মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি চায়ের দোকানে পানি খাওয়ার গ্লাসকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘর্ষে কাচের গ্লাসের আঘাতে এক যুবকের নির্মম মৃত্যু হয়েছে। নিহত সোহেল মিয়া (৩৪) উপজেলার আলিশারকুল গ্রামের মৃত ফুল মিয়ার ছেলে এবং তিনি শহরের সিন্দুরখান সড়কে ভাড়া বাসায় থাকতেন। গত শুক্রবার বিকেলে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ইসমাইল মিয়া (৩২)-কে আটক করেছে, যিনি সিন্দুরখান সড়ক এলাকার ফজর আলীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার সকালে সোহেল মিয়া সিন্দুরখান সড়কের সিএনজি স্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে চা পান করতে যান। সেখানে পানি খাওয়ার গ্লাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে ইসমাইল মিয়ার সঙ্গে তাঁর তীব্র কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ইসমাইল দোকানে থাকা একটি কাচের গ্লাস দিয়ে সোহেল মিয়ার মাথায় সজোরে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক অনির্বাণ দেব জানান, সোহেল মিয়ার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং সেখানে পাঁচটি সেলাই দেওয়া হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনি বাড়িতে ফিরে যান।
তবে দুপুরের পর তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে স্বজনরা তাঁকে আবারও হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলবেলা তিনি মারা যান। ঘটনার পর পরই শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে পুলিশ পৌর শহরে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ইসমাইল মিয়াকে আটক করে। শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সোহেল মিয়ার মৃত্যুর পর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।























