০৯:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাইবার আইনে সাংবাদিক গ্রেফতারে আদালতের অনুমতি নেওয়ার প্রস্তাব

সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়ায় সাংবাদিকদের অন্যায়ভাবে হয়রানি ও ভিকটিমাইজেশন ঠেকাতে গ্রেফতারের আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, প্রস্তাবটি তার কাছেও উপযুক্ত মনে হয়েছে।

আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে এ-সংক্রান্ত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টের সংশোধনী আনার জন্য তৈরি করা খসড়াটি মন্ত্রিসভায় আলোচনা হয়েছে। পরে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজন, সাইবার স্পেসে কাজ করা ব্যক্তি এবং আইটি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, আইনটি যাতে কোনোভাবেই নিপীড়নমূলক আইনে পরিণত না হয়, সে জন্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মতামত নিতে খসড়াটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষার্থীসহ অনেকে মতামত দিয়েছেন। এসব মতামত সংকলন করা হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের উল্লেখযোগ্য প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধি, সম্পাদক, বিশিষ্ট সাংবাদিক, সংবাদপত্রের সংগঠন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। সোমবারের বৈঠকটি ছিল এ বিষয়ে দ্বিতীয় বৈঠক।

তিনি জানান, এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে পরবর্তী সভায় সংশ্লিষ্টদের লিখিতভাবে, ওয়েবসাইটে অথবা সরাসরি বৈঠকে তাদের সুস্পষ্ট মতামত দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। অনেকেই লিখিত মতামত দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সোমবারের বৈঠকে সম্পাদক মাহফুজ আনাম প্রস্তাব করেছেন, মিডিয়া ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে আরও সময় নিয়ে মতামত নেওয়া এবং গণমাধ্যম যাতে ক্ষতিগ্রস্ত বা ভিকটিমাইজড না হয়, সে জন্য আইনে সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা রাখা। সরকার এ প্রস্তাব গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, ‘সবার আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়েই আইনটা সমৃদ্ধ হবে। এখানে আমরা মিডিয়াকে টার্গেট করে আইনটা করতে চাইনি, চাই না এবং কোনো সাংবাদিক এটার শিকার হোক, এই আইনের অপপ্রয়োগ হোক, সেটা আমরা চাই না।’

সাংবাদিকদের অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ঠেকাতে একটি প্রস্তাব করা হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবাদপত্র, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে, বিশেষ করে গ্রেফতারের আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হতে পারে। তিনি এ প্রস্তাবকে উপযুক্ত মনে করছেন বলে জানান।

এ ছাড়া আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এতে কোনো মামলা বা আবেদন অনির্দিষ্টকাল ঝুলে থাকবে না বলে আশা করা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্টদের সুপারিশ সমন্বয়ের জন্য পিআইওকে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এ কার্যক্রম সমন্বয় করবে। এতে সম্পাদক পরিষদের প্রতিনিধি, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি প্যানেল থাকবে।

তিনি বলেন, আগামী ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে এসব সুপারিশ পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। এরপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মন্ত্রিসভায় পাঠানোর আগে সংশোধিত খসড়াটি আবারও ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে, যাতে সংশ্লিষ্টরা নতুন করে মতামত দিতে পারেন।

সংসদে বিলটি গেলেও তাড়াহুড়ো করে পাস করা হবে না বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা এ নিয়ে আলোচনা করবেন। পাশাপাশি সংসদের বাইরেও বিভিন্ন সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে মতামত নেওয়া হবে।

সব পক্ষের মতামত নিয়ে এমন একটি আইন প্রণয়নের লক্ষ্য রয়েছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এর মাধ্যমে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে, বিশেষ করে যুবসমাজকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।

28 September 2026

সাইবার আইনে সাংবাদিক গ্রেফতারে আদালতের অনুমতি নেওয়ার প্রস্তাব

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে ককটেল সদৃশ বস্তু, ঘিরে রেখেছে এসআরবি

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

সাইবার আইনে সাংবাদিক গ্রেফতারে আদালতের অনুমতি নেওয়ার প্রস্তাব

আপডেট সময় : ০৫:৪৪:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়ায় সাংবাদিকদের অন্যায়ভাবে হয়রানি ও ভিকটিমাইজেশন ঠেকাতে গ্রেফতারের আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, প্রস্তাবটি তার কাছেও উপযুক্ত মনে হয়েছে।

আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে এ-সংক্রান্ত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টের সংশোধনী আনার জন্য তৈরি করা খসড়াটি মন্ত্রিসভায় আলোচনা হয়েছে। পরে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজন, সাইবার স্পেসে কাজ করা ব্যক্তি এবং আইটি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, আইনটি যাতে কোনোভাবেই নিপীড়নমূলক আইনে পরিণত না হয়, সে জন্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মতামত নিতে খসড়াটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষার্থীসহ অনেকে মতামত দিয়েছেন। এসব মতামত সংকলন করা হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের উল্লেখযোগ্য প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধি, সম্পাদক, বিশিষ্ট সাংবাদিক, সংবাদপত্রের সংগঠন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। সোমবারের বৈঠকটি ছিল এ বিষয়ে দ্বিতীয় বৈঠক।

তিনি জানান, এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে পরবর্তী সভায় সংশ্লিষ্টদের লিখিতভাবে, ওয়েবসাইটে অথবা সরাসরি বৈঠকে তাদের সুস্পষ্ট মতামত দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। অনেকেই লিখিত মতামত দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সোমবারের বৈঠকে সম্পাদক মাহফুজ আনাম প্রস্তাব করেছেন, মিডিয়া ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে আরও সময় নিয়ে মতামত নেওয়া এবং গণমাধ্যম যাতে ক্ষতিগ্রস্ত বা ভিকটিমাইজড না হয়, সে জন্য আইনে সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা রাখা। সরকার এ প্রস্তাব গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, ‘সবার আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়েই আইনটা সমৃদ্ধ হবে। এখানে আমরা মিডিয়াকে টার্গেট করে আইনটা করতে চাইনি, চাই না এবং কোনো সাংবাদিক এটার শিকার হোক, এই আইনের অপপ্রয়োগ হোক, সেটা আমরা চাই না।’

সাংবাদিকদের অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ঠেকাতে একটি প্রস্তাব করা হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবাদপত্র, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে, বিশেষ করে গ্রেফতারের আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হতে পারে। তিনি এ প্রস্তাবকে উপযুক্ত মনে করছেন বলে জানান।

এ ছাড়া আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এতে কোনো মামলা বা আবেদন অনির্দিষ্টকাল ঝুলে থাকবে না বলে আশা করা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্টদের সুপারিশ সমন্বয়ের জন্য পিআইওকে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এ কার্যক্রম সমন্বয় করবে। এতে সম্পাদক পরিষদের প্রতিনিধি, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি প্যানেল থাকবে।

তিনি বলেন, আগামী ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে এসব সুপারিশ পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। এরপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মন্ত্রিসভায় পাঠানোর আগে সংশোধিত খসড়াটি আবারও ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে, যাতে সংশ্লিষ্টরা নতুন করে মতামত দিতে পারেন।

সংসদে বিলটি গেলেও তাড়াহুড়ো করে পাস করা হবে না বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা এ নিয়ে আলোচনা করবেন। পাশাপাশি সংসদের বাইরেও বিভিন্ন সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে মতামত নেওয়া হবে।

সব পক্ষের মতামত নিয়ে এমন একটি আইন প্রণয়নের লক্ষ্য রয়েছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এর মাধ্যমে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে, বিশেষ করে যুবসমাজকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।

28 September 2026

সাইবার আইনে সাংবাদিক গ্রেফতারে আদালতের অনুমতি নেওয়ার প্রস্তাব