আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে যেকোনো মূল্যে জনগণের আস্থা অর্জন করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একইসঙ্গে এই নির্বাচন সম্পূর্ণ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে উল্লেখ করে এতে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে ঢাকার গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রংপুর বিভাগের নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট জেলা এবং রংপুর মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আয়োজিত এক সাংগঠনিক সভায় তিনি এই নির্দেশনা দেন। গত জাতীয় নির্বাচনে কোথায় কী ভুলত্রুটি হয়েছিল, সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিতেও দলের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
দলকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে ধারাবাহিকভাবে ছুটির দিনে এই সাংগঠনিক সভাগুলো করছেন তারেক রহমান। সভায় তিনি স্থানীয়ভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিএনপির একক প্রার্থী বাছাইয়ের কড়া নির্দেশ দেন, যাতে কোনো অবস্থাতেই একাধিক প্রার্থী মাঠে না থাকে। এর পাশাপাশি দ্রুত সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে জনগণের প্রতি নেতাকর্মীদের দায়বদ্ধতার বিষয়টিও তিনি গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ করিয়ে দেন। দায়িত্বশীল নেতারা জানান, আসন্ন জাতীয় কাউন্সিলের আগে চেয়ারম্যান তৃণমূলের মূল অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন এবং রাজনীতিতে ত্যাগী ও তরুণদের মূল্যায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এই বৈঠককে সংগঠনের ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ বলে উল্লেখ করেন। এতে অংশ নেওয়া গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন জানান, মূলত দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা, অতীতে ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং একক প্রার্থী দেওয়ার বিষয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এর আগে ১৯ জুলাই ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুরের নেতাদের সঙ্গে এবং চলতি মাসের শুরুতে ঢাকা জেলা, মহানগর দক্ষিণ ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সঙ্গেও অনুরূপ সভা সম্পন্ন হয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে সার্বিক পুনর্গঠন কাজ শেষ করতে চান বিএনপি প্রধান।
বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবীব দুলু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল খালেক, শামীম কায়সার লিংকন এমপি এবং আমিনুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।













