের লোকেশন, কল ডিটেইলস, সিমের মালিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে বিক্রির অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন– নওগাঁর জেলার আবদুস সালাম সরকার, গাজীপুরের সুব্রত চন্দ্র পাল, নোয়াখালীর ইসমাইল হোসেন সোহাগ, গোপালগঞ্জের এস এম নাফি এবং ঢাকার কেরানীগঞ্জের মেহেদী হাসান।

র‌্যাবের দাবি, অনলাইনে বিক্রি করা এসব তথ্য সরকারি সার্ভার থেকে সংগ্রহ করা হতো। তবে সরকারি সার্ভার থেকে কারা এসব তথ্য সরবরাহ করতেন, তা তদন্তের স্বার্থে এখনই প্রকাশ করতে চায়নি র‌্যাব।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে র‌্যাব-২-এর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, অনলাইনে নাগরিকদের তথ্য বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের তালিকা করা হচ্ছে। ক্রমান্বয়ে সবাইকে গ্রেফতার করা হবে। তারা বেশিদিন এই ব্যবসা করতে পারবেন না।

র‌্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত আবদুস সালাম সরকার গত এপ্রিল মাসে ‘ই সেবা ২৪ ডট টপ’ নামে একটি এনক্রিপ্টেড ওয়েবসাইট তৈরি করেন। সেখানে অর্ডার পাওয়ার পর নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য সরবরাহ করা হতো।

র‌্যাবের ভাষ্য, সালাম তার সহযোগীদের নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপে মোবাইল সিমের সর্বশেষ কল লোকেশন, রেডিও লোকেশন, আইএমইআই সার্চ তথ্য, কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর), সিমের মালিকানার তথ্য, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নিবন্ধন ও লেনদেনের বিবরণ, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং জন্মনিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য বিক্রি করতেন।

র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান বলেন, আবদুস সালাম ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে অস্থায়ী ভিত্তিতে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত ছিলেন।

গ্রেফতার অপর চারজন সুব্রত, ইসমাইল, নাফি ও মেহেদী ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অর্ডার নিয়ে নাগরিকদের তথ্য বিক্রি করতেন বলে জানিয়েছে র‌্যাব। অর্থ লেনদেনের জন্য তারা বিভিন্ন নামে-বেনামে সিম ও মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব ব্যবহার করতেন।

নয়মুল হাসান বলেন, ‘তারা গ্রাহকদের টাকার বিনিময়ে সঠিক তথ্যই সরবরাহ করছিল। যেহেতু সরকারি সার্ভার ব্যবহার করে তথ্যগুলো সংগ্রহ করত তারা।’

সরকারি সার্ভারের তথ্য কারা অর্থের বিনিময়ে সরবরাহ করতেন? এ বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, অভিযান ও তদন্ত চলমান থাকায় এখনই তাদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।

এই তথ্যের গ্রাহক কারা, তা এখনো সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, কোনো গাড়ি হারানো বা মোবাইল ফোন চুরির মতো ঘটনায় শেষ অবস্থান বা কল ডিটেইলসের তথ্য পেতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। মামলা ছাড়া সিডিআর নেওয়ার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যে তথ্য পায়, সেগুলো সরকারি কাজে ব্যবহার করা হয়। সাধারণ মানুষ যে একই ধরনের তথ্য পাচ্ছেন, এর সঙ্গে কেউ না কেউ জড়িত। কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তবে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যের যোগসাজশের তথ্য পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।

13 September 2026

সরকারি সার্ভারের নাগরিক তথ্য অনলাইনে বিক্রি,গ্রেফতার ৫

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

সরকারি সার্ভারের নাগরিক তথ্য অনলাইনে বিক্রি,গ্রেফতার ৫

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

সরকারি সার্ভারের নাগরিক তথ্য অনলাইনে বিক্রি,গ্রেফতার ৫

আপডেট সময় : ০৭:৩৪:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মোবাইলের লোকেশন, কল ডিটেইলস, সিমের মালিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে বিক্রির অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন– নওগাঁর জেলার আবদুস সালাম সরকার, গাজীপুরের সুব্রত চন্দ্র পাল, নোয়াখালীর ইসমাইল হোসেন সোহাগ, গোপালগঞ্জের এস এম নাফি এবং ঢাকার কেরানীগঞ্জের মেহেদী হাসান।

র‌্যাবের দাবি, অনলাইনে বিক্রি করা এসব তথ্য সরকারি সার্ভার থেকে সংগ্রহ করা হতো। তবে সরকারি সার্ভার থেকে কারা এসব তথ্য সরবরাহ করতেন, তা তদন্তের স্বার্থে এখনই প্রকাশ করতে চায়নি র‌্যাব।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে র‌্যাব-২-এর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, অনলাইনে নাগরিকদের তথ্য বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের তালিকা করা হচ্ছে। ক্রমান্বয়ে সবাইকে গ্রেফতার করা হবে। তারা বেশিদিন এই ব্যবসা করতে পারবেন না।

র‌্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত আবদুস সালাম সরকার গত এপ্রিল মাসে ‘ই সেবা ২৪ ডট টপ’ নামে একটি এনক্রিপ্টেড ওয়েবসাইট তৈরি করেন। সেখানে অর্ডার পাওয়ার পর নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য সরবরাহ করা হতো।

র‌্যাবের ভাষ্য, সালাম তার সহযোগীদের নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপে মোবাইল সিমের সর্বশেষ কল লোকেশন, রেডিও লোকেশন, আইএমইআই সার্চ তথ্য, কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর), সিমের মালিকানার তথ্য, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নিবন্ধন ও লেনদেনের বিবরণ, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং জন্মনিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য বিক্রি করতেন।

র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান বলেন, আবদুস সালাম ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে অস্থায়ী ভিত্তিতে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত ছিলেন।

গ্রেফতার অপর চারজন সুব্রত, ইসমাইল, নাফি ও মেহেদী ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অর্ডার নিয়ে নাগরিকদের তথ্য বিক্রি করতেন বলে জানিয়েছে র‌্যাব। অর্থ লেনদেনের জন্য তারা বিভিন্ন নামে-বেনামে সিম ও মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব ব্যবহার করতেন।

নয়মুল হাসান বলেন, ‘তারা গ্রাহকদের টাকার বিনিময়ে সঠিক তথ্যই সরবরাহ করছিল। যেহেতু সরকারি সার্ভার ব্যবহার করে তথ্যগুলো সংগ্রহ করত তারা।’

সরকারি সার্ভারের তথ্য কারা অর্থের বিনিময়ে সরবরাহ করতেন? এ বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, অভিযান ও তদন্ত চলমান থাকায় এখনই তাদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।

এই তথ্যের গ্রাহক কারা, তা এখনো সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, কোনো গাড়ি হারানো বা মোবাইল ফোন চুরির মতো ঘটনায় শেষ অবস্থান বা কল ডিটেইলসের তথ্য পেতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। মামলা ছাড়া সিডিআর নেওয়ার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যে তথ্য পায়, সেগুলো সরকারি কাজে ব্যবহার করা হয়। সাধারণ মানুষ যে একই ধরনের তথ্য পাচ্ছেন, এর সঙ্গে কেউ না কেউ জড়িত। কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তবে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যের যোগসাজশের তথ্য পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।

13 September 2026

সরকারি সার্ভারের নাগরিক তথ্য অনলাইনে বিক্রি,গ্রেফতার ৫