জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে নির্মাণের মাত্র দুই বছরের মাথায়, কোনো কার্যক্রম শুরু করার আগেই ধসে পড়েছে নবনির্মিত একটি সরকারি অফিস ভবন। গত মঙ্গলবার সকালে উপজেলা খাদ্য গুদাম সংলগ্ন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার জন্য নবনির্মিত এই কার্যালয়টির একাংশ ভেঙে পড়ার চিত্র দেখা যায়। সরকারি অর্থায়নে ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ভবনটি হস্তান্তরের এত অল্প সময়ের মধ্যে এমন বেহাল দশায় পরিণত হওয়ায় স্থানীয় এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে সরিষাবাড়ী খাদ্য গুদাম চত্বরে উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার জন্য এই নতুন অফিস ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল। নির্মাণের দুই বছর অতিবাহিত হলেও ভবনটিতে এখনো দাপ্তরিক কোনো কার্যক্রম শুরু করা হয়নি; এটি কেবল উদ্বোধন করেই ফেলে রাখা হয়েছিল। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকার পর মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ ভবনটির উত্তরের একটি কক্ষসহ একাংশ ধসে পড়ে। বর্তমানে ভবনের দেয়াল ও কাঠামোর একটি বড় অংশ ভেঙে নিচে পড়ে রয়েছে এবং পুরো ভবনে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, যেকোনো মুহূর্তে পুরো ভবনটি সম্পূর্ণ ধসে পড়তে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, নির্মাণকাজে অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকির অভাবেই এত দ্রুত এই সরকারি স্থাপনাটি ভেঙে পড়েছে। দীর্ঘদিন ভবনটি অব্যবহৃত রাখা এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবকেও তারা দায়ী করছেন। সরকারি অর্থের এমন অপচয়ের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তারা অবিলম্বে বিষয়টি নিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সদ্য যোগদানকারী উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা রুবিনা খাতুন জানান, তিনি নতুন আসায় ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত কোনো তথ্য তার জানা নেই এবং বিষয়টি উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ভালো বলতে পারবেন। অন্যদিকে, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) আসাদুজ্জামান খান মুঠোফোনে জানান যে তারা বিষয়টি অবগত হয়েছেন এবং ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, দ্রুতই তারা ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





















