মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার পশ্চিমজুড়ী ইউনিয়নের বাছিরপুর মৌজায় দীর্ঘদিন ধরে বিরোধপূর্ণ প্রায় ৩ একর ৭ শতক জমির মালিকানা আদালতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দাবি করেছে মালিকপক্ষ। আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পশ্চিমজুড়ী ইউনিয়ন জনমিলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জমির মূল মালিক শ্রী নিখিল চন্দ্র দাসের ছেলে শ্রীনিবাস চন্দ্র দাস (চুনু) এই দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, বাছিরপুর মৌজার এসএ ১২৫ ও আরএস ২৬০ খতিয়ানের আওতাধীন ৩ একর ৭ শতক জমির মূল মালিক ছিলেন দুই সহোদর জিতেন্দ্র কুমার দাস ও বারিন্ড কুমার দাস। বারিন্ড কুমার দাস নিঃসন্তান অবস্থায় মারা যাওয়ায় এবং জিতেন্দ্র দাসের অন্য দুই ছেলে দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকায়, মৃত্যুর আগে তিনি জ্যেষ্ঠ ছেলে নিখিল চন্দ্র দাসকে সম্পূর্ণ সম্পত্তি দলিল করে দেন। তবে স্বাধীনতার পর জমিটি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে সরকারি নথিতে অন্তর্ভুক্ত হয়। পরবর্তীতে এলাকার প্রভাবশালী আং ছালাম, আং কাদির, নজরুল ইসলাম ও রজব আলীসহ কয়েকজন ২ একর ৮২ শতক জমি একসনা বন্দোবস্ত নিয়ে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন।
নিজের স্বত্ব ফিরে পেতে ২০০৮ সালে আদালতের দ্বারস্থ হন নিখিল চন্দ্র দাস। দীর্ঘ দেড় যুগের আইনি লড়াই শেষে সম্প্রতি আদালতের রায়ে তাঁর স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় এবং জমিটির নামজারি সম্পন্ন হয়। এর প্রেক্ষিতে জমিতে থাকা অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে প্রকৃত মালিকের কাছে দখল বুঝিয়ে দিতে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি এলাকার আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় স্থানীয় সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৬ আগস্ট সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি হিসেবে জুড়ী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান চুনু ও বিএনপি নেতা নাজমুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ওই সময়ে জমিতে থাকা দখলদাররা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরিবেশ ঘোলাটে করে এবং সাংবাদিকদের ডেকে জমি দখলের মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ তুলে অপপ্রচার চালায়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান এবং আইনি রায়ের ভিত্তিতে প্রশাসনের সহায়তায় দ্রুত জমিটি প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তরের জোর দাবি জানান। একই সাথে সাংবাদিকদের কাছে সত্য ও নিরপেক্ষ তথ্য তুলে ধরার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।























