০১:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৬০০কোটি টাকার নতুন ওষুধ কারখানা: বাজারজাত হচ্ছে দেশীয় পেনিসিলিন

  • আপডেট সময় : ০১:৩২:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • 42

৬০০ কোটি টাকার নতুন ওষুধ কারখানা: বাজারজাত হচ্ছে দেশীয় পেনিসিলিন

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) অধীনস্থ ন্যাশনাল স্পেশাল ইকোনমিক জোনে (এনএসোইজেড) ওষুধ উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। প্রায় ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে নির্মিত নিজেদের নতুন কারখানায় প্রতিষ্ঠানটি সফলভাবে পেনিসিলিনের পরীক্ষামূলক উৎপাদন শেষ করেছে। প্রয়োজনীয় সব লাইসেন্স হস্তগত করার পর গত জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে এই পরীক্ষা চালিয়ে আসছিল কোম্পানিটি। সরকারি মূল্য অনুমোদন মিললেই আগামী মাস থেকে প্রতিষ্ঠানটি বাণিজ্যিকভাবে এই অ্যান্টিবায়োটিক বাজারে সরবরাহ করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করছে। এর মাধ্যমে এনএসোইজেড-এর প্রথম কোনো কোম্পানি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ওষুধ উৎপাদন শুরু করল দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এই ওষুধ প্রস্তুতকারক।

মিরসরাই-ফেনী অর্থনৈতিক অঞ্চলে হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসকে মোট ৪০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ২০২২ সালে বরাদ্দপ্রাপ্ত বাড়তি ১০ একর জমিও অন্তর্ভুক্ত। এই প্রকল্পে কোম্পানিটির প্রস্তাবিত মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৪০০ মিলিয়ন ডলার। বর্তমানে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে গড়ে তোলা এই ইউনিটে ইতোমধ্যেই প্রায় ৩০০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের সিইও মো. হালিমুজ্জামান জানান, এনএসোইজেড-এ এটি একটি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র পেনিসিলিন উৎপাদন কারখানা। পেনিসিলিন তৈরির জন্য বিশেষায়িত আলাদা উৎপাদন ব্যবস্থার প্রয়োজন হওয়ায় একই স্থাপনায় অন্য কোনো ধরনের ওষুধ উৎপাদন করা সম্ভব নয়।

দেশে পেনিসিলিন উৎপাদনের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে পরবর্তী প্রজন্মের ‘সেফালোস্পোরিন’ অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বেশি হওয়ায় স্থানীয় খুব কম কোম্পানিই পেনিসিলিন উৎপাদনে আগ্রহ দেখায়। তবে বিশ্ববাজারে এখনো সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক হলো পেনিসিলিন। সেই বৈশ্বিক সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়েই বিশ্বমানের এই পেনিসিলিন ফেসিলিটি গড়ে তোলা হয়েছে। এই কারখানার মাধ্যমে ভবিষ্যতে কেবল হেলথকেয়ারের নিজস্ব ব্র্যান্ডই নয়, বরং অন্যান্য দেশীয় ওষুধ কোম্পানির জন্যও পেনিসিলিন উৎপাদনের সুযোগ থাকবে। একইসঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির একটি বড় সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে।

প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা অনুযায়ী এই কারখানায় ফিনিশড ওষুধপণ্যের পাশাপাশি ওষুধের মূল কাঁচামাল বা অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রিডিয়েন্টস (এপিআই) তৈরির কথা থাকলেও এনএসোইজেড-এ এখনই এপিআই উৎপাদন শুরু হচ্ছে না। তবে মুন্সিগঞ্জের এপিআই পার্কে প্রথম কোম্পানি হিসেবে উৎপাদন শুরু করা হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস সেখানে বর্তমানে সফলভাবে বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে।

1 October 2026

৬০০কোটি টাকার নতুন ওষুধ কারখানা: বাজারজাত হচ্ছে দেশীয় পেনিসিলিন

Spread the love
জনপ্রিয়

ঢাবি: ‘শহীদ ওসমান হাদি’ মুছে ফিরছে “শেখ মুজিবুর রহমান হল”

৬০০কোটি টাকার নতুন ওষুধ কারখানা: বাজারজাত হচ্ছে দেশীয় পেনিসিলিন

আপডেট সময় : ০১:৩২:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) অধীনস্থ ন্যাশনাল স্পেশাল ইকোনমিক জোনে (এনএসোইজেড) ওষুধ উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। প্রায় ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে নির্মিত নিজেদের নতুন কারখানায় প্রতিষ্ঠানটি সফলভাবে পেনিসিলিনের পরীক্ষামূলক উৎপাদন শেষ করেছে। প্রয়োজনীয় সব লাইসেন্স হস্তগত করার পর গত জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে এই পরীক্ষা চালিয়ে আসছিল কোম্পানিটি। সরকারি মূল্য অনুমোদন মিললেই আগামী মাস থেকে প্রতিষ্ঠানটি বাণিজ্যিকভাবে এই অ্যান্টিবায়োটিক বাজারে সরবরাহ করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করছে। এর মাধ্যমে এনএসোইজেড-এর প্রথম কোনো কোম্পানি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ওষুধ উৎপাদন শুরু করল দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এই ওষুধ প্রস্তুতকারক।

মিরসরাই-ফেনী অর্থনৈতিক অঞ্চলে হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসকে মোট ৪০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ২০২২ সালে বরাদ্দপ্রাপ্ত বাড়তি ১০ একর জমিও অন্তর্ভুক্ত। এই প্রকল্পে কোম্পানিটির প্রস্তাবিত মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৪০০ মিলিয়ন ডলার। বর্তমানে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে গড়ে তোলা এই ইউনিটে ইতোমধ্যেই প্রায় ৩০০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের সিইও মো. হালিমুজ্জামান জানান, এনএসোইজেড-এ এটি একটি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র পেনিসিলিন উৎপাদন কারখানা। পেনিসিলিন তৈরির জন্য বিশেষায়িত আলাদা উৎপাদন ব্যবস্থার প্রয়োজন হওয়ায় একই স্থাপনায় অন্য কোনো ধরনের ওষুধ উৎপাদন করা সম্ভব নয়।

দেশে পেনিসিলিন উৎপাদনের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে পরবর্তী প্রজন্মের ‘সেফালোস্পোরিন’ অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বেশি হওয়ায় স্থানীয় খুব কম কোম্পানিই পেনিসিলিন উৎপাদনে আগ্রহ দেখায়। তবে বিশ্ববাজারে এখনো সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক হলো পেনিসিলিন। সেই বৈশ্বিক সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়েই বিশ্বমানের এই পেনিসিলিন ফেসিলিটি গড়ে তোলা হয়েছে। এই কারখানার মাধ্যমে ভবিষ্যতে কেবল হেলথকেয়ারের নিজস্ব ব্র্যান্ডই নয়, বরং অন্যান্য দেশীয় ওষুধ কোম্পানির জন্যও পেনিসিলিন উৎপাদনের সুযোগ থাকবে। একইসঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির একটি বড় সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে।

প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা অনুযায়ী এই কারখানায় ফিনিশড ওষুধপণ্যের পাশাপাশি ওষুধের মূল কাঁচামাল বা অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রিডিয়েন্টস (এপিআই) তৈরির কথা থাকলেও এনএসোইজেড-এ এখনই এপিআই উৎপাদন শুরু হচ্ছে না। তবে মুন্সিগঞ্জের এপিআই পার্কে প্রথম কোম্পানি হিসেবে উৎপাদন শুরু করা হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস সেখানে বর্তমানে সফলভাবে বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে।

1 October 2026

৬০০কোটি টাকার নতুন ওষুধ কারখানা: বাজারজাত হচ্ছে দেশীয় পেনিসিলিন

Spread the love