১০:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাউফলে কসাইখানায় অনিয়মের অভিযোগ, তদারকি নিয়ে প্রশ্ন

বাউফলে কসাইখানায় অনিয়মের অভিযোগ, তদারকি নিয়ে প্রশ্ন

পটুয়াখালীর বাউফল পৌর বাজারে অসুস্থ ও হাড্ডিসার গরু জবাই করে সেই মাংস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে পৌর বাজারের আনোয়ার মুন্সীর কসাইখানায় একটি অসুস্থ গরু জবাই করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে ওই গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এ ঘটনায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
‎
‎প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, জবাই করা গরুটি ছিল অত্যন্ত দুর্বল, হাড্ডিসার ও রোগাক্রান্ত। গরুটির মুখ থেকে লালা ঝরছিল এবং সেটি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছিল। জবাইয়ের আগে এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে গরুটির ছবি তুলে রাখেন। পরে সকালে ওই গরুর মাংস বাজারে বিক্রি হতে দেখেন বলে দাবি করেন তিনি।
‎
‎স্থানীয়দের অভিযোগ, বাউফলের বিভিন্ন এলাকায় কিছু মাংস বিক্রেতা অসুস্থ ও হাড্ডিসার গরু সংগ্রহ করে রাতের আঁধারে জবাই করেন। পরে সকালে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে সেসব মাংস বিক্রি করা হয়। এতে ক্রেতারা মাংসের উৎস ও পশুর স্বাস্থ্য সম্পর্কে না জেনেই তা কিনছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করা প্রয়োজন।
‎
‎এর কয়েক দিন আগেও বাউফল হাইস্কুল রোডের গোলাবাড়ি এলাকায় একটি কসাইখানায় টমটমে করে মরা গরু আনার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের ধাওয়ার মুখে গরুটি নামিয়ে রেখে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পালিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
‎
‎বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘সম্প্রতি একটি মরা গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগ পেয়ে গোলাবাড়ি এলাকায় পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই মরা গরুটি টমটমে করে নিয়ে পালিয়ে যায়।
‎
‎স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বাউফল পৌর বাজারে তিনটি, গোলাবাড়িতে একটি এবং বাংলাবাজারে একটি মাংস বিক্রির কেন্দ্র রয়েছে। এ ছাড়া কালাইয়া বন্দর, আদাবাড়িয়ার কাশিপুর, বগা বন্দর, কালিশুরীসহ বিভিন্ন এলাকায় গরুর মাংস বিক্রি করা হয়। সব মিলিয়ে উপজেলায় প্রায় অর্ধশত স্থানে মাংস বিক্রি হয়ে থাকে বলে স্থানীয়দের দাবি।
‎
‎এতগুলো বিক্রয়কেন্দ্রে পশু জবাই ও মাংস বিক্রি হলেও জবাইয়ের আগে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং জবাইয়ের পর মাংস পরীক্ষার কার্যক্রম কতটা নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে অসুস্থ পশু জবাইয়ের অভিযোগের পর বাজারগুলোতে নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
‎
‎জবাইয়ের আগে ও পরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি
‎পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়া গরু জবাই ও মাংস বিক্রি করা হলে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পশু জবাইয়ের আগে তার শারীরিক অবস্থা, চলাফেরা, পুষ্টি, চোখ, নাক ও মুখের অবস্থা এবং রোগের লক্ষণ পরীক্ষা করা জরুরি। অতিরিক্ত দুর্বলতা, অস্বাভাবিক লালা নিঃসরণ, খোঁড়াভাব কিংবা সংক্রামক রোগের সন্দেহ দেখা দিলে পশুটিকে পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
‎
‎একইভাবে জবাইয়ের পর মাংস, কলিজা, ফুসফুসসহ অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পরীক্ষা করে তা মানুষের খাওয়ার উপযোগী কি না, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি কসাইখানার পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং মাংস সংরক্ষণ ও বিক্রির পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
‎
‎বাউফল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শুভেন্দু সরকার বলেন, ‘আমাদের জনবল কম থাকায় আমরা দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারছি না। কয়েকদিন আগে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত মিটিংয়ে বাউফলের সব কসাইকে ডেকে সতর্ক করা হয়েছে।

10 October 2026

বাউফলে কসাইখানায় অনিয়মের অভিযোগ, তদারকি নিয়ে প্রশ্ন

Spread the love
জনপ্রিয়

সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধানকে নিয়ে ভুল তথ্য প্রচার, সেনাবাহিনীর সতর্কতা

বাউফলে কসাইখানায় অনিয়মের অভিযোগ, তদারকি নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০৮:১৫:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

পটুয়াখালীর বাউফল পৌর বাজারে অসুস্থ ও হাড্ডিসার গরু জবাই করে সেই মাংস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে পৌর বাজারের আনোয়ার মুন্সীর কসাইখানায় একটি অসুস্থ গরু জবাই করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে ওই গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এ ঘটনায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
‎
‎প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, জবাই করা গরুটি ছিল অত্যন্ত দুর্বল, হাড্ডিসার ও রোগাক্রান্ত। গরুটির মুখ থেকে লালা ঝরছিল এবং সেটি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছিল। জবাইয়ের আগে এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে গরুটির ছবি তুলে রাখেন। পরে সকালে ওই গরুর মাংস বাজারে বিক্রি হতে দেখেন বলে দাবি করেন তিনি।
‎
‎স্থানীয়দের অভিযোগ, বাউফলের বিভিন্ন এলাকায় কিছু মাংস বিক্রেতা অসুস্থ ও হাড্ডিসার গরু সংগ্রহ করে রাতের আঁধারে জবাই করেন। পরে সকালে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে সেসব মাংস বিক্রি করা হয়। এতে ক্রেতারা মাংসের উৎস ও পশুর স্বাস্থ্য সম্পর্কে না জেনেই তা কিনছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করা প্রয়োজন।
‎
‎এর কয়েক দিন আগেও বাউফল হাইস্কুল রোডের গোলাবাড়ি এলাকায় একটি কসাইখানায় টমটমে করে মরা গরু আনার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের ধাওয়ার মুখে গরুটি নামিয়ে রেখে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পালিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
‎
‎বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘সম্প্রতি একটি মরা গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগ পেয়ে গোলাবাড়ি এলাকায় পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই মরা গরুটি টমটমে করে নিয়ে পালিয়ে যায়।
‎
‎স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বাউফল পৌর বাজারে তিনটি, গোলাবাড়িতে একটি এবং বাংলাবাজারে একটি মাংস বিক্রির কেন্দ্র রয়েছে। এ ছাড়া কালাইয়া বন্দর, আদাবাড়িয়ার কাশিপুর, বগা বন্দর, কালিশুরীসহ বিভিন্ন এলাকায় গরুর মাংস বিক্রি করা হয়। সব মিলিয়ে উপজেলায় প্রায় অর্ধশত স্থানে মাংস বিক্রি হয়ে থাকে বলে স্থানীয়দের দাবি।
‎
‎এতগুলো বিক্রয়কেন্দ্রে পশু জবাই ও মাংস বিক্রি হলেও জবাইয়ের আগে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং জবাইয়ের পর মাংস পরীক্ষার কার্যক্রম কতটা নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে অসুস্থ পশু জবাইয়ের অভিযোগের পর বাজারগুলোতে নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
‎
‎জবাইয়ের আগে ও পরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি
‎পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়া গরু জবাই ও মাংস বিক্রি করা হলে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পশু জবাইয়ের আগে তার শারীরিক অবস্থা, চলাফেরা, পুষ্টি, চোখ, নাক ও মুখের অবস্থা এবং রোগের লক্ষণ পরীক্ষা করা জরুরি। অতিরিক্ত দুর্বলতা, অস্বাভাবিক লালা নিঃসরণ, খোঁড়াভাব কিংবা সংক্রামক রোগের সন্দেহ দেখা দিলে পশুটিকে পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
‎
‎একইভাবে জবাইয়ের পর মাংস, কলিজা, ফুসফুসসহ অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পরীক্ষা করে তা মানুষের খাওয়ার উপযোগী কি না, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি কসাইখানার পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং মাংস সংরক্ষণ ও বিক্রির পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
‎
‎বাউফল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শুভেন্দু সরকার বলেন, ‘আমাদের জনবল কম থাকায় আমরা দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারছি না। কয়েকদিন আগে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত মিটিংয়ে বাউফলের সব কসাইকে ডেকে সতর্ক করা হয়েছে।

10 October 2026

বাউফলে কসাইখানায় অনিয়মের অভিযোগ, তদারকি নিয়ে প্রশ্ন

Spread the love