ওমান উপসাগর ও প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপের কাছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে জোরালো হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার জবাবে চালানো এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। মার্কিন অভিযানের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে তেহরান। জর্ডান সশস্ত্র বাহিনী জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে পারলেও বাকি দুটি জনবসতিহীন এলাকায় গিয়ে পড়ে। এর পরপরই কঠোর হুঁশিয়ারি জারি করে কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরের কাছে থাকা মার্কিন-সংশ্লিষ্ট সব ট্যাংকারের ক্রুদের অবিলম্বে জাহাজ ছেড়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইরান।
পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীতে ইরান যতবার হামলা চালাবে, ততবারই তাদের চড়া মূল্য দিতে হবে এবং তেলবাহী ট্যাংকার হারাতে হবে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি থেকে একটি মার্কিন ড্রোন সাবমেরিন জব্দের দাবি জানিয়েছে ইরানি নৌবাহিনী, যা হরমুজ প্রণালিসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমার নিরাপত্তাকে সবচেয়ে সংকটময় পরিস্থিতিতে ঠেলে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলার পর দেশটির জ্বালানি উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। এই সংঘাত ও অনিশ্চয়তার সরাসরি প্রভাবে দিনের শুরুতেই এশিয়ার বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১.৫ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৯.৪১ ডলারে পৌঁছেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ৯৪.৫৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।























