০৫:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে যেসব আইনি ও আর্থিক জটিলতায় পড়তে পারেন করদাতারা

  • আপডেট সময় : ০১:১৩:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
  • 10

আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে যেসব আইনি ও আর্থিক জটিলতায় পড়তে পারেন করদাতারা

দেশে বর্তমানে সোয়া এক কোটির বেশি টিআইএনধারী থাকলেও বছরে প্রায় ৫০ লাখ ব্যক্তি আয়কর রিটার্ন জমা দেন, যেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ করযোগ্য আয় থাকা সত্ত্বেও রিটার্ন জমা দেওয়া থেকে বিরত থাকছেন। মূলত টিআইএন থাকলেই সবার জন্য রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়, তবে যাঁদের করযোগ্য আয় রয়েছে কিংবা সরকারি-বেসরকারি ৪৫ ধরনের সেবা গ্রহণের প্রয়োজন হয়, তাঁদের জন্য রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র থাকা অপরিহার্য। নির্ধারিত সময়ে আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে করদাতাদের প্রধানত পাঁচ ধরনের জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়।

প্রথমত, আয়কর আইনের ২৬৬ ধারা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে; যার মধ্যে সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের করের ১০ শতাংশ পর্যন্ত (সর্বনিম্ন এক হাজার টাকা) জরিমানা, রিটার্ন জমা না দেওয়া অব্যাহত থাকলে প্রতিদিনের জন্য অতিরিক্ত ৫০ টাকা জরিমানা এবং তদন্তের প্রয়োজনে তথ্য দিতে ব্যর্থ হলে আরও ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

দ্বিতীয়ত, নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন জমা না দিলে সঞ্চয়পত্রসহ সরকার অনুমোদিত বিভিন্ন বিনিয়োগ খাতে কর অব্যাহতি বা কর ছাড়ের সুবিধা সীমিত বা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তৃতীয়ত, সময়সীমা পেরিয়ে রিটার্ন জমা দিলে আরোপিত করের ওপর প্রতি মাসে অতিরিক্ত ২ শতাংশ হারে জরিমানা বা কর দিতে হতে পারে, যা করদাতার মোট আর্থিক বোঝা বাড়িয়ে দেয়। চতুর্থত, আইনানুযায়ী কর কর্মকর্তাদের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির মতো রাষ্ট্রীয় পরিষেবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ক্ষমতা রয়েছে, যা ব্যক্তি করদাতার পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে।

পঞ্চমত, নির্দিষ্ট পর্যায়ের সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানে রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র জমা দিতে না পারলে বেতন-ভাতা গ্রহণে জটিলতা বা তা আটকে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। সাধারণত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে কর ছাড়ের সুবিধা পাওয়া যায়, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে জমা দিলে নির্ধারিত কর পরিশোধ করতে হয় এবং জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে জমা দিলে করের পাশাপাশি জরিমানাও আরোপিত হতে পারে। তাই যেকোনো ধরনের জরিমানা, অতিরিক্ত কর ও কর ছাড়ের জটিলতা এড় respectivas নিয়মকানুন মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রিটার্ন জমা দেওয়া করদাতাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

28 October 2026

আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে যেসব আইনি ও আর্থিক জটিলতায় পড়তে পারেন করদাতারা

Spread the love
জনপ্রিয়

১৬১১১ নম্বরে ফোন, মাঝনদীতে অসুস্থ লঞ্চযাত্রীকে উদ্ধার করল কোস্ট গার্ড

আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে যেসব আইনি ও আর্থিক জটিলতায় পড়তে পারেন করদাতারা

আপডেট সময় : ০১:১৩:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

দেশে বর্তমানে সোয়া এক কোটির বেশি টিআইএনধারী থাকলেও বছরে প্রায় ৫০ লাখ ব্যক্তি আয়কর রিটার্ন জমা দেন, যেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ করযোগ্য আয় থাকা সত্ত্বেও রিটার্ন জমা দেওয়া থেকে বিরত থাকছেন। মূলত টিআইএন থাকলেই সবার জন্য রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়, তবে যাঁদের করযোগ্য আয় রয়েছে কিংবা সরকারি-বেসরকারি ৪৫ ধরনের সেবা গ্রহণের প্রয়োজন হয়, তাঁদের জন্য রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র থাকা অপরিহার্য। নির্ধারিত সময়ে আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে করদাতাদের প্রধানত পাঁচ ধরনের জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়।

প্রথমত, আয়কর আইনের ২৬৬ ধারা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে; যার মধ্যে সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের করের ১০ শতাংশ পর্যন্ত (সর্বনিম্ন এক হাজার টাকা) জরিমানা, রিটার্ন জমা না দেওয়া অব্যাহত থাকলে প্রতিদিনের জন্য অতিরিক্ত ৫০ টাকা জরিমানা এবং তদন্তের প্রয়োজনে তথ্য দিতে ব্যর্থ হলে আরও ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

দ্বিতীয়ত, নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন জমা না দিলে সঞ্চয়পত্রসহ সরকার অনুমোদিত বিভিন্ন বিনিয়োগ খাতে কর অব্যাহতি বা কর ছাড়ের সুবিধা সীমিত বা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তৃতীয়ত, সময়সীমা পেরিয়ে রিটার্ন জমা দিলে আরোপিত করের ওপর প্রতি মাসে অতিরিক্ত ২ শতাংশ হারে জরিমানা বা কর দিতে হতে পারে, যা করদাতার মোট আর্থিক বোঝা বাড়িয়ে দেয়। চতুর্থত, আইনানুযায়ী কর কর্মকর্তাদের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির মতো রাষ্ট্রীয় পরিষেবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ক্ষমতা রয়েছে, যা ব্যক্তি করদাতার পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে।

পঞ্চমত, নির্দিষ্ট পর্যায়ের সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানে রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র জমা দিতে না পারলে বেতন-ভাতা গ্রহণে জটিলতা বা তা আটকে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। সাধারণত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে কর ছাড়ের সুবিধা পাওয়া যায়, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে জমা দিলে নির্ধারিত কর পরিশোধ করতে হয় এবং জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে জমা দিলে করের পাশাপাশি জরিমানাও আরোপিত হতে পারে। তাই যেকোনো ধরনের জরিমানা, অতিরিক্ত কর ও কর ছাড়ের জটিলতা এড় respectivas নিয়মকানুন মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রিটার্ন জমা দেওয়া করদাতাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

28 October 2026

আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে যেসব আইনি ও আর্থিক জটিলতায় পড়তে পারেন করদাতারা

Spread the love