০৭:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইন সংস্কার ও তদারকিতে জোর: বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩ মেয়াদি উদ্যোগ

  • আপডেট সময় : ০৬:০৫:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • 24

আইন সংস্কার ও তদারকিতে জোর: বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩ মেয়াদি উদ্যোগ

খেলাপি ঋণ কমাতে ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩ মেয়াদি পরিকল্পনা: আইনি কাঠামো সংস্কার ও তদারকি জোরদারের উদ্যোগ
ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ কমানো, ঋণ আদায় জোরদার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঋণ আদায়ে গতি আনা, ঋণ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং নিয়মিত ঋণ পরিশোধের সংস্কৃতি গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের ব্যাংকিং খাতকে আরও শক্তিশালী করতে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনে অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চতুর্থ বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এসব পরিকল্পনা ও উদ্যোগের প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে ব্যাংক খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা ও তদারকি
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী এক বছরের মধ্যে যেসব ব্যাংকের শ্রেণিকৃত ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি, সেসব ব্যাংকের শীর্ষ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে প্রতি তিন মাস অন্তর পর্যালোচনা সভা করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এসব আলোচনায় ঋণ আদায়ের বাধাগুলো চিহ্নিত করে তা দূর করতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ব্যাংকার্স সভায় শীর্ষ ২০ খেলাপি বা শ্রেণিকৃত ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে। যেসকল ব্যাংকে শ্রেণিকৃত ঋণ বেশি, তাদের জন্য ঋণ পুনরুদ্ধার কৌশলবিষয়ক বিশেষ নির্দেশিকা প্রণয়ন ও বিদ্যমান ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা হালনাগাদ করা হবে।

ব্যাংক ঋণে স্বচ্ছতা বাড়াতে ‘আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মান’ (আইএফআরএস-৯) অনুসরণ করে প্রত্যাশিত ঋণক্ষতি বা ‘এক্সপেক্টেড ক্রেডিট লস’ পদ্ধতিতে ঋণ শ্রেণিকরণ ও সংস্থান সংরক্ষণের ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে সম্ভাব্য ক্ষতি আগেভাগে নিরূপণ ও ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কার্যকর হবে। এছাড়া খেলাপি ও ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের তালিকা প্রকাশের আইনি দিকগুলোও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান অঞ্চলের বিভাগীয় পরিচালক জ্যঁ পেম জানান, ব্যাংক খাতে ছাড় দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খেলাপি ঋণ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া দ্রুত করতে ব্যাংক ও ঋণগ্রহীতা—উভয় পক্ষকেই কার্যকর সমাধানে পৌঁছাতে প্রয়োজনীয় প্রণোদনা তৈরির পরামর্শ দেন তিনি।

মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল
মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা (২-৩ বছর): খেলাপি ঋণ আদায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখা ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সময়ে নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারী ভালো গ্রাহকদের চিহ্নিত করে তাদের প্রণোদনা দেওয়ার বিদ্যমান নীতিমালা পর্যালোচনা ও হালনাগাদ করা হবে, যাতে নিয়মিত ঋণ পরিশোধের সংস্কৃতি জোরদার হয়।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা (৪-৫ বছর): ব্যাংকগুলোর সামগ্রিক ঋণ ব্যবস্থাপনা কাঠামো শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হবে। ঋণ অনুমোদন, তদারকি, আদায় ও শ্রেণিকরণের প্রতিটি পর্যায়ে শৃঙ্খলা আনার পাশাপাশি খেলাপি ঋণ সৃষ্টির পেছনে থাকা কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা হবে। ফলে ঋণ খেলাপি হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে শুরু থেকেই ঋণঝুঁকি চিহ্নিত ও নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।

খেলাপি ঋণের সাম্প্রতিক চিত্র
সাম্প্রতিক সময়ে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ায় এই সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী:

৩০ জুন পর্যন্ত: খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮১ হাজার ২৩৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা (মোট ঋণের ৩১.৪১%)।

৩১ মার্চ পর্যন্ত: এই পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৬৪ হাজার ১০৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা (মোট ঋণের ৩০.৯২%)।

তিন মাসের ব্যবধান: খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ১৩১ কোটি ৯২ লাখ টাকা এবং হার বেড়েছে ০.৪৯ শতাংশীয় পয়েন্ট।

আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সংস্কার
খেলাপি ঋণের চাপ সামলাতে ও ব্যাংক খাতের আইনি কাঠামো আধুনিকায়নে একাধিক আইন সংস্কারের কাজ চলছে:

ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) আইন, ২০২৬: গত ২২ এপ্রিলের অংশীজন সভা এবং ২৬ এপ্রিলের নির্দেশনার ভিত্তিতে প্রস্তুতকৃত সংশোধিত খসড়াটি ২৪ আগস্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে ২০ সেপ্টেম্বর সর্বশেষ আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অর্থঋণ আদালত (সংশোধন) আইন, ২০২৬: একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এটি যুগোপযোগী করতে আইন ও বিচার বিভাগে আন্তঃমন্ত্রণালয় আলোচনা চলছে।

দুর্দশাগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৬: খেলাপি ঋণ আদায় বাড়াতে নতুন এই আইন প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে।

দেউলিয়াত্ব ও দেউলিয়া কার্যক্রম আইন, ২০২৬: ১৯৯৭ সালের দেউলিয়াত্ব আইন আধুনিকায়ন করে আন্তর্জাতিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন আইন করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থার (আইএফসি) সহায়তায় এর ইংরেজি খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং তা বাংলায় অনুবাদের জন্য আইএফসি-র সহায়তা চাওয়া হয়েছে। অনুবাদ চূড়ান্ত হলে এটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই ত্রি-মুখী পরিকল্পনা ও আইনি সংস্কার সময়মতো বাস্তবায়িত হলে ঋণ বিতরণে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, আদায় কার্যক্রম জোরদার এবং ব্যাংক খাতে সুশাসন ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

10 October 2026

আইন সংস্কার ও তদারকিতে জোর: বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩ মেয়াদি উদ্যোগ

Spread the love
জনপ্রিয়

ফুলতলা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম ঢাকায় গ্রেফতার

আইন সংস্কার ও তদারকিতে জোর: বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩ মেয়াদি উদ্যোগ

আপডেট সময় : ০৬:০৫:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

খেলাপি ঋণ কমাতে ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩ মেয়াদি পরিকল্পনা: আইনি কাঠামো সংস্কার ও তদারকি জোরদারের উদ্যোগ
ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ কমানো, ঋণ আদায় জোরদার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঋণ আদায়ে গতি আনা, ঋণ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং নিয়মিত ঋণ পরিশোধের সংস্কৃতি গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের ব্যাংকিং খাতকে আরও শক্তিশালী করতে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনে অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চতুর্থ বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এসব পরিকল্পনা ও উদ্যোগের প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে ব্যাংক খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা ও তদারকি
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী এক বছরের মধ্যে যেসব ব্যাংকের শ্রেণিকৃত ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি, সেসব ব্যাংকের শীর্ষ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে প্রতি তিন মাস অন্তর পর্যালোচনা সভা করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এসব আলোচনায় ঋণ আদায়ের বাধাগুলো চিহ্নিত করে তা দূর করতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ব্যাংকার্স সভায় শীর্ষ ২০ খেলাপি বা শ্রেণিকৃত ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে। যেসকল ব্যাংকে শ্রেণিকৃত ঋণ বেশি, তাদের জন্য ঋণ পুনরুদ্ধার কৌশলবিষয়ক বিশেষ নির্দেশিকা প্রণয়ন ও বিদ্যমান ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা হালনাগাদ করা হবে।

ব্যাংক ঋণে স্বচ্ছতা বাড়াতে ‘আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মান’ (আইএফআরএস-৯) অনুসরণ করে প্রত্যাশিত ঋণক্ষতি বা ‘এক্সপেক্টেড ক্রেডিট লস’ পদ্ধতিতে ঋণ শ্রেণিকরণ ও সংস্থান সংরক্ষণের ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে সম্ভাব্য ক্ষতি আগেভাগে নিরূপণ ও ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কার্যকর হবে। এছাড়া খেলাপি ও ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের তালিকা প্রকাশের আইনি দিকগুলোও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান অঞ্চলের বিভাগীয় পরিচালক জ্যঁ পেম জানান, ব্যাংক খাতে ছাড় দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খেলাপি ঋণ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া দ্রুত করতে ব্যাংক ও ঋণগ্রহীতা—উভয় পক্ষকেই কার্যকর সমাধানে পৌঁছাতে প্রয়োজনীয় প্রণোদনা তৈরির পরামর্শ দেন তিনি।

মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল
মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা (২-৩ বছর): খেলাপি ঋণ আদায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখা ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সময়ে নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারী ভালো গ্রাহকদের চিহ্নিত করে তাদের প্রণোদনা দেওয়ার বিদ্যমান নীতিমালা পর্যালোচনা ও হালনাগাদ করা হবে, যাতে নিয়মিত ঋণ পরিশোধের সংস্কৃতি জোরদার হয়।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা (৪-৫ বছর): ব্যাংকগুলোর সামগ্রিক ঋণ ব্যবস্থাপনা কাঠামো শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হবে। ঋণ অনুমোদন, তদারকি, আদায় ও শ্রেণিকরণের প্রতিটি পর্যায়ে শৃঙ্খলা আনার পাশাপাশি খেলাপি ঋণ সৃষ্টির পেছনে থাকা কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা হবে। ফলে ঋণ খেলাপি হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে শুরু থেকেই ঋণঝুঁকি চিহ্নিত ও নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।

খেলাপি ঋণের সাম্প্রতিক চিত্র
সাম্প্রতিক সময়ে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ায় এই সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী:

৩০ জুন পর্যন্ত: খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮১ হাজার ২৩৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা (মোট ঋণের ৩১.৪১%)।

৩১ মার্চ পর্যন্ত: এই পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৬৪ হাজার ১০৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা (মোট ঋণের ৩০.৯২%)।

তিন মাসের ব্যবধান: খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ১৩১ কোটি ৯২ লাখ টাকা এবং হার বেড়েছে ০.৪৯ শতাংশীয় পয়েন্ট।

আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সংস্কার
খেলাপি ঋণের চাপ সামলাতে ও ব্যাংক খাতের আইনি কাঠামো আধুনিকায়নে একাধিক আইন সংস্কারের কাজ চলছে:

ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) আইন, ২০২৬: গত ২২ এপ্রিলের অংশীজন সভা এবং ২৬ এপ্রিলের নির্দেশনার ভিত্তিতে প্রস্তুতকৃত সংশোধিত খসড়াটি ২৪ আগস্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে ২০ সেপ্টেম্বর সর্বশেষ আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অর্থঋণ আদালত (সংশোধন) আইন, ২০২৬: একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এটি যুগোপযোগী করতে আইন ও বিচার বিভাগে আন্তঃমন্ত্রণালয় আলোচনা চলছে।

দুর্দশাগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৬: খেলাপি ঋণ আদায় বাড়াতে নতুন এই আইন প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে।

দেউলিয়াত্ব ও দেউলিয়া কার্যক্রম আইন, ২০২৬: ১৯৯৭ সালের দেউলিয়াত্ব আইন আধুনিকায়ন করে আন্তর্জাতিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন আইন করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থার (আইএফসি) সহায়তায় এর ইংরেজি খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং তা বাংলায় অনুবাদের জন্য আইএফসি-র সহায়তা চাওয়া হয়েছে। অনুবাদ চূড়ান্ত হলে এটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই ত্রি-মুখী পরিকল্পনা ও আইনি সংস্কার সময়মতো বাস্তবায়িত হলে ঋণ বিতরণে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, আদায় কার্যক্রম জোরদার এবং ব্যাংক খাতে সুশাসন ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

10 October 2026

আইন সংস্কার ও তদারকিতে জোর: বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩ মেয়াদি উদ্যোগ

Spread the love