দেশজুড়ে পরিবেশ রক্ষা ও কৃষিজমি সংরক্ষণের লক্ষ্যে পোড়ামাটির ইটের বিকল্প হিসেবে ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কংক্রিট হলোব্লক। সেই ধারাবাহিকতায় নীলফামারীর সৈয়দপুরে ২০২২ সালে শহরের ধলাগাছ বাইপাস মহাসড়ক ঘেঁষে ‘এইচ এইচ এ ব্লক অ্যান্ড ইট ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামের একটি কারখানা স্থাপন করেন উদ্যোক্তা হারুন-অর-রশীদ। বর্তমানে ২০ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থানে চালিত এই কারখানায় সরকার অনুমোদিত প্রযুক্তিতে সম্পূর্ণ দেশীয় উপকরণ দিয়ে মাটিবিহীন ও পরিবেশবান্ধব কংক্রিট হলোব্লক তৈরি করা হচ্ছে।
কারখানাটির ম্যানেজার ফরিদুল ইসলাম রেজা জানান, এই হলোব্লক উৎপাদনে কোনো কৃষিজমির মাটি পোড়ানোর প্রয়োজন হয় না এবং কোনো ধোঁয়া বা ক্ষতিকর গ্যাস নির্গমন ঘটে না। এর ফলে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি রক্ষা পাচ্ছে ফসলি জমির উর্বরতা। বর্তমানে কারখানায় সলিড ইট, ফ্রি-হোল, হলোব্লক ও রেজিং ব্লকসহ বিভিন্ন মাপ ও নকশার সামগ্রী তৈরি হচ্ছে, যার মধ্যে ধুসর (গ্রে) ও লাল রঙের ব্লকগুলো ক্রেতাদের বিশেষ নজর কাড়ছে। আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন, সড়ক এবং সীমানাপ্রাচীরসহ সব ধরনের নির্মাণকাজে এসব ব্লক ব্যবহারের উপযোগী। কোম্পানির প্রধান মেশিন ম্যান ও সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রচলিত পোড়ামাটির ইটের তুলনায় হলোব্লক অধিক শক্তিশালী, টেকসই এবং এটি ব্যবহারে নির্মাণ ব্যয় ও সময় উভয়ই উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়।
পরিবেশবিদ ও নির্মাণ বিশেষজ্ঞদের মতে, ইটভাটার ধোঁয়া জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে। তাই টেকসই উন্নয়ন ও ‘সবুজ বাংলাদেশ’ গঠনে কংক্রিট হলোব্লকের মতো আধুনিক উপাদানের বিস্তার অত্যন্ত জরুরি। নীলফামারীর সৈয়দপুরে চালু হওয়া এই উদ্যোগটি স্থানীয় নির্মাণশিল্পে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। তবে কোম্পানির মালিক হারুন-অর-রশীদ উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, সরকার অনুমোদিত পরিবেশবান্ধব এসব কোম্পানি বর্তমানে প্রয়োজনীয় সহায়তার অভাবে অবহেলিত। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে এ ধরনের উদ্যোগগুলো বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে, যা বাজারে অবৈধ ইটভাটার আধিপত্য পুনরুজ্জীবিত করবে এবং পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে। এ খাতকে টিকিয়ে রাখতে দ্রুত সরকারি নজরদারি ও সহযোগিতার দাবি জানান তিনি।






















