বয়স যে শিক্ষার কোনো বাধা হতে পারে না, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকার গৃহবধূ শেফালী বেগম। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি (বিজনেস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি) পরীক্ষায় জিপিএ ৪.২১ (মূল জিপিএ ৩.৯৬) পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে এই তথ্য জানা যায়। ডোমার উপজেলার গোমনাতি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী শেফালীর পরীক্ষার রোল নম্বর ৬৩৯০৪৬ এবং সেশন ২০২৩-২৪।
ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়ে পারিবারিক সংকটের কারণে তাঁর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে মেধাতালিকায় স্থান পেলেও সংসারের দায়িত্ব নিতে বই-খাতা ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে। তবে দীর্ঘ বিরতির পর ৪৮ বছর বয়সে স্বামী ও সন্তানদের উৎসাহে তিনি আবার পড়াশোনা শুরু করেন। চার বছর পর অবশেষে এইচএসসি পাসের মাধ্যমে পূরণ হলো তাঁর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন।
শেফালী বেগমের স্বামী মকছেদুল আলম মজনু একজন কৃষক। তাঁদের তিন সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে আব্দুল রাজ্জাক ডিমলায় ব্যবসায়ী (পুত্রবধূ ও নাতনিসহ সংসার), মেয়ে মাকছুরা খানম নাসমুন রংপুর সরকারি কলেজে স্নাতকোত্তরে এবং ছোট ছেলে আব্দুর রাজ শাফি দক্ষিণ কোরিয়ার কিয়াংসাং বিশ্ববিদ্যালয়ে তথ্যপ্রযুক্তিতে পড়াশোনা করছেন। পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সবাই শেফালীর এই সাফল্যে অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। গোমনাতি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ দিলীপ রায় এবং নীলফামারী জেলা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান তাঁর এই অদম্য অধ্যবসায় ও অর্জনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।





















