১২:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে অতি বর্ষণ ও বন্যা: এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত, পাহাড়ধসে প্রাণহানি

  • আপডেট সময় : ১২:১৫:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
  • 52

অতি বর্ষণ ও বন্যায় লণ্ডভণ্ড চট্টগ্রাম: স্থগিত হলো পুরো বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও পাহাড়ধসে প্রাণহানি

টানা দুই দিনের অতি ভারী বর্ষণ ও ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব জেলার বুধবারের (আজকের) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) গভীর রাতে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সই করা এক জরুরি আদেশে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এর আগে দফায় দফায় কেবল চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও কক্সবাজার জেলার পরীক্ষা স্থগিতের কথা বলা হলেও, পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হওয়ায় শেষ রাতে পুরো বোর্ডের পরীক্ষাই স্থগিত করা হয়; তবে দেশের অন্য সব শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে এবং স্থগিত পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরে জানানো হবে। উল্লেখ্য, এবার সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীনে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এদিকে গত সোমবার বিকেল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম নগরীতে ৪২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এবং ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা এর আগে কেবল ১৯৮৩ সালের ৪ আগস্ট (৫১১ মিলিমিটার) ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় চট্টগ্রাম নগর, রাঙ্গুনিয়া, রাঙামাটির বাঘাইছড়ি এবং কক্সবাজারে দেয়াল ও পাহাড়ধসের ঘটনায় প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কের মাইসছড়ি এলাকা তলিয়ে যাওয়ায় দুই জেলার সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনটি ফ্লাইট অবতরণ করতে পারেনি এবং রেললাইনে পানি জমে থাকায় প্রায় এক হাজার যাত্রী নিয়ে কক্সবাজারগামী ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি চট্টগ্রাম নগরের ষোলোশহর স্টেশনে আটকে পড়ে।

চলতি দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কক্সবাজার জেলা। গত দুই দিনের বৃষ্টিতে উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরগুলোর বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় ১৯৩টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে এবং কক্সবাজার সদর, টেকনাফ, রামু, মহেশখালী, চকরিয়া ও পেকুয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে শতাধিক গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বর্তমানে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় পানিবন্দী লাখো মানুষ ও পরীক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

16 September 2026

চট্টগ্রামে অতি বর্ষণ ও বন্যা: এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত, পাহাড়ধসে প্রাণহানি

জনপ্রিয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

চট্টগ্রামে অতি বর্ষণ ও বন্যা: এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত, পাহাড়ধসে প্রাণহানি

আপডেট সময় : ১২:১৫:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

টানা দুই দিনের অতি ভারী বর্ষণ ও ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব জেলার বুধবারের (আজকের) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) গভীর রাতে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সই করা এক জরুরি আদেশে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এর আগে দফায় দফায় কেবল চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও কক্সবাজার জেলার পরীক্ষা স্থগিতের কথা বলা হলেও, পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হওয়ায় শেষ রাতে পুরো বোর্ডের পরীক্ষাই স্থগিত করা হয়; তবে দেশের অন্য সব শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে এবং স্থগিত পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরে জানানো হবে। উল্লেখ্য, এবার সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীনে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এদিকে গত সোমবার বিকেল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম নগরীতে ৪২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এবং ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা এর আগে কেবল ১৯৮৩ সালের ৪ আগস্ট (৫১১ মিলিমিটার) ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় চট্টগ্রাম নগর, রাঙ্গুনিয়া, রাঙামাটির বাঘাইছড়ি এবং কক্সবাজারে দেয়াল ও পাহাড়ধসের ঘটনায় প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কের মাইসছড়ি এলাকা তলিয়ে যাওয়ায় দুই জেলার সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনটি ফ্লাইট অবতরণ করতে পারেনি এবং রেললাইনে পানি জমে থাকায় প্রায় এক হাজার যাত্রী নিয়ে কক্সবাজারগামী ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি চট্টগ্রাম নগরের ষোলোশহর স্টেশনে আটকে পড়ে।

চলতি দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কক্সবাজার জেলা। গত দুই দিনের বৃষ্টিতে উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরগুলোর বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় ১৯৩টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে এবং কক্সবাজার সদর, টেকনাফ, রামু, মহেশখালী, চকরিয়া ও পেকুয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে শতাধিক গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বর্তমানে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় পানিবন্দী লাখো মানুষ ও পরীক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

16 September 2026

চট্টগ্রামে অতি বর্ষণ ও বন্যা: এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত, পাহাড়ধসে প্রাণহানি