১৯৭১ সালের ১৯ জুলাই দেশের প্রথম বাজেট দিয়েছিল মুজিবনগর সরকার। তখন অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন এম মনসুর আলী। সেই বাজেটের পর দেশে আজ ৫৫তম বাজেট উপস্থান করছেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। দিন বদলের সঙ্গে বদলেছে বাজেটের আকার ও পরিধি। চলুন দেখে আসি কেমন ছিলো দেশের ইতিহাসের বাজেটগুলো।
দেশের প্রথম বাজেটে মুজিবনগর সরকার রাজস্ব আয় সাত কোটি ৭৪ লাখ ১৮ হাজার ৯৯৮ টাকা, ব্যয় আট কোটি ৬২ লাখ ৪৮ হাজার ২০৪ টাকা এবং বাজেট ঘাটতি রেখেছিলো ৮৮ লাখ ২৯ হাজার ২০৬ টাকা।
দেশ স্বাধীনের পর প্রথম বাজেট দিয়েছিলেন প্রথম অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। একই সঙ্গে দুই অর্থবছরের বাজেট পেশ করেছিলেন তিনি। ১৯৭১-৭২ অর্থবছরের বাজেটের মেয়াদকাল ছিল ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ থেকে ৩০ জুন ১৯৭২। যেখানে রাজস্ব আয় ৪৮.৫২ কোটি টাকা, রাজস্ব ব্যয় ৯৯.১৩ কোটি টাকা, উন্নয়ন ব্যয় ৫১.৪৬ কোটি টাকা। আর ১৯৭২-৭৩ অর্থবছর: রাজস্ব আয় ২৯১.৫৮ কোটি, রাজস্ব ব্যয় ২১৮.৪৩ কোটি টাকা, উদ্বৃত্ত ৭৩.১৫ কোটি, উন্নয়ন, পুনর্নির্মাণ ও পুনর্বাসন ব্যয় ৫০১ কোটি টাকা, এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ৩১৮.৩০ কোটি টাকা।
পরের দুইর্ অর্থ বছরেও তাজউদ্দীন আহমদ বাজেট পেশ করেন। যার আকার পর্যায়ক্রমে ৮২০.৬৫ কোটি ও ৯৯৫.২৩ কোটি টাকা ছিলো।
১৯৭৪-৭৬ অর্থ বছরে ১৫৪৯.৪৮ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছিলেন এ আর মল্লিক। যেখানে ঘাটতি ছিলো ৭৯৪.১০ কোটি টাকা।
১৯৭৬-৭৭ অর্থবছরে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ১৮৬৭.৮৭ কোটি টাকার বাজেট দেন। যে বাজেট বঙ্গভবন থেকে উপস্থাপন করা হয়।
পরের দুই অর্থ বছরের বাজেটও দেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান।
১৯৭৯-৮০ অর্থবছরে জিয়াউর রহমান সরকারের সংসদ থেকে প্রথম বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী মীর্জা নুরুল হুদা। ৩,২৬৩. ৯৬ কোটি টাকার সেই বাজেটে মোট আয় ১,৮১২. ০২ কোটি টাকা এবং মোট ঘাটতি ১,৪৫১. ৯৪ কোটি টাকা ছিলো।
পরের অর্থবছর থেকে শুরু হয় দেশের ইতিহাসে অন্যতম সফল অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের আমল। পর পর দুই অর্থ বছরে চমক দেখিয়েছেন তিনি।
এরপর ১৯৮২-৮৩ ও ১৯৮৩-৮৪ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন আবুল মাল আবদুল মুহিত।
পরের চার অর্থ বছরের বাজেট দেন বিএনপির অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান।
মাঝে ৩ অর্থ বছর যথাক্রমে মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল মুনএম, ওয়াহিদুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল মুনএম বাজেট দিলেও, ১৯৯১-৯২ অর্থবছর থেকে আবারও টানা ৫ বার বাজেট পেশ করেন এম সাইফুর রহমান।
১৯৯৬-৯৭ অর্থবছর থেকে টানা ৫ বছর আওয়ামী লীগের অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া দেশের বাজেট পেশ করেন। ২০০২-০৩ অর্থ বছর থেকে আবারও শুরু হয় এম সাইফুর রহমানের যুগ। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বাজেট পেশ করেন তিনি। তার সবশেষ বাজেটের আকার ছিলো ৬৯ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা।
এরপর এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম দুই বার বাজেট পেশ করার পর শুরু হয় দেশের ইতিহাসে টানা ১০ বার বাজেট পেশ করা আবুল মাল আবদুল মুহিতের যুগ। বিশাল ঘাটতির রেকর্ড বাজেটে জনগণকে স্বপ্ন দেখান তিনি। ২০১৯-১৯ অর্থ বছরে তার শেষ বাজেট ছিলো ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা, যেখানে ঘাটতি ছিলো ১ লাখ ২১ হাজার ২৪২ কোটি টাকা।
এরপর আওয়ামী লীগের আরেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ২০১৯ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত বাজেট উপস্থাপন করেন। দলটির সবশেষ ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে উপস্থাপন করেছিলেন আবুল হাসান মাহমুদ আলী।
জুলাই অভুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ দেশের ৫৪তম বাজেট উপস্থাপন করেন। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, বিপর্যস্ত আর্থিক খাত সংস্কার ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের মতো চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় বাজেটের আকার ধরা হয় ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা।
এবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট দিচ্ছে বিএনপি সরকার।























