০৪:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুরোনো ভিডিও দিয়ে বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানির নামে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে: বিমানমন্ত্রী

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো ভিডিও দিয়ে বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানির নামে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অনুষ্ঠিত ‘এয়ারপোর্ট ফায়ার ইমার্জেন্সি এক্সারসাইজ ২০২৬’ শীর্ষক মহড়া পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা করা হলে কঠোর শাস্তি এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব সম্পন্ন করলে পুরস্কৃত করা হবে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রস্তুতি ও দক্ষতার ওপর যাত্রীদের জীবন ও নিরাপত্তার বিষয়টি নির্ভর করে। তাই দায়িত্বে কোনো ধরনের শিথিলতা সহ্য করা হবে না।

বিমানবন্দরে নারী যাত্রীদের কাছে কাবিন নামা চাওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিমানবন্দরের নামে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

শাহাজালাল বিমানবন্দরে কতটি ট্রলি আছে প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, এখানে বর্তমানে ৪ হাজার ট্রলি আছে। আর থার্ড টার্মিনালের জন্য ১০ হাজার ট্রলি প্রস্তুত রয়েছে।

বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের অসহযোগিতার বিষয়ে বিমানমন্ত্রী বলেন, সাবেক ফ্যাসিবাদ সরকারের মতাদর্শের অনেক লোক এখানে দায়িত্বে ছিল। সেখানে তো তারা বর্তমান সরকারকে সহযোগিতা করবে না। আমরা সব বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং আমরা তৎপর আছি।

রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, প্রস্তুতি ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে। নিয়মিত এ ধরনের মহড়া জরুরি প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা ও আন্তঃসংস্থা সমন্বয় আরও শক্তিশালী করবে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, নিরাপদ বিমান চলাচল নিশ্চিত করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, বাস্তবভিত্তিক মহড়া এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের কার্যকর সমন্বয় অপরিহার্য। এ ধরনের মহড়ার মাধ্যমে জনবলের পেশাগত দক্ষতা, জরুরি সরঞ্জামের কার্যকারিতা এবং সমন্বিত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা যাচাই করা সম্ভব হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এর নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার।

মহড়ায় উপস্থাপিত কল্পিত দৃশ্যপটে দেখানো হয়, ব্যাংকক থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে আসা ৯৮ জন যাত্রী ও ৫ জন ক্রুবাহী একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ অবতরণের ঠিক পূর্বমুহূর্তে ডান পাশের ইঞ্জিনে আগুন এবং কন্ট্রোল প্যানেলে প্রযুক্তিগত ত্রুটির বিষয়ে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) টাওয়ারকে অবহিত করে। সঙ্গে সঙ্গে এটিসি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট সব জরুরি সেবা
সংস্থাকে অবহিত করে।

দৃশ্যপটে আরও দেখা যায়, জরুরি অবতরণের সময় উড়োজাহাজটি রানওয়ের মধ্যরেখা অনুসরণ করতে ব্যর্থ হয়ে রানওয়ের নির্ধারিত অংশ অতিক্রম করে উচ্চগতিতে সামনে এগিয়ে যায়। একপর্যায়ে এটি রানওয়ে থেকে বাম দিকে ছিটকে পড়ে এবং ট্যাক্সিওয়ে সিয়েরা অতিক্রম করে রানওয়ের দক্ষিণ পাশে থেমে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই উড়োজাহাজের নিচের অংশে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো উড়োজাহাজে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

এরপর বিমানবন্দরের ফায়ার সার্ভিস, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল, উদ্ধারকারী দল, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা সমন্বিতভাবে অগ্নি নির্বাপণ, যাত্রী উদ্ধার, প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান, নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং দুর্ঘটনা-পরবর্তী জরুরি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনা করে। মহড়ার মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রম, দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা এবং বিমানবন্দরের জরুরি প্রস্তুতির বাস্তবসম্মত অনুশীলন প্রদর্শন করা হয়।

5 October 2026

পুরোনো ভিডিও দিয়ে বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানির নামে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে: বিমানমন্ত্রী

Spread the love
ট্যাগ :
জনপ্রিয়

পিরোজপুরে সাবেক পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে গণধর্ষণ ও হত্যা: তাঁতিদল নেতা মানিক গ্রেপ্তার

পুরোনো ভিডিও দিয়ে বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানির নামে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে: বিমানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০১:৫৬:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো ভিডিও দিয়ে বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানির নামে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অনুষ্ঠিত ‘এয়ারপোর্ট ফায়ার ইমার্জেন্সি এক্সারসাইজ ২০২৬’ শীর্ষক মহড়া পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা করা হলে কঠোর শাস্তি এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব সম্পন্ন করলে পুরস্কৃত করা হবে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রস্তুতি ও দক্ষতার ওপর যাত্রীদের জীবন ও নিরাপত্তার বিষয়টি নির্ভর করে। তাই দায়িত্বে কোনো ধরনের শিথিলতা সহ্য করা হবে না।

বিমানবন্দরে নারী যাত্রীদের কাছে কাবিন নামা চাওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিমানবন্দরের নামে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

শাহাজালাল বিমানবন্দরে কতটি ট্রলি আছে প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, এখানে বর্তমানে ৪ হাজার ট্রলি আছে। আর থার্ড টার্মিনালের জন্য ১০ হাজার ট্রলি প্রস্তুত রয়েছে।

বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের অসহযোগিতার বিষয়ে বিমানমন্ত্রী বলেন, সাবেক ফ্যাসিবাদ সরকারের মতাদর্শের অনেক লোক এখানে দায়িত্বে ছিল। সেখানে তো তারা বর্তমান সরকারকে সহযোগিতা করবে না। আমরা সব বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং আমরা তৎপর আছি।

রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, প্রস্তুতি ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে। নিয়মিত এ ধরনের মহড়া জরুরি প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা ও আন্তঃসংস্থা সমন্বয় আরও শক্তিশালী করবে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, নিরাপদ বিমান চলাচল নিশ্চিত করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, বাস্তবভিত্তিক মহড়া এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের কার্যকর সমন্বয় অপরিহার্য। এ ধরনের মহড়ার মাধ্যমে জনবলের পেশাগত দক্ষতা, জরুরি সরঞ্জামের কার্যকারিতা এবং সমন্বিত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা যাচাই করা সম্ভব হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এর নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার।

মহড়ায় উপস্থাপিত কল্পিত দৃশ্যপটে দেখানো হয়, ব্যাংকক থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে আসা ৯৮ জন যাত্রী ও ৫ জন ক্রুবাহী একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ অবতরণের ঠিক পূর্বমুহূর্তে ডান পাশের ইঞ্জিনে আগুন এবং কন্ট্রোল প্যানেলে প্রযুক্তিগত ত্রুটির বিষয়ে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) টাওয়ারকে অবহিত করে। সঙ্গে সঙ্গে এটিসি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট সব জরুরি সেবা
সংস্থাকে অবহিত করে।

দৃশ্যপটে আরও দেখা যায়, জরুরি অবতরণের সময় উড়োজাহাজটি রানওয়ের মধ্যরেখা অনুসরণ করতে ব্যর্থ হয়ে রানওয়ের নির্ধারিত অংশ অতিক্রম করে উচ্চগতিতে সামনে এগিয়ে যায়। একপর্যায়ে এটি রানওয়ে থেকে বাম দিকে ছিটকে পড়ে এবং ট্যাক্সিওয়ে সিয়েরা অতিক্রম করে রানওয়ের দক্ষিণ পাশে থেমে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই উড়োজাহাজের নিচের অংশে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো উড়োজাহাজে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

এরপর বিমানবন্দরের ফায়ার সার্ভিস, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল, উদ্ধারকারী দল, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা সমন্বিতভাবে অগ্নি নির্বাপণ, যাত্রী উদ্ধার, প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান, নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং দুর্ঘটনা-পরবর্তী জরুরি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনা করে। মহড়ার মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রম, দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা এবং বিমানবন্দরের জরুরি প্রস্তুতির বাস্তবসম্মত অনুশীলন প্রদর্শন করা হয়।

5 October 2026

পুরোনো ভিডিও দিয়ে বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানির নামে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে: বিমানমন্ত্রী

Spread the love