বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে চলমান বিশ্বকাপের শেষ ১৬ নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফোলারিন বালোগুন এবং মালিক তিলমানের গোলে স্বাগতিকদের সহজ জয় ছাপিয়ে ম্যাচটি আলোচনায় লাল কার্ড কাণ্ডে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম গোলদাতা বালোগুন দ্বিতীয়ার্ধে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনো দাবি করেছেন, স্ট্রাইকারের সেই ট্যাকলটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত ছিল। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ডিফেন্ডার আলেক্সি লালাস প্রশ্ন তুলেছেন টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়ার বিপক্ষে লিওনেল মেসি একই ধরনের ফাউলে কেন শাস্তি ছাড়াই পার পেয়ে গেছে, যা রেফারিং ও ভিএআরের সিদ্ধান্তে অসামঞ্জস্যতার অভিযোগ তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্র কঠিন লড়াইয়ের পর বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারালেও ম্যাচের ৬৪তম মিনিটে বালোগুনের লাল কার্ডই হয়ে ওঠে প্রধান আলোচ্য বিষয়। দীর্ঘ ভিএআর রিভিউয়ের পর রেফারি বালোগুনকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। বল দখলের লড়াইয়ের সময় তার পা গিয়ে পড়েছিল প্রতিপক্ষ তারিক মুহারেমোভিচের গোড়ালিতে, যার ফলে রেফারি এই সিদ্ধান্ত নেন ।
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্রুত বিতর্ক শুরু হয়, বিশেষ করে যখন লালাস একটি ভিডিও শেয়ার করেন যেখানে টুর্নামেন্টের আগের ম্যাচে মেসির একটি ট্যাকল দেখানো হয়। তার দাবি ছিল, দুটি ঘটনাই প্রায় একই রকম, তবুও মেসিকে কোনো শাস্তি দেওয়া হয়নি, যা সিদ্ধান্তে দ্বৈত মানদণ্ডের অভিযোগকে আরও জোরালো করে। যুক্তরাষ্ট্রের কোচ পচেত্তিনো রেড কার্ডের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হননি। তার মতে, প্রতিপক্ষকে আঘাত করার কোনো উদ্দেশ্য বালগুনের ছিল না এবং ঘটনাটি সম্পূর্ণ দুর্ঘটনাজনিত। ‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এর উদ্ধৃতি অনুযায়ী তিনি বলেন, ‘আমার মতে, এটা কোনোভাবেই লাল কার্ড নয়। প্রতিপক্ষকে পা দিয়ে চাপা দেওয়ার কোনো ইচ্ছাই ছিল না। এটি ফুটবলের স্বাভাবিক একটি ঘটনা, যা দুর্ঘটনাবশত ঘটেছে।’ তিনি আরও জানান, খেলোয়াড়টি খুবই হতাশ এবং এই সিদ্ধান্ত বদলানো সম্ভব নয়। তবে দল তাকে মানসিকভাবে সমর্থন দেবে এবং আশা করা হচ্ছে তারা পরের রাউন্ডে পৌঁছালে তিনি আবার খেলতে পারবেন।
দলের আরেক খেলোয়াড় ওয়েস্টন ম্যাককেনিয়েও কোচের সঙ্গে একমত হন। তিনি বলেন, ড্রেসিং রুমে সবাই সিদ্ধান্তটি নিয়ে হতাশ। তবে তিনি স্বীকার করেন যে ঘটনাটি পুরোপুরি তিনি দেখেননি।
তার ভাষায়, ‘আমি এখনো পুরোটা রিভিউ করিনি, কিন্তু সতীর্থদের কথা অনুযায়ী এটি প্রশ্নবিদ্ধ। টুর্নামেন্টে এমন আরও অনেক ঘটনায় কার্ড দেওয়া হয়নি। যদি কিছু হয়, তবে হলুদ কার্ড হতে পারত, কিন্তু এটি ইচ্ছাকৃত ছিল না।’ অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কিংবদন্তি লালাস প্রশ্ন তুলেছেন, কেন মেসির একই ধরনের ট্যাকল শাস্তি ছাড়াই চলে গেছে। তার মতে, এটি স্পষ্টভাবে রেফারিংয়ের অসামঞ্জস্যকে তুলে ধরছে। তিনি ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন পডকাস্ট’-এ বলেন, ‘এটা লাল কার্ড নয়। মুহূর্তে দেখলে খারাপ লাগে, ভিডিওতেও খারাপ লাগে, কিন্তু পরিস্থিতি বোঝা দরকার। আমার মতে এটা ভুল সিদ্ধান্ত।’
তিনি আরও মন্তব্য করেন, যদি খেলোয়াড়টি মেসি না হয়ে অন্য কেউ হতেন, তাহলে হয়তো তিনি মাঠে টিকে থাকতে পারতেন না। রাউন্ড ব সিক্সটিনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম। এই ম্যাচে বালোগুনকে ছাড়াই খেলতে হবে তাদের। দলের কোচ পচেত্তিনোকে এখন তার মূল গোলদাতার বিকল্প খুঁজে বের করতে হবে। দুই ফরোয়ার্ড হাজি রাইট এবং রিকার্ডো পেপি কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিতের লড়াইয়ে শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়ার দৌড়ে আছেন।






















