০৪:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরগুনায় জমিসংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে ২৫০ টি হাঁস বিষ প্রয়োগে মেরে ফেলার অভিযোগ।

  • আপডেট সময় : ০১:১৪:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • 29

বরগুনায় জমিসংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে ২৫০ টি হাঁস বিষ প্রয়োগে মেরে ফেলার অভিযোগ।

বরগুনার তালতলীতে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আনুমানিক আড়াই শতাধিক (২৫০) হাঁস বিষ প্রয়োগে মেরে ফেলার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের কড়ইবাড়িয়া গ্রামে কৃষক মোঃ মতি মৃধার হাঁসের খামারে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। মরে যাওয়া হাঁসগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য দেড় লক্ষ টাকা। এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে তালতলী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, খামার মালিক মতি মৃধা গংদের সাথে প্রতিবেশী আঃ হাই ফরাজি গংদের জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে মামলা চলছে। ঘটনার দিন মতি মৃধাগং আমতলী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজিরা দিতে যান। অভিযোগ উঠেছে, খামার খালি থাকার সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আঃ হাই ফরাজির ছেলে মিরাজ ফরাজি পাশের ধানক্ষেতে কৌশলে বিষ প্রয়োগ করে রাখেন। পরবর্তীতে খামারের চারপাশে থাকা নেট জাল সরিয়ে পুকুরে থাকা হাঁসগুলোকে উন্মুক্ত করে দিলে সেগুলো বিষাক্ত ধানক্ষেতে চলে যায়। বিষের তীব্রতায় একে একে মতি মৃধার ২৫০টি হাঁস মারা যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত খামারি মতি মৃধা বলেন, “আদালতে হাজিরা দিতে যাওয়ার পর বাড়ি থেকে খবর পাই আমাদের খামারের আড়াইশো হাঁস বিষ দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।” অশ্রুসজল কণ্ঠে মতি মৃধার স্ত্রী পারুল বেগম জানান, এনজিও থেকে কিস্তি তুলে অনেক কষ্টে তিনি এই হাঁসের খামারটি গড়ে তুলেছিলেন, যা হারিয়ে এখন তারা নিঃস্ব। স্থানীয় প্রতিবেশী প্রত্যক্ষদর্শী শিরিনা বেগম জানান, হাঁসগুলো মারা যাওয়ার ঠিক আগেই অভিযুক্ত মিরাজ ফরাজিকে ওই পুকুর ও ধানক্ষেতের পাশে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গিয়েছিল।

তবে বিষ প্রয়োগে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আঃ হাই ফরাজি। তিনি বলেন, “তাদের সাথে আমাদের বিরোধের বিষয়টি সত্য। তবে ঘটনার আগের দিন জাকির মৃধা ধানক্ষেতে ওষুধ দেওয়ার কথা সবাইকে জানিয়েছিলেন এবং সকালে ওষুধ দেন। ওইদিনই সকালে মতি মৃধার লোকজন হাঁসগুলো ছেড়ে দিলে ওষুধযুক্ত ক্ষেতে গিয়ে কিছু হাঁস মারা যায়।”

এ বিষয়ে তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সাইদুল ইসলাম জানান, হাঁস হত্যার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং ঘটনাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

10 October 2026

বরগুনায় জমিসংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে ২৫০ টি হাঁস বিষ প্রয়োগে মেরে ফেলার অভিযোগ।

Spread the love
জনপ্রিয়

শিগগিরই সৌদি আরব সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

বরগুনায় জমিসংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে ২৫০ টি হাঁস বিষ প্রয়োগে মেরে ফেলার অভিযোগ।

আপডেট সময় : ০১:১৪:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

বরগুনার তালতলীতে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আনুমানিক আড়াই শতাধিক (২৫০) হাঁস বিষ প্রয়োগে মেরে ফেলার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের কড়ইবাড়িয়া গ্রামে কৃষক মোঃ মতি মৃধার হাঁসের খামারে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। মরে যাওয়া হাঁসগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য দেড় লক্ষ টাকা। এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে তালতলী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, খামার মালিক মতি মৃধা গংদের সাথে প্রতিবেশী আঃ হাই ফরাজি গংদের জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে মামলা চলছে। ঘটনার দিন মতি মৃধাগং আমতলী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজিরা দিতে যান। অভিযোগ উঠেছে, খামার খালি থাকার সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আঃ হাই ফরাজির ছেলে মিরাজ ফরাজি পাশের ধানক্ষেতে কৌশলে বিষ প্রয়োগ করে রাখেন। পরবর্তীতে খামারের চারপাশে থাকা নেট জাল সরিয়ে পুকুরে থাকা হাঁসগুলোকে উন্মুক্ত করে দিলে সেগুলো বিষাক্ত ধানক্ষেতে চলে যায়। বিষের তীব্রতায় একে একে মতি মৃধার ২৫০টি হাঁস মারা যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত খামারি মতি মৃধা বলেন, “আদালতে হাজিরা দিতে যাওয়ার পর বাড়ি থেকে খবর পাই আমাদের খামারের আড়াইশো হাঁস বিষ দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।” অশ্রুসজল কণ্ঠে মতি মৃধার স্ত্রী পারুল বেগম জানান, এনজিও থেকে কিস্তি তুলে অনেক কষ্টে তিনি এই হাঁসের খামারটি গড়ে তুলেছিলেন, যা হারিয়ে এখন তারা নিঃস্ব। স্থানীয় প্রতিবেশী প্রত্যক্ষদর্শী শিরিনা বেগম জানান, হাঁসগুলো মারা যাওয়ার ঠিক আগেই অভিযুক্ত মিরাজ ফরাজিকে ওই পুকুর ও ধানক্ষেতের পাশে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গিয়েছিল।

তবে বিষ প্রয়োগে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আঃ হাই ফরাজি। তিনি বলেন, “তাদের সাথে আমাদের বিরোধের বিষয়টি সত্য। তবে ঘটনার আগের দিন জাকির মৃধা ধানক্ষেতে ওষুধ দেওয়ার কথা সবাইকে জানিয়েছিলেন এবং সকালে ওষুধ দেন। ওইদিনই সকালে মতি মৃধার লোকজন হাঁসগুলো ছেড়ে দিলে ওষুধযুক্ত ক্ষেতে গিয়ে কিছু হাঁস মারা যায়।”

এ বিষয়ে তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সাইদুল ইসলাম জানান, হাঁস হত্যার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং ঘটনাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

10 October 2026

বরগুনায় জমিসংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে ২৫০ টি হাঁস বিষ প্রয়োগে মেরে ফেলার অভিযোগ।

Spread the love