মাগুরায় এক আবাসিক গ্রাহকের মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ (প্রায় ৫০৭ কোটি) টাকার এক ভূতুড়ে ও অবাস্তব বিদ্যুৎ বিল ইস্যুর ঘটনা ঘটেছে। মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে গত সেপ্টেম্বর মাসে এই বিলটি দেওয়া হয়। অকল্পনীয় এই বিলের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি হয়।
এই ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও তীব্র দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। ঘটনাটি জানার পর মন্ত্রী নিজেই ভুক্তভোগী গ্রাহকের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনা এবং এর ফলে গ্রাহক যে মানসিক ভোগান্তি ও উদ্বেগের শিকার হয়েছেন, সে জন্য মন্ত্রী আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান যে ইতোমধ্যে ভুল বিলটি সংশোধন করে সঠিক বিল গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা সরাসরি কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরামর্শ দিয়ে মন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বর্তমান সরকার একটি জনবান্ধব ও সেবাধর্মী প্রশাসন নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
এদিকে মন্ত্রীর জরুরি নির্দেশনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. মহিতুল ইসলামকে তাৎক্ষণিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মইনুল হাসানের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয় এবং বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মিটার পরিবর্তনের সময় যান্ত্রিক অসাবধানতাবশত সিল নম্বরের সংখ্যাগুলো ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হওয়ার কারণে এই অস্বাভাবিক ভুলের সৃষ্টি হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ মন্ত্রী।























