রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সশস্ত্র তৎপরতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের চরম আতঙ্কে দিন কাটছে। দিনদুপুরে কিংবা রাতের অন্ধকারে ধারালো অস্ত্রের মহড়া, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের লড়াই এখানে নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত দুই বছরে অভ্যন্তরীণ সংঘাতের জেরে এই অঞ্চলে অন্তত ৯ জন নিহত ও ৫০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন; যার সর্বশেষ শিকার গত ১৫ সেপ্টেম্বর কেরানীগঞ্জে খুন হওয়া ‘পাটালী গ্রুপের’ সদস্য ফরহাদ।
এলাকায় অ্যালেক্স ইমন, কবজি কাটা আনোয়ার, গাঙচিল, লাড়া দে ও রক্তচোষা জনিসহ অর্ধশতাধিক সক্রিয় গ্যাং রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে, যার প্রভাব এখনো বয়ে বেড়াচ্ছে স্থানীয়রা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সুরাহা করতে ডিএমপি কমিশনার ইতোমধ্যে এলাকাটিকে কিশোর গ্যাংমুক্ত করার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৫০০ জনকে গ্রেপ্তার করছে—যা গত দুই বছরে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ হাজারে। তবে জামিনে বের হয়ে অনেকে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় স্বস্তি মিলছে না। অপরাধ দমনে বছিলার রিকশা গ্যারেজে তল্লাশি, জেনেভা ক্যাম্পের সাতটি প্রবেশপথে পুলিশি চেকপোস্ট স্থাপন এবং সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পুলিশি তৎপরতায় বছিলা এলাকায় অপরাধ কিছুটা কমলেও স্থানীয় অধিবাসীদের মানসিক আতঙ্ক এখনো কাটেনি।























