০২:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেহেরপুরের গাংনীতে অসহনীয় লোডশেডিং ও ভুতুড়ে বিলে চরম ভোগান্তি

মেহেরপুরের গাংনীতে অসহনীয় লোডশেডিং ও ভুতুড়ে বিলে চরম ভোগান্তি

 

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় সীমাহীন লোডশেডিং ও ভ্যাবসা গরমে মানুষের দৈনন্দিন জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও চরম কষ্ট আর যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে দিন যাপন করছে মানুষ। সারাদিনের খাটাখাটনির পর বাড়িতে ফিরে একটু শান্তিতে বিশ্রামেরও সুযোগ নেই; ফ্যানের দিকে তাকিয়ে থাকলেও বিদ্যুৎ না থাকায় তা ঘুরছে না। কয়েক মিনিটের জন্য বিদ্যুৎ আসলেও তা আবার দ্রুত চলে যায়, আর রাতের বেলার ভোগান্তি রূপ নেয় ভয়াবহ রূপ। এত লোডশেডিং সত্ত্বেও প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল অতিরিক্ত আসছে বলে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

চলতি মৌসুমে মাঠের কৃষি কাজ ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় এই বিদ্যুৎ সংকট ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। বর্তমানে মাঠে পাট কেটে নতুন ধান রোপণের সময় হলেও লোডশেডিংয়ের কারণে চাষিরা জমিতে ঠিকমতো সেচ দিতে পারছেন না। ফলে ফসল উৎপাদন চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আইন উদ্দিন বলেন, চাষিরা সেচ দিতে না পেরে চরম কষ্টের মধ্যে রয়েছেন, অথচ এত লোডশেডিংয়ের পরও বিল বেশি আসছে। এম এ লিংকন নামের অপর এক বাসিন্দা জানান, দিনে ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকা এখন নিত্যদিনের ঘটনা, এমনকি কোনো কোনো দিন প্রায় ১৫ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকে না। এর ফলে কোমলমতি সন্তানদের লেখাপড়ায় চরম বিঘ্ন ঘটছে। এদিকে ক্ষুব্ধ হয়ে মন্টু আলী নামে এক গ্রাহক জানান, অতিরিক্ত লোডশেডিং ও সেচ কাজে বিঘ্ন ঘটায় রাগ করে তিনি বিদ্যুৎ বিল দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

অন্যদিকে, লোডশেডিংয়ের বিষয়ে নিজেদের সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়েছে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগ। বামন্দী পল্লী বিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (ও অ্যান্ড এম) মোঃ সৌমিক নাসের জানান, তাঁর অধিনস্থ এলাকায় বিদ্যুৎ চাহিদা ১১ মেগাওয়াট হলেও বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৬ মেগাওয়াট। জাতীয় পর্যায়ে উৎপাদন কম হওয়ার কারণেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। একই তথ্য জানিয়ে গাংনী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, তাঁর এরিয়ায় ১০.৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে মাত্র ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ মিলছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের থেকে প্রাপ্ত বরাদ্দ অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করায় সংকট নিয়ন্ত্রণে তাঁদের কিছুই করার নেই বলে জানান এই কর্মকর্তারা।

14 September 2026

মেহেরপুরের গাংনীতে অসহনীয় লোডশেডিং ও ভুতুড়ে বিলে চরম ভোগান্তি

জনপ্রিয়

ফ্যাসিস্ট ও গুপ্তরা পরিকল্পিতভাবে আমাদেরকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে : পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আজাদ

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

মেহেরপুরের গাংনীতে অসহনীয় লোডশেডিং ও ভুতুড়ে বিলে চরম ভোগান্তি

আপডেট সময় : ০৮:০৩:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

 

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় সীমাহীন লোডশেডিং ও ভ্যাবসা গরমে মানুষের দৈনন্দিন জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও চরম কষ্ট আর যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে দিন যাপন করছে মানুষ। সারাদিনের খাটাখাটনির পর বাড়িতে ফিরে একটু শান্তিতে বিশ্রামেরও সুযোগ নেই; ফ্যানের দিকে তাকিয়ে থাকলেও বিদ্যুৎ না থাকায় তা ঘুরছে না। কয়েক মিনিটের জন্য বিদ্যুৎ আসলেও তা আবার দ্রুত চলে যায়, আর রাতের বেলার ভোগান্তি রূপ নেয় ভয়াবহ রূপ। এত লোডশেডিং সত্ত্বেও প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল অতিরিক্ত আসছে বলে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

চলতি মৌসুমে মাঠের কৃষি কাজ ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় এই বিদ্যুৎ সংকট ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। বর্তমানে মাঠে পাট কেটে নতুন ধান রোপণের সময় হলেও লোডশেডিংয়ের কারণে চাষিরা জমিতে ঠিকমতো সেচ দিতে পারছেন না। ফলে ফসল উৎপাদন চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আইন উদ্দিন বলেন, চাষিরা সেচ দিতে না পেরে চরম কষ্টের মধ্যে রয়েছেন, অথচ এত লোডশেডিংয়ের পরও বিল বেশি আসছে। এম এ লিংকন নামের অপর এক বাসিন্দা জানান, দিনে ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকা এখন নিত্যদিনের ঘটনা, এমনকি কোনো কোনো দিন প্রায় ১৫ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকে না। এর ফলে কোমলমতি সন্তানদের লেখাপড়ায় চরম বিঘ্ন ঘটছে। এদিকে ক্ষুব্ধ হয়ে মন্টু আলী নামে এক গ্রাহক জানান, অতিরিক্ত লোডশেডিং ও সেচ কাজে বিঘ্ন ঘটায় রাগ করে তিনি বিদ্যুৎ বিল দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

অন্যদিকে, লোডশেডিংয়ের বিষয়ে নিজেদের সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়েছে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগ। বামন্দী পল্লী বিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (ও অ্যান্ড এম) মোঃ সৌমিক নাসের জানান, তাঁর অধিনস্থ এলাকায় বিদ্যুৎ চাহিদা ১১ মেগাওয়াট হলেও বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৬ মেগাওয়াট। জাতীয় পর্যায়ে উৎপাদন কম হওয়ার কারণেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। একই তথ্য জানিয়ে গাংনী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, তাঁর এরিয়ায় ১০.৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে মাত্র ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ মিলছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের থেকে প্রাপ্ত বরাদ্দ অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করায় সংকট নিয়ন্ত্রণে তাঁদের কিছুই করার নেই বলে জানান এই কর্মকর্তারা।

14 September 2026

মেহেরপুরের গাংনীতে অসহনীয় লোডশেডিং ও ভুতুড়ে বিলে চরম ভোগান্তি