০৫:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢামেকের বাথরুমে নারীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার, রহস্যজনক ছুরি নিয়ে তদন্ত

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের একটি বাথরুম থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ।

আনুমানিক ২৮ বছর বয়সী ওই নারীর মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি হত্যার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তবে লাশ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা আগে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকের কনফারেন্স রুমের দ্বিতীয় গেটের সামনে রক্তাক্ত একটি কালো স্টিলের ছুরি এবং আশপাশে রক্তের দাগ পাওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে হাসপাতালের ১১০ ও ১১১ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝামাঝি নারী বাথরুমের ৪ নম্বর কক্ষ থেকে ওই নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়।

ঢামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টার দিকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী মাহমুদ শেখ নারী বাথরুম পরিষ্কার করতে যান। নিয়ম অনুযায়ী তিনি ভেতরের কক্ষগুলোর দরজায় নক করে থাকা ব্যক্তিদের বের হওয়ার অনুরোধ করছিলেন। ৪ নম্বর কক্ষে নক করার পর দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া না পেয়ে তার সন্দেহ হয়।

পরে অন্য পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সহায়তায় দরজা খোলার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে দরজা খুললে ভেতরে ওই নারীকে রক্তাক্ত ও ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। বিষয়টি পরে আনসার সদস্য ও হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শাহবাগ থানায় খবর দেয়।

পরিচ্ছন্নতাকর্মী মাহমুদ শেখ বলেন, সকালে নারী বাথরুম পরিষ্কার করতে গিয়ে তিনি ওই কক্ষের দরজায় কয়েকবার নক করেন। কোনো সাড়া না পাওয়ায় তিনি রাসেল ও কামাল নামে আরও দুই পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে নিয়ে বিষয়টি দেখতে যান। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দরজাটি ভেতর থেকে আটকানো ছিল। পরে দরজা খুলে ওই নারীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা।

এদিকে, একই দিন ভোরে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকের কনফারেন্স রুমের দ্বিতীয় গেটের সামনে রক্তাক্ত একটি কালো স্টিলের ছুরি পড়ে থাকতে দেখা যায়। সকাল ৬টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাশী পেল্লী সন্তোষ ছুরিটি দেখতে পান।

সন্তোষ জানান, ছুরিটি রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে তিনি ওই এলাকার মেঝে পরিষ্কার করেন। পরে ছুরিটি ধুয়ে নিজের কাছে রেখে দেন। কয়েক ঘণ্টা পর তিনি জানতে পারেন, হাসপাতালের ১১০ ও ১১১ নম্বর ওয়ার্ডের পাশের একটি বাথরুমে এক নারীকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. শায়লা ফেরদৌস আহসান জানান, সকালে হাসপাতালে এসে তিনি বাথরুমে একজন নারীকে রক্তাক্ত অবস্থায় ঝুলিয়ে রাখার কথা জানতে পারেন। পরে প্রশাসনিক ব্লকের কনফারেন্স রুমের দ্বিতীয় গেটের বাইরে রক্তাক্ত একটি ছুরি পড়ে থাকার বিষয়টিও জানতে পারেন।

তিনি বলেন, ওই এলাকায় রক্তের দাগ ও ফোঁটা ফোঁটা রক্তের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল। তবে হাসপাতালে বিভিন্ন সময় রোগীদের চিকিৎসাজনিত কারণে মেঝেতে রক্ত পড়ে থাকায় শুরুতে বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে দিয়ে মেঝে পরিষ্কার করা হয় এবং ছুরিটি সরিয়ে রাখা হয়।

সহকারী পরিচালক আরও জানান, ওই এলাকায় সিসি ক্যামেরা রয়েছে। ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হলে ছুরিটি সেখানে কীভাবে এলো এবং ঘটনার সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা জানা যেতে পারে।

ঘটনাস্থলে গিয়ে শাহবাগ থানা পুলিশ লাশ উদ্ধারের কাজ শুরু করে। পরে সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিট ও ডিবি পুলিশের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে যান।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

5 October 2026

ঢামেকের বাথরুমে নারীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার, রহস্যজনক ছুরি নিয়ে তদন্ত

Spread the love
ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শাহজালালে জমজমের পানি নিয়ে তুলকালাম: নেপথ্যে মদিনা স্টেশনের গাফিলতি ও চরম সমন্বয়হীনতা

ঢামেকের বাথরুমে নারীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার, রহস্যজনক ছুরি নিয়ে তদন্ত

আপডেট সময় : ০২:২২:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের একটি বাথরুম থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ।

আনুমানিক ২৮ বছর বয়সী ওই নারীর মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি হত্যার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তবে লাশ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা আগে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকের কনফারেন্স রুমের দ্বিতীয় গেটের সামনে রক্তাক্ত একটি কালো স্টিলের ছুরি এবং আশপাশে রক্তের দাগ পাওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে হাসপাতালের ১১০ ও ১১১ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝামাঝি নারী বাথরুমের ৪ নম্বর কক্ষ থেকে ওই নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়।

ঢামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টার দিকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী মাহমুদ শেখ নারী বাথরুম পরিষ্কার করতে যান। নিয়ম অনুযায়ী তিনি ভেতরের কক্ষগুলোর দরজায় নক করে থাকা ব্যক্তিদের বের হওয়ার অনুরোধ করছিলেন। ৪ নম্বর কক্ষে নক করার পর দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া না পেয়ে তার সন্দেহ হয়।

পরে অন্য পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সহায়তায় দরজা খোলার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে দরজা খুললে ভেতরে ওই নারীকে রক্তাক্ত ও ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। বিষয়টি পরে আনসার সদস্য ও হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শাহবাগ থানায় খবর দেয়।

পরিচ্ছন্নতাকর্মী মাহমুদ শেখ বলেন, সকালে নারী বাথরুম পরিষ্কার করতে গিয়ে তিনি ওই কক্ষের দরজায় কয়েকবার নক করেন। কোনো সাড়া না পাওয়ায় তিনি রাসেল ও কামাল নামে আরও দুই পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে নিয়ে বিষয়টি দেখতে যান। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দরজাটি ভেতর থেকে আটকানো ছিল। পরে দরজা খুলে ওই নারীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা।

এদিকে, একই দিন ভোরে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকের কনফারেন্স রুমের দ্বিতীয় গেটের সামনে রক্তাক্ত একটি কালো স্টিলের ছুরি পড়ে থাকতে দেখা যায়। সকাল ৬টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাশী পেল্লী সন্তোষ ছুরিটি দেখতে পান।

সন্তোষ জানান, ছুরিটি রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে তিনি ওই এলাকার মেঝে পরিষ্কার করেন। পরে ছুরিটি ধুয়ে নিজের কাছে রেখে দেন। কয়েক ঘণ্টা পর তিনি জানতে পারেন, হাসপাতালের ১১০ ও ১১১ নম্বর ওয়ার্ডের পাশের একটি বাথরুমে এক নারীকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. শায়লা ফেরদৌস আহসান জানান, সকালে হাসপাতালে এসে তিনি বাথরুমে একজন নারীকে রক্তাক্ত অবস্থায় ঝুলিয়ে রাখার কথা জানতে পারেন। পরে প্রশাসনিক ব্লকের কনফারেন্স রুমের দ্বিতীয় গেটের বাইরে রক্তাক্ত একটি ছুরি পড়ে থাকার বিষয়টিও জানতে পারেন।

তিনি বলেন, ওই এলাকায় রক্তের দাগ ও ফোঁটা ফোঁটা রক্তের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল। তবে হাসপাতালে বিভিন্ন সময় রোগীদের চিকিৎসাজনিত কারণে মেঝেতে রক্ত পড়ে থাকায় শুরুতে বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে দিয়ে মেঝে পরিষ্কার করা হয় এবং ছুরিটি সরিয়ে রাখা হয়।

সহকারী পরিচালক আরও জানান, ওই এলাকায় সিসি ক্যামেরা রয়েছে। ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হলে ছুরিটি সেখানে কীভাবে এলো এবং ঘটনার সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা জানা যেতে পারে।

ঘটনাস্থলে গিয়ে শাহবাগ থানা পুলিশ লাশ উদ্ধারের কাজ শুরু করে। পরে সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিট ও ডিবি পুলিশের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে যান।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

5 October 2026

ঢামেকের বাথরুমে নারীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার, রহস্যজনক ছুরি নিয়ে তদন্ত

Spread the love