১১:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জজ মিয়া হত্যা মামলায় আরও ৫ আসামি গ্রেফতার

রাজধানীর খিলগাঁওয়ে জজ মিয়া (৪৪) হত্যা মামলায় আরও পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন– কুমিল্লার তিতাসের মনির হোসেন (২৫), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রমজান ওরফে বুলেট (২২), ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার আশিক (২২), কুমিল্লার হোমনার রাসেল (২৪) এবং পিরোজপুরের নাজিরপুরের সাব্বির খান (২৩)।

গতকাল রবিবার রাতে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা ও ঢাকার বাড্ডা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার পাঁচজন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের খিলগাঁও অঞ্চলের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহসীন আল মুরাদের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, গতকাল ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানার মানকোন ইউনিয়নের বাদেমাঝিরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। একই রাতে ঢাকার বাড্ডার মেরুল এলাকায় ডিবির সহায়তায় আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার পাঁচজন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

পুলিশ জানায়, এই মামলায় এর আগে আব্দুল্লাহ ও করিম নামে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাদের আদালতে হাজির করা হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দেন।

মামলার প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ, নিহত জজ মিয়ার কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পেয়েছে।

পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর জজ মিয়া তার বাসা থেকে বের হন। পরদিন রাত ১২টা ২৮ মিনিটের দিকে তিনি বাড্ডার মেরুল এলাকায় মতি বাবুর বাউন্ডারির ভেতরে থাকা মিন্টুর গ্যারেজে যান। সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে ছিলেন আব্দুল্লাহ, করিম, মনির হোসেন, রমজান ওরফে বুলেট, আশিক, রাসেল, সাব্বিরসহ আরও কয়েকজন।

পুলিশের দাবি, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে জজ মিয়াকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করেন। পরে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে খিলগাঁও থানার ত্রিমোহনী সেতুর নিচে জিরানী খালে মরদেহ ফেলে চলে যান।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় জজ মিয়ার স্ত্রী রোজিনা বাদী হয়ে ১০ সেপ্টেম্বর খিলগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলা নম্বর– ২১। এতে দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

14 September 2026

জজ মিয়া হত্যা মামলায় আরও ৫ আসামি গ্রেফতার

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

জজ মিয়া হত্যা মামলায় আরও ৫ আসামি গ্রেফতার

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

জজ মিয়া হত্যা মামলায় আরও ৫ আসামি গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০৯:৩৯:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর খিলগাঁওয়ে জজ মিয়া (৪৪) হত্যা মামলায় আরও পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন– কুমিল্লার তিতাসের মনির হোসেন (২৫), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রমজান ওরফে বুলেট (২২), ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার আশিক (২২), কুমিল্লার হোমনার রাসেল (২৪) এবং পিরোজপুরের নাজিরপুরের সাব্বির খান (২৩)।

গতকাল রবিবার রাতে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা ও ঢাকার বাড্ডা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার পাঁচজন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের খিলগাঁও অঞ্চলের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহসীন আল মুরাদের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, গতকাল ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানার মানকোন ইউনিয়নের বাদেমাঝিরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। একই রাতে ঢাকার বাড্ডার মেরুল এলাকায় ডিবির সহায়তায় আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার পাঁচজন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

পুলিশ জানায়, এই মামলায় এর আগে আব্দুল্লাহ ও করিম নামে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাদের আদালতে হাজির করা হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দেন।

মামলার প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ, নিহত জজ মিয়ার কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পেয়েছে।

পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর জজ মিয়া তার বাসা থেকে বের হন। পরদিন রাত ১২টা ২৮ মিনিটের দিকে তিনি বাড্ডার মেরুল এলাকায় মতি বাবুর বাউন্ডারির ভেতরে থাকা মিন্টুর গ্যারেজে যান। সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে ছিলেন আব্দুল্লাহ, করিম, মনির হোসেন, রমজান ওরফে বুলেট, আশিক, রাসেল, সাব্বিরসহ আরও কয়েকজন।

পুলিশের দাবি, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে জজ মিয়াকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করেন। পরে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে খিলগাঁও থানার ত্রিমোহনী সেতুর নিচে জিরানী খালে মরদেহ ফেলে চলে যান।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় জজ মিয়ার স্ত্রী রোজিনা বাদী হয়ে ১০ সেপ্টেম্বর খিলগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলা নম্বর– ২১। এতে দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

14 September 2026

জজ মিয়া হত্যা মামলায় আরও ৫ আসামি গ্রেফতার