সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সারা দেশে ৩৩ হাজারের বেশি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদ্যাপিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে শারদীয় দুর্গা উৎসব উদযাপন পরিদর্শনে গিয়ে পুলিশপ্রধান একথা বলেন।
মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, পূজা উদ্যাপন কমিটি, স্থানীয় জনগণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় সারা দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা-অর্চনা চলছে। এ জন্য পূজা উদ্যাপন কমিটি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সহযোগিতার প্রশংসা করেন তিনি।
দুর্গাপূজার তাৎপর্য তুলে ধরে আইজিপি বলেন, মা দুর্গার অসুরবধ অন্যায়, অবিচার, বৈষম্য ও অশান্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার শিক্ষা দেয়। ধর্ম, মত ও বর্ণনির্বিশেষে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
পূজামণ্ডপ ঘিরে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা গুজব ছড়ালে তা যাচাই না করে সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আহ্বান জানান আইজিপি। তিনি বলেন, ডিজিটাল যুগে নানা ধরনের তথ্য ছড়াতে পারে। তাই কোনো তথ্য যাচাই-বাছাই না করে বিশ্বাস করা বা তা নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়া উচিত নয়।
পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় সিসিটিভি ক্যামেরা ও বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, পূজা উদ্যাপন কমিটির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরসহ বিভিন্ন পর্যায়ে সমন্বয় সভা হয়েছে। বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকেরাও দায়িত্ব পালন করছেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিমা বিসর্জ্জনের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদ্যাপন সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পুলিশকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, চব্বিশের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে পুলিশের কোনো কার্যক্রম ছিল না। কারও নিরাপত্তা ছিল না, সবাই উদ্বিগ্ন ছিলাম। ছিনতাই, রাহাজানি, ডাকাতিসহ নানা ধরনের অঘটন ঘটেছে। সেই পরিস্থিতি থেকে বাংলাদেশ পুলিশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে জনগণের সহযোগিতায়।
তিনি আরও বলেন, জনগণের সহযোগিতায় সব অপশক্তি, অন্যায় ও বৈষম্য দূর করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখার পাশাপাশি সবার জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কাজ করতে হবে।























