সুনামগঞ্জ জেলাজুড়ে গত ৭ই জুলাই রাত থেকে শুরু হওয়া টানা মুষলধারে বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃক বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় চলতি বছরের সর্বোচ্চ ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর ফলে জেলার সবকটি পয়েন্টেই নদীর পানি দ্রুত বিপদসীমার দিকে ধাবিত হচ্ছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে মাঝারি ধরনের বন্যা পরিস্থিতির উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ইতিমধ্যে সুনামগঞ্জের সাথে তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুরের একমাত্র সংযোগ সড়কের শক্তিয়ারখলা পয়েন্টে প্রায় ১২০ মিটার রাস্তা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল কিছুটা বিঘ্নিত হচ্ছে। এছাড়া গত দুদিন ধরে অবিরাম বৃষ্টিপাতের কারণে শহরের নিচু রাস্তাঘাটে কিছুটা জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্যমতে, এখনো অধিকাংশ পয়েন্টে পানি বিপদসীমা অতিক্রম না করলেও দিরাই উপজেলার মারকুলি পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ১১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে, সুনামগঞ্জের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ৫১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে বিপদসীমার ৬০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ছাতক উপজেলা সদর পয়েন্টেও সুরমা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তা এখন বিপদসীমার ৫৩ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। জেলার তাহিরপুর উপজেলার লাউড়েরগড় এলাকায় ১২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শক্তিয়ারখলা এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১১৩ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেলেও তা এখনো বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
স্থানীয় ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল এভাবে অব্যাহত থাকলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জেলার বেশ কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী (টু) এমদাদুল হক জানান, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নদী তীরবর্তী ও হাওরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রাথমিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।













