মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মানবাধিকার সংক্রান্ত প্রতিবেদনে দেশে বিচারহীনতা, সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ৯ মাসে ২ হাজার ৯০১টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ১০৯ জন নিহত এবং ২ হাজার ৭৯২ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু নির্বাচনী সহিংসতাই ঘটেছে ১ হাজার ৩৮১টি, যাতে প্রাণ গেছে ১৩ জনের।
নারী ও শিশু নির্যাতন:
গত ৯ মাসে মোট ৬১৭ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৩৮৮ জনই (প্রায় ৬৩ শতাংশ) ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়েশিশু। এছাড়া যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়ে ২২ জন নারী নিহত ও ৩৭ জন শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, এবং ৭ জন আত্মহত্যা করেছেন।
আইনশৃঙ্খলা, গণপিটুনি ও কারাগারের চিত্র:
এ সময়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ১০ জন এবং গণপিটুনিতে মারা গেছেন ৭৪ জন (যার মধ্যে মে মাসে সর্বোচ্চ ১৩ জন)। দেশের ৭৫টি কারাগারে ধারণক্ষমতা ৪৩ হাজার ১৫৭ জন হলেও বন্দীর সংখ্যা আড়াই গুণেরও বেশি (১ লাখ ৫ হাজার ১০২ জন)। ৯ মাসে কারাগারে ৬৭ জন বন্দীর মৃত্যু হয়েছে এবং নির্যাতন ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া আদালতের রায়ে ২০০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিক নির্যাতন ও সীমান্ত পরিস্থিতি:
পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১৬৯টি হামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন সাংবাদিকেরা; যেখানে ৬৫ জন আহত, ২২ জন লাঞ্ছিত, ২৫ জন হুমকিপ্রাপ্ত এবং ২৮টি মামলা ও ২১টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ২ জন গুমের শিকার হন। অন্যদিকে, সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে ১১ জন বাংলাদেশি নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন এবং ৫৬ জনকে পুশ ইন করা হয়েছে।
আইন ও নীতিগত বিষয়ে উদ্বেগ:
‘অধিকার’ তাদের প্রতিবেদনে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর কিছু ধারার সমালোচনা করেছে—বিশেষ করে তদন্তের দায়িত্ব অন্য বাহিনীর হাতে দেওয়া এবং মিথ্যা অভিযোগে ৫ বছরের কারাদণ্ডের বিধান ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি, র্যাব বিলুপ্ত না করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ গঠন করে আগের জনবল ও ক্ষমতা বহাল রাখা এবং পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ বাতিল হওয়া নিয়েও সংস্থাটি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।






















