০৯:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাহজালাল বিমানবন্দরে জালিয়াতি চক্রের তৎপরতা, উদ্ধার ১৬ কেজি স্বর্ণ

  • আপডেট সময় : ০৩:১৭:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 81

শাহজালাল বিমানবন্দরে জালিয়াতি চক্রের তৎপরতা, উদ্ধার ১৬ কেজি স্বর্ণ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ফলের ক্যারেটের কাঠের পাটাতনের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১৬ কেজি স্বর্ণের বার উদ্ধারের ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কার্গো শাখার নিরাপত্তা, পণ্য ছাড়করণ প্রক্রিয়া এবং অভ্যন্তরীণ তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। গত ১৯ জুলাই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান চালিয়ে কার্গো কমপ্লেক্সের ৮(এ) নম্বর গেট এলাকায় একটি ফলের চালান শনাক্ত করা হয়। পরে কাস্টমস হাউসের ৯ নম্বর গেটে নিয়ে স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে কাঠের পাটাতনে স্বর্ণের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। পরবর্তীতে কাঠের পাটাতন খুলে স্কচটেপে মোড়ানো এক কেজি ওজনের ১৬টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। উক্ত চালানের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘Food Link’-এর স্বত্বাধিকারী মো. গোলাম মোস্তফাসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করা হয়েছে। চালানটি খালাসে ‘A. RAZZAQUE TRADING’ নামের সিএন্ডএফ এজেন্ট এবং ‘FASTRACK CARGO SOLUTIONS LTD.’ নামের ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার প্রতিষ্ঠান যুক্ত ছিল। পুরো প্রক্রিয়াটি বিমান সিকিউরিটির বডি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়।

এই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ফলের চালানের মধ্যে লুকিয়ে কার্গো এলাকা পর্যন্ত পৌঁছানোর ঘটনায় বিমানবন্দরের নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঢাকা কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার জানান, কার্গো এলাকায় কাস্টমসের নিজস্ব স্ক্যানার না থাকায় অনেক পণ্য ম্যানুয়ালি পরীক্ষা করতে হয় এবং স্ক্যানিং মেশিন স্থাপনের জন্য একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। অন্যদিকে বেবিচকের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত বলে দাবি করা হলেও, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সাল থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে মোট ৬০ কেজি ১৮৭ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে, যা কার্গো নিরাপত্তার দুর্বলতাকে স্পষ্টভাবে সামনে আনে।

স্বর্ণ উদ্ধারের এই ঘটনার পাশাপাশি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কার্গো শাখার সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মো. মইনউদ্দিন লোটাসের বিরুদ্ধে ঘুষ, চাঁদাবাজি, রোস্টার ম্যানিপুলেশন, ভুয়া এক্সিট নম্বর ব্যবহার করে রাজস্ব ফাঁকি ও পণ্য ছাড়করণের মারাত্মক সব অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কার্গো বিভাগের ৩৭৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগে জানানো হয়, গুরুত্বপূর্ণ সেকশনগুলোতে প্রভাব খাটিয়ে নিজের ডিউটি নেওয়া এবং সিএন্ডএফ এজেন্ট ও ফরওয়ার্ডারদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটছে। অভিযোগে চীন থেকে আসা ১,৯২১ কেজির একটি ইলেকট্রনিক্স পণ্যের চালান (এয়ারওয়ে বিল ৭৮৪-৬৯২৫৩৩৬৫) এবং ৩,২৩৯ কেজির আরেকটি চালানের (এয়ারওয়ে বিল ৬১৯-১০৭৭১৬৮১) কাগজপত্র জালিয়াতি করে গায়েব করা ও সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার প্রমাণ উল্লেখ করা হয়েছে।

কার্গো শাখার ডিউটি বণ্টন ও রোস্টার প্রণয়নে অস্বচ্ছতার পাশাপাশি অতিরিক্ত কাজের নামে অবৈধ ‘বকশিশ’ লেনদেনের লিখিত প্রমাণও সামনে এসেছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা মইনউদ্দিন বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে এবং সত্যতা প্রমাণিত হলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

4 November 2026

শাহজালাল বিমানবন্দরে জালিয়াতি চক্রের তৎপরতা, উদ্ধার ১৬ কেজি স্বর্ণ

Spread the love
জনপ্রিয়
গ্রামীণফোনের ৯ মাসের মুনাফায় পতন, তৃতীয় প্রান্তিকে আয় অপরিবর্তিত
গ্রামীণফোনের ৯ মাসের মুনাফায় পতন, তৃতীয় প্রান্তিকে আয় অপরিবর্তিত

মোহাম্মদপুরে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান,বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার ৩৬

শাহজালাল বিমানবন্দরে জালিয়াতি চক্রের তৎপরতা, উদ্ধার ১৬ কেজি স্বর্ণ

আপডেট সময় : ০৩:১৭:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ফলের ক্যারেটের কাঠের পাটাতনের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১৬ কেজি স্বর্ণের বার উদ্ধারের ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কার্গো শাখার নিরাপত্তা, পণ্য ছাড়করণ প্রক্রিয়া এবং অভ্যন্তরীণ তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। গত ১৯ জুলাই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান চালিয়ে কার্গো কমপ্লেক্সের ৮(এ) নম্বর গেট এলাকায় একটি ফলের চালান শনাক্ত করা হয়। পরে কাস্টমস হাউসের ৯ নম্বর গেটে নিয়ে স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে কাঠের পাটাতনে স্বর্ণের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। পরবর্তীতে কাঠের পাটাতন খুলে স্কচটেপে মোড়ানো এক কেজি ওজনের ১৬টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। উক্ত চালানের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘Food Link’-এর স্বত্বাধিকারী মো. গোলাম মোস্তফাসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করা হয়েছে। চালানটি খালাসে ‘A. RAZZAQUE TRADING’ নামের সিএন্ডএফ এজেন্ট এবং ‘FASTRACK CARGO SOLUTIONS LTD.’ নামের ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার প্রতিষ্ঠান যুক্ত ছিল। পুরো প্রক্রিয়াটি বিমান সিকিউরিটির বডি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়।

এই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ফলের চালানের মধ্যে লুকিয়ে কার্গো এলাকা পর্যন্ত পৌঁছানোর ঘটনায় বিমানবন্দরের নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঢাকা কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার জানান, কার্গো এলাকায় কাস্টমসের নিজস্ব স্ক্যানার না থাকায় অনেক পণ্য ম্যানুয়ালি পরীক্ষা করতে হয় এবং স্ক্যানিং মেশিন স্থাপনের জন্য একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। অন্যদিকে বেবিচকের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত বলে দাবি করা হলেও, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সাল থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে মোট ৬০ কেজি ১৮৭ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে, যা কার্গো নিরাপত্তার দুর্বলতাকে স্পষ্টভাবে সামনে আনে।

স্বর্ণ উদ্ধারের এই ঘটনার পাশাপাশি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কার্গো শাখার সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মো. মইনউদ্দিন লোটাসের বিরুদ্ধে ঘুষ, চাঁদাবাজি, রোস্টার ম্যানিপুলেশন, ভুয়া এক্সিট নম্বর ব্যবহার করে রাজস্ব ফাঁকি ও পণ্য ছাড়করণের মারাত্মক সব অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কার্গো বিভাগের ৩৭৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগে জানানো হয়, গুরুত্বপূর্ণ সেকশনগুলোতে প্রভাব খাটিয়ে নিজের ডিউটি নেওয়া এবং সিএন্ডএফ এজেন্ট ও ফরওয়ার্ডারদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটছে। অভিযোগে চীন থেকে আসা ১,৯২১ কেজির একটি ইলেকট্রনিক্স পণ্যের চালান (এয়ারওয়ে বিল ৭৮৪-৬৯২৫৩৩৬৫) এবং ৩,২৩৯ কেজির আরেকটি চালানের (এয়ারওয়ে বিল ৬১৯-১০৭৭১৬৮১) কাগজপত্র জালিয়াতি করে গায়েব করা ও সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার প্রমাণ উল্লেখ করা হয়েছে।

কার্গো শাখার ডিউটি বণ্টন ও রোস্টার প্রণয়নে অস্বচ্ছতার পাশাপাশি অতিরিক্ত কাজের নামে অবৈধ ‘বকশিশ’ লেনদেনের লিখিত প্রমাণও সামনে এসেছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা মইনউদ্দিন বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে এবং সত্যতা প্রমাণিত হলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

4 November 2026

শাহজালাল বিমানবন্দরে জালিয়াতি চক্রের তৎপরতা, উদ্ধার ১৬ কেজি স্বর্ণ

Spread the love