ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ভারতে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্প্রতি তাঁর আওয়ামী লীগ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বাংলাদেশে ফেরার প্রস্তুতি এবং নির্বাসন অবসানের জল্পনার মধ্যেই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MEA) এ বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানো হলে, তা সম্পূর্ণভাবে দ্বিপাক্ষিক আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে নিশ্চিত করেছেন যে, এই বিষয়ে ভারতের পূর্ববর্তী অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
এদিকে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের এই খবরকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। সরকারের তথ্য ও কৌশল বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন যে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে চাইলে সরকার তাঁকে স্বাগত জানায় এবং দেশের মানুষ চায় তিনি আদালতের মুখোমুখি হয়ে বিচার প্রক্রিয়ার সম্মুখীন হোন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনাকে তাঁর অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ড দেয়, যার পর থেকেই তাঁকে প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ। তবে শেখ হাসিনা শুরু থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন ও নতুন সমীকরণ তৈরি হলেও দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের পক্ষে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি প্রতিনিধিত্ব করেন এবং পরবর্তীতে এপ্রিলে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমানও নয়াদিল্লি সফর করেন। সংবাদ সংস্থা পিটিআইসহ বিভিন্ন সূত্রের দাবি, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে চলতি বছরের শেষের দিকেই শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরতে পারেন, যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত তাঁর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।














