লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় যৌতুকের দাবি পূরণ না করায় ভরতী রানী রায় (২৪) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে দুই পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে। নৃশংসতার শিকার ওই গৃহবধূ কালীগঞ্জ উপজেলার খালীশা মদাতী গ্রামের ধরনী চন্দ্র বর্মনের মেয়ে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের টাকার জন্য ভরতী রানীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ এপ্রিল যৌতুকের দাবিতে স্বামী দীপন দেব সিংহ (৩০) ও শাশুড়ি অনিতা রাণী রায় তাঁর ওপর এই নৃশংস হামলা চালান, যার ফলে ভরতী রানীর দুটি পা-ই ভেঙে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় হাতীবান্ধা থানায় অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশ মামলা রেকর্ড করেনি বলে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে। বাধ্য হয়ে গত ২২ মে লালমনিরহাটের একটি আদালতে মামলা দায়ের করেন তাঁরা। আদালত বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য হাতীবান্ধা থানা-পুলিশকে নির্দেশ দেন। আদালতে মামলার খবর জানতে পেরে চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে অভিযুক্তরা।
এরই জেরে গত ২৪ মে স্বামী দীপন দেব সিংহ ও তাঁর প্রতিবেশী সহযোগী তপু চন্দ্র বর্মন (২২) ভুক্তভোগী গৃহবধূর বাপের বাড়িতে চড়াও হন। তাঁরা কৌশলে ভরতী রানীর ১৮ মাস বয়সী শিশু সন্তান দুয্য দেব সিংহকে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পরিবারের চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে দীপন ও তপুকে হাতেনাতে আটক করে কালীগঞ্জ থানা-পুলিশে সোপর্দ করেন। স্থানীয়দের মধ্যে গুঞ্জন রয়েছে, দীপন দেব সিংহের ভাই গৌতম দেব সিংহ দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাস করায় শিশুটিকে অপহরণ করে সেখানে পাচারের একটি সুপরিকল্পিত ছক ছিল তাদের।
বর্তমানে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ভরতী রানী ও তাঁর পরিবারকে ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত ভরতী রানী চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিজের এবং সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ ও জীবন শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, আদালতের নির্দেশনা ও অভিযোগ হাতে পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


Md.Rasel Khan 




















