শরীয়তপুর সদর উপজেলার রুদ্রকর নীলমনি উচ্চ বিদ্যালয়ে অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে অভিভাবক সদস্য নির্বাচন এবং কমিটি গঠনের নামে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে জাল নথিপত্র তৈরি করে অন্য স্কুলের এক শিক্ষার্থীকে খাতায় ভর্তি দেখানো এবং তার বাবাকে ম্যানেজিং কমিটির ‘অভিভাবক সদস্য’ বানানোর অভিযোগ এনেছেন স্থানীয় অভিভাবকরা। এই বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়ে তারা ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন।
অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, স্থানীয় আঙ্গারিয়া ইবনে তাসলিমা নাসির স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির এক নিয়মিত শিক্ষার্থীকে জাল দলিলের মাধ্যমে রুদ্রকর নীলমনি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি দেখানো হয়। মূলত ওই শিক্ষার্থীর বাবাকে নিয়মবহির্ভূতভাবে অভিভাবক সদস্য হিসেবে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করতেই এমন জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল বলে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি। পরবর্তীতে ঘটনাটি জানাজানি হলে তা ধামাচাপা দিতে নতুন করে আবার ভর্তির প্রক্রিয়া দেখানো হয়।
এছাড়া প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ম্যানেজিং কমিটির পদ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে। বিদ্যালয়ের সাবেক প্রতিনিধি ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, এক ব্যক্তিকে সভাপতি করার কথা বলে টাকা নেওয়া হলেও কাজ না হওয়ায় পরবর্তীতে সেই অর্থ কর্মচারীর মাধ্যমে ফেরত দেওয়া হয়। তবে এসব অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের সমস্ত দাবি অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক এগুলোকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
সার্বিক বিষয়ে শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে লিখিত অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা মিললে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।














