১১:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আট মাসেও এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায়নি হিন্দুধর্ম শিক্ষা বই

আট মাসেও এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায়নি হিন্দুধর্ম শিক্ষা বই

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে শিক্ষাবর্ষের আট মাস পেরিয়ে গেলেও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায়নি হিন্দুধর্ম শিক্ষা বই। উপজেলার সুন্দরদিঘী শিবেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ৩১ জন হিন্দু শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৪ জনই এখনো বই পায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয়ে সরেজমিন গিয়ে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা যায়। বই না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বিউটি রানী, নন্দিতা শর্মা, প্রণব রায়, অনুপ দায়, সত্যজিৎ রায়সহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী।

প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি শিক্ষাবর্ষের শুরুর আগেই ডিসেম্বরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পাঠ্যবই বিতরণ করা হয়। পরে কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয়গুলোতেও বই দেওয়া হয়। দেবীগঞ্জ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক ও কিণ্ডারগার্টেন বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে এ বছর হিন্দু শিক্ষার্থীর সংখ্যা মোট ১ হাজার ২৮২ জন। তাদের জন্য হিন্দুধর্ম শিক্ষা বইয়ের চাহিদাও ছিল ১ হাজার ২৮২টি এবং শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী সমসংখ্যক বই সরবরাহ করা হয়েছে।

তবে সুন্দরদিঘী শিবেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। বিদ্যালয়টির পঞ্চম শ্রেণিতে হিন্দু শিক্ষার্থী ৩১ জন হলেও তাদের মধ্যে ২৪ জনই এখনো হিন্দুধর্ম শিক্ষা বই পায়নি। ফলে শিক্ষাবর্ষের আট মাস পেরিয়ে গেলেও এসব শিক্ষার্থী বই ছাড়াই বিষয়টি পড়াশোনা করছে।

আগস্টে দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরও বই না পাওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা। তাদের অভিযোগ, উপজেলার অন্যান্য বিদ্যালয়ের পাশাপাশি কিন্ডারগার্টেনের হিন্দু শিক্ষার্থীরাও বই পেলেও এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বই থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বই না পেয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী সহপাঠীর বই নিয়ে ফটোকপি করে পড়াশোনা করছে বলেও জানা গেছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিরিনা আক্তার বলেন, ‘‘এ বছর পঞ্চম শ্রেণির হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য চাহিদা অনুযায়ী বই পাওয়া যায়নি। যে কয়েকটা বই পেয়েছি সেটা দিয়ে শিক্ষার্থীদের গ্ৰুপ করে পড়ানো হচ্ছে। বই না পাওয়ার বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা স্যারকে জানানো হয়েছিল। তবে এখন বই পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানান তিনি।’’

ফুলবাড়ি ক্লাস্টারের দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সোহেল শাহজাদা বলেন, ‘‘গত মাসে বিদ্যালয় পরিদর্শনে গেলে আমাকে বই না পাওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। তবে প্রধান শিক্ষক নিজে বিষয়টি জানাননি, সহকারী শিক্ষক জানিয়েছিলেন। এর আগে বই না পাওয়ার বিষয়ে আমাকে কেউ কিছু জানায়নি।’’

বিদ্যালয়ের চাহিদা অনুযায়ী বই সরবরাহ করা হয়েছে কি না এবং তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শিক্ষা কর্মকর্তার কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘বই দেওয়া হয়েছে ডিসেম্বর মাসে। এখন তো মনে নেই, রেজিস্টার খাতা দেখতে হবে। তারা যে চাহিদা দিয়েছিল, সেই অনুযায়ী বই দেওয়া হয়েছে। হয়তো তারা অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করেছিল, এজন্য বই পায়নি।’’

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আজমল হোসেন বলেন, ‘‘বই বিতরণের দায়িত্ব সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের। ওই বিদ্যালয়ে বই না পাওয়ার বিষয়টি আমাকে কেউ কখনো জানায়নি।’’

এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীৎ সাহা বলেন, ‘‘বিষয়টি জানলাম। কেন এখনো শিক্ষার্থীরা বই পায়নি, সে বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’’

13 September 2026

আট মাসেও এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায়নি হিন্দুধর্ম শিক্ষা বই

জনপ্রিয়

রাজধানীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ৬২৯,সবচেয়ে বেশি মিরপুরে

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

আট মাসেও এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায়নি হিন্দুধর্ম শিক্ষা বই

আপডেট সময় : ১২:২২:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে শিক্ষাবর্ষের আট মাস পেরিয়ে গেলেও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায়নি হিন্দুধর্ম শিক্ষা বই। উপজেলার সুন্দরদিঘী শিবেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ৩১ জন হিন্দু শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৪ জনই এখনো বই পায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয়ে সরেজমিন গিয়ে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা যায়। বই না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বিউটি রানী, নন্দিতা শর্মা, প্রণব রায়, অনুপ দায়, সত্যজিৎ রায়সহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী।

প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি শিক্ষাবর্ষের শুরুর আগেই ডিসেম্বরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পাঠ্যবই বিতরণ করা হয়। পরে কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয়গুলোতেও বই দেওয়া হয়। দেবীগঞ্জ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক ও কিণ্ডারগার্টেন বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে এ বছর হিন্দু শিক্ষার্থীর সংখ্যা মোট ১ হাজার ২৮২ জন। তাদের জন্য হিন্দুধর্ম শিক্ষা বইয়ের চাহিদাও ছিল ১ হাজার ২৮২টি এবং শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী সমসংখ্যক বই সরবরাহ করা হয়েছে।

তবে সুন্দরদিঘী শিবেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। বিদ্যালয়টির পঞ্চম শ্রেণিতে হিন্দু শিক্ষার্থী ৩১ জন হলেও তাদের মধ্যে ২৪ জনই এখনো হিন্দুধর্ম শিক্ষা বই পায়নি। ফলে শিক্ষাবর্ষের আট মাস পেরিয়ে গেলেও এসব শিক্ষার্থী বই ছাড়াই বিষয়টি পড়াশোনা করছে।

আগস্টে দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরও বই না পাওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা। তাদের অভিযোগ, উপজেলার অন্যান্য বিদ্যালয়ের পাশাপাশি কিন্ডারগার্টেনের হিন্দু শিক্ষার্থীরাও বই পেলেও এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বই থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বই না পেয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী সহপাঠীর বই নিয়ে ফটোকপি করে পড়াশোনা করছে বলেও জানা গেছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিরিনা আক্তার বলেন, ‘‘এ বছর পঞ্চম শ্রেণির হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য চাহিদা অনুযায়ী বই পাওয়া যায়নি। যে কয়েকটা বই পেয়েছি সেটা দিয়ে শিক্ষার্থীদের গ্ৰুপ করে পড়ানো হচ্ছে। বই না পাওয়ার বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা স্যারকে জানানো হয়েছিল। তবে এখন বই পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানান তিনি।’’

ফুলবাড়ি ক্লাস্টারের দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সোহেল শাহজাদা বলেন, ‘‘গত মাসে বিদ্যালয় পরিদর্শনে গেলে আমাকে বই না পাওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। তবে প্রধান শিক্ষক নিজে বিষয়টি জানাননি, সহকারী শিক্ষক জানিয়েছিলেন। এর আগে বই না পাওয়ার বিষয়ে আমাকে কেউ কিছু জানায়নি।’’

বিদ্যালয়ের চাহিদা অনুযায়ী বই সরবরাহ করা হয়েছে কি না এবং তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শিক্ষা কর্মকর্তার কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘বই দেওয়া হয়েছে ডিসেম্বর মাসে। এখন তো মনে নেই, রেজিস্টার খাতা দেখতে হবে। তারা যে চাহিদা দিয়েছিল, সেই অনুযায়ী বই দেওয়া হয়েছে। হয়তো তারা অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করেছিল, এজন্য বই পায়নি।’’

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আজমল হোসেন বলেন, ‘‘বই বিতরণের দায়িত্ব সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের। ওই বিদ্যালয়ে বই না পাওয়ার বিষয়টি আমাকে কেউ কখনো জানায়নি।’’

এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীৎ সাহা বলেন, ‘‘বিষয়টি জানলাম। কেন এখনো শিক্ষার্থীরা বই পায়নি, সে বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’’

13 September 2026

আট মাসেও এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায়নি হিন্দুধর্ম শিক্ষা বই