০৫:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আবেদনের নতুন নিয়ম প্রকাশ

দুই বছর পর বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু

  • আপডেট সময় : ০২:৩৮:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
  • 74

দুই বছর পর বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু

দীর্ঘ প্রায় দুই বছর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পর্যটন (ট্যুরিস্ট) ভিসা চালু করেছে ভারত। আজ রবিবার (২৮ জুন) থেকে দেশের ৫টি প্রধান শহর—ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনার ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে (আইভ্যাক) এই আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে; যা পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শহরেও সম্প্রসারিত হবে। উল্লেখ্য, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিরাপত্তার কারণে নিয়মিত ভিসা বন্ধ করে দিয়েছিল ভারত। পরবর্তীতে জরুরি প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে মেডিকেল, বিজনেস ও স্টুডেন্ট ভিসা দেওয়া হলেও পর্যটন ভিসা পুরোপুরি বন্ধ ছিল। সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দায়িত্ব নেওয়ার পর এই অচলাবস্থার অবসান ঘটে। একই সাথে চিকিৎসাপ্রত্যাশীদের সুবিধার্থে মেডিকেল ভিসার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে ভারতীয় হাইকমিশন।

ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদনকারীকে প্রথমে ভারতের অফিশিয়াল ভিসা পোর্টালে গিয়ে নির্ভুলভাবে ফর্ম পূরণ ও ডাউনলোড করে প্রিন্ট করতে হবে। ভিসা আবেদন জমা দেওয়ার আগের দিন অত্যন্ত সতর্কতার সাথে অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বুক করতে হবে, কারণ আগের কর্মদিবসে পরবর্তী কর্মদিবসের জন্য স্লট উন্মুক্ত করা হয়। স্লট বুকিংয়ের জন্য দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটের মধ্যে নির্ধারিত লিংকে (https://appointment.ivacbd.com/) গিয়ে ভিসার ফর্মে দেওয়া ইমেইল ও মোবাইল নম্বর দিয়ে ওটিপি (OTP) ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড করতে হবে। যারা বিকাল সাড়ে ৪টার মধ্যে সফলভাবে ফাইল আপলোড করবেন, কেবল তারাই অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য যোগ্য হবেন এবং সন্ধ্যা ৬টায় স্লট চালু হলে পুনরায় লগইন করে সিস্টেমের দেখানো পরের দিনের স্লটটি বুক করতে পারবেন (যা প্রয়োজনে একবার পরিবর্তনযোগ্য)। স্লট বুক হওয়ার পর অনলাইনে ভিসা প্রসেসিং ফি বাবদ ১,৫০০ টাকা পরিশোধ করতে হবে। সতর্কতাস্বরূপ জানানো হয়েছে যে, আপলোড করা ফাইলটি অবশ্যই মূল ভিসা আবেদনপত্রের আসল পিডিএফ (PDF) হতে হবে, যা ৩০ দিনের বেশি পুরোনো বা এডিট করা হতে পারবে না।

আবেদনের সময় মূল ফর্মের সাথে বেশ কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে কমপক্ষে ৬ মাসের মেয়াদ ও দুটি খালি পাতাসহ মূল পাসপোর্ট, পাসপোর্টের প্রথম ৪ পৃষ্ঠার কপি এবং আগের সব পুরোনো পাসপোর্ট। এছাড়াও লাগবে ৩ মাসের মধ্যে তোলা ২×২ সাইজের রঙিন ল্যাব প্রিন্ট ছবি, এনআইডি (NID) অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি এবং ৬ মাসের বেশি পুরোনো নয় এমন বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি বা টেলিফোন বিলের কপি। পেশার প্রমাণ হিসেবে চাকরিজীবীদের জন্য নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) বা চাকরি নিশ্চিতকরণ চিঠি, শিক্ষার্থীদের জন্য আইডি কার্ড এবং ব্যবসায়ীদের জন্য হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স জমা দিতে হবে। আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণস্বরূপ পাসপোর্টে ১৫০ ডলার সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্সমেন্ট, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের কপি অথবা পর্যাপ্ত ব্যালেন্সসহ হালনাগাদ ব্যাংক স্টেটমেন্টের প্রয়োজন হবে। আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ভিসা ইস্যুর বিষয়টি আবেদনকারীর মোবাইলে এসএমএস (SMS) এর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে এবং এরপর নির্দিষ্ট আইভ্যাক কেন্দ্র থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করা যাবে।

1 October 2026

দুই বছর পর বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু

Spread the love
জনপ্রিয়

স্পিকারের কাছে বিএনপি এমপি মিষ্টির পদত্যাগপত্র জমা

আবেদনের নতুন নিয়ম প্রকাশ

দুই বছর পর বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু

আপডেট সময় : ০২:৩৮:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

দীর্ঘ প্রায় দুই বছর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পর্যটন (ট্যুরিস্ট) ভিসা চালু করেছে ভারত। আজ রবিবার (২৮ জুন) থেকে দেশের ৫টি প্রধান শহর—ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনার ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে (আইভ্যাক) এই আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে; যা পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শহরেও সম্প্রসারিত হবে। উল্লেখ্য, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিরাপত্তার কারণে নিয়মিত ভিসা বন্ধ করে দিয়েছিল ভারত। পরবর্তীতে জরুরি প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে মেডিকেল, বিজনেস ও স্টুডেন্ট ভিসা দেওয়া হলেও পর্যটন ভিসা পুরোপুরি বন্ধ ছিল। সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দায়িত্ব নেওয়ার পর এই অচলাবস্থার অবসান ঘটে। একই সাথে চিকিৎসাপ্রত্যাশীদের সুবিধার্থে মেডিকেল ভিসার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে ভারতীয় হাইকমিশন।

ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদনকারীকে প্রথমে ভারতের অফিশিয়াল ভিসা পোর্টালে গিয়ে নির্ভুলভাবে ফর্ম পূরণ ও ডাউনলোড করে প্রিন্ট করতে হবে। ভিসা আবেদন জমা দেওয়ার আগের দিন অত্যন্ত সতর্কতার সাথে অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বুক করতে হবে, কারণ আগের কর্মদিবসে পরবর্তী কর্মদিবসের জন্য স্লট উন্মুক্ত করা হয়। স্লট বুকিংয়ের জন্য দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটের মধ্যে নির্ধারিত লিংকে (https://appointment.ivacbd.com/) গিয়ে ভিসার ফর্মে দেওয়া ইমেইল ও মোবাইল নম্বর দিয়ে ওটিপি (OTP) ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড করতে হবে। যারা বিকাল সাড়ে ৪টার মধ্যে সফলভাবে ফাইল আপলোড করবেন, কেবল তারাই অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য যোগ্য হবেন এবং সন্ধ্যা ৬টায় স্লট চালু হলে পুনরায় লগইন করে সিস্টেমের দেখানো পরের দিনের স্লটটি বুক করতে পারবেন (যা প্রয়োজনে একবার পরিবর্তনযোগ্য)। স্লট বুক হওয়ার পর অনলাইনে ভিসা প্রসেসিং ফি বাবদ ১,৫০০ টাকা পরিশোধ করতে হবে। সতর্কতাস্বরূপ জানানো হয়েছে যে, আপলোড করা ফাইলটি অবশ্যই মূল ভিসা আবেদনপত্রের আসল পিডিএফ (PDF) হতে হবে, যা ৩০ দিনের বেশি পুরোনো বা এডিট করা হতে পারবে না।

আবেদনের সময় মূল ফর্মের সাথে বেশ কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে কমপক্ষে ৬ মাসের মেয়াদ ও দুটি খালি পাতাসহ মূল পাসপোর্ট, পাসপোর্টের প্রথম ৪ পৃষ্ঠার কপি এবং আগের সব পুরোনো পাসপোর্ট। এছাড়াও লাগবে ৩ মাসের মধ্যে তোলা ২×২ সাইজের রঙিন ল্যাব প্রিন্ট ছবি, এনআইডি (NID) অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি এবং ৬ মাসের বেশি পুরোনো নয় এমন বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি বা টেলিফোন বিলের কপি। পেশার প্রমাণ হিসেবে চাকরিজীবীদের জন্য নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) বা চাকরি নিশ্চিতকরণ চিঠি, শিক্ষার্থীদের জন্য আইডি কার্ড এবং ব্যবসায়ীদের জন্য হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স জমা দিতে হবে। আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণস্বরূপ পাসপোর্টে ১৫০ ডলার সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্সমেন্ট, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের কপি অথবা পর্যাপ্ত ব্যালেন্সসহ হালনাগাদ ব্যাংক স্টেটমেন্টের প্রয়োজন হবে। আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ভিসা ইস্যুর বিষয়টি আবেদনকারীর মোবাইলে এসএমএস (SMS) এর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে এবং এরপর নির্দিষ্ট আইভ্যাক কেন্দ্র থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করা যাবে।

1 October 2026

দুই বছর পর বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু

Spread the love