১১:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৈয়দপুরে সাড়ে ৩১ কোটি টাকার সড়ক সংস্কার কাজে ধীরগতি

সৈয়দপুরে সাড়ে ৩১ কোটি টাকার সড়ক সংস্কার কাজে ধীরগতি

নীলফামারীর সৈয়দপুরে তামান্না থেকে ওয়াপদা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কার কাজে ধীরগতির কারণে চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় সাড়ে ৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান এ সড়ক সংস্কার কাজ কয়েক মাস ধরে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে এগোচ্ছে। কখনো কাজ চলছে, আবার কখনো কাজ বন্ধ রেখে চলে যাচ্ছেন ঠিকাদার ও শ্রমিকরা। এতে সড়কজুড়ে ভোগান্তির পাশাপাশি যানজটও নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ শুরুর পর কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি নেই। মাঝে মধ্যে কাজ বন্ধ থাকায় সড়কের বিভিন্ন অংশে খানাখন্দ, নির্মাণসামগ্রী ও চলাচলের অনুপযোগী পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে গোলাহাট এলাকায় গিয়ে কাজের গতি অনেকটা থমকে গেছে। ফলে ব্যস্ততম এ সড়কে দিনের পাশাপাশি রাতেও যানজট তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, সড়কটি দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্ত করতে সংস্কার কাজ শুরু হওয়ায় তারা খুশি। কাজের মান নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও জনগণের প্রত্যাশা যেভাবেই হোক দ্রুত ও টেকসইভাবে সড়কটির কাজ শেষ করে যান চলাচলের উপযোগী করা হোক।
অভিযোগ রয়েছে, কাজটি কয়েক হাত বদলের পর বিভিন্নভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তদারকি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ঠিকাদারের নিয়োজিত লোকজনের কাছে কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাব্য সময় জানতে চাইলেও নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
সড়কটি সৈয়দপুর শহরের অন্যতম ব্যস্ততম সড়ক। প্রতিদিন এ পথে বিপুলসংখ্যক ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করে। ফলে সংস্কারকাজ চলমান থাকায় যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে গোলাহাট এলাকায় কখনো কখনো ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট দেখা দেয়। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সৈয়দপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক শ্রেষ্ঠ কাউন্সিলর, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. আক্তার হোসেন ফেকু বলেন, কয়েক মাস ধরে সড়কটির কাজ চলছে। কাজ শুরুর পর থেকে যদি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যথাযথভাবে ও পরিকল্পিতভাবে কাজ করত, তাহলে এতদিনে কাজ শেষ হয়ে যেত। কিন্তু কাজের ধীরগতির কারণে জনদুর্ভোগ দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে গোলাহাট এলাকায় কাজ থমকে যাওয়ায় যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সড়কের কাজ শেষ করার দাবি জানান।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন সৈয়দপুর উপজেলা শাখার সভাপতি ও সাংবাদিক মো. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন এ সড়ক ব্যবহার করে। তাই জনদুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করা জরুরি। কিন্তু কেন কাজের গতি এত ধীর, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মতভাবে কাজ শেষ করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি দাবি করেন।
এদিকে সড়ক সংস্কারকাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। কাজের ধীরগতি, বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং কাজের মান নিয়ে অভিযোগ থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসানে সড়কটি পাকা ও উন্নত হওয়া জরুরি। তাই কাজ বন্ধ রেখে সময়ক্ষেপণ না করে প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে স্বচ্ছতা ও মান বজায় রেখে দ্রুত কাজ শেষ করতে হবে। একই সঙ্গে সড়কের কাজের মান ও অগ্রগতি নিয়মিতভাবে তদারকি করে অনিয়ম কিংবা গাফিলতি থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

31 October 2026

সৈয়দপুরে সাড়ে ৩১ কোটি টাকার সড়ক সংস্কার কাজে ধীরগতি

Spread the love
জনপ্রিয়
গ্রামীণফোনের ৯ মাসের মুনাফায় পতন, তৃতীয় প্রান্তিকে আয় অপরিবর্তিত
গ্রামীণফোনের ৯ মাসের মুনাফায় পতন, তৃতীয় প্রান্তিকে আয় অপরিবর্তিত

কল্যাণপুরে মোহাম্মদপুরের নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মশাল মিছিল

সৈয়দপুরে সাড়ে ৩১ কোটি টাকার সড়ক সংস্কার কাজে ধীরগতি

আপডেট সময় : ০৫:২৮:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নীলফামারীর সৈয়দপুরে তামান্না থেকে ওয়াপদা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কার কাজে ধীরগতির কারণে চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় সাড়ে ৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান এ সড়ক সংস্কার কাজ কয়েক মাস ধরে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে এগোচ্ছে। কখনো কাজ চলছে, আবার কখনো কাজ বন্ধ রেখে চলে যাচ্ছেন ঠিকাদার ও শ্রমিকরা। এতে সড়কজুড়ে ভোগান্তির পাশাপাশি যানজটও নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ শুরুর পর কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি নেই। মাঝে মধ্যে কাজ বন্ধ থাকায় সড়কের বিভিন্ন অংশে খানাখন্দ, নির্মাণসামগ্রী ও চলাচলের অনুপযোগী পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে গোলাহাট এলাকায় গিয়ে কাজের গতি অনেকটা থমকে গেছে। ফলে ব্যস্ততম এ সড়কে দিনের পাশাপাশি রাতেও যানজট তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, সড়কটি দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্ত করতে সংস্কার কাজ শুরু হওয়ায় তারা খুশি। কাজের মান নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও জনগণের প্রত্যাশা যেভাবেই হোক দ্রুত ও টেকসইভাবে সড়কটির কাজ শেষ করে যান চলাচলের উপযোগী করা হোক।
অভিযোগ রয়েছে, কাজটি কয়েক হাত বদলের পর বিভিন্নভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তদারকি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ঠিকাদারের নিয়োজিত লোকজনের কাছে কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাব্য সময় জানতে চাইলেও নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
সড়কটি সৈয়দপুর শহরের অন্যতম ব্যস্ততম সড়ক। প্রতিদিন এ পথে বিপুলসংখ্যক ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করে। ফলে সংস্কারকাজ চলমান থাকায় যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে গোলাহাট এলাকায় কখনো কখনো ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট দেখা দেয়। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সৈয়দপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক শ্রেষ্ঠ কাউন্সিলর, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. আক্তার হোসেন ফেকু বলেন, কয়েক মাস ধরে সড়কটির কাজ চলছে। কাজ শুরুর পর থেকে যদি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যথাযথভাবে ও পরিকল্পিতভাবে কাজ করত, তাহলে এতদিনে কাজ শেষ হয়ে যেত। কিন্তু কাজের ধীরগতির কারণে জনদুর্ভোগ দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে গোলাহাট এলাকায় কাজ থমকে যাওয়ায় যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সড়কের কাজ শেষ করার দাবি জানান।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন সৈয়দপুর উপজেলা শাখার সভাপতি ও সাংবাদিক মো. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন এ সড়ক ব্যবহার করে। তাই জনদুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করা জরুরি। কিন্তু কেন কাজের গতি এত ধীর, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মতভাবে কাজ শেষ করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি দাবি করেন।
এদিকে সড়ক সংস্কারকাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। কাজের ধীরগতি, বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং কাজের মান নিয়ে অভিযোগ থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসানে সড়কটি পাকা ও উন্নত হওয়া জরুরি। তাই কাজ বন্ধ রেখে সময়ক্ষেপণ না করে প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে স্বচ্ছতা ও মান বজায় রেখে দ্রুত কাজ শেষ করতে হবে। একই সঙ্গে সড়কের কাজের মান ও অগ্রগতি নিয়মিতভাবে তদারকি করে অনিয়ম কিংবা গাফিলতি থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

31 October 2026

সৈয়দপুরে সাড়ে ৩১ কোটি টাকার সড়ক সংস্কার কাজে ধীরগতি

Spread the love