পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার উত্তর দাসপাড়া দাখিল মাদ্রাসায় বৈধ ভারপ্রাপ্ত সুপার থাকা সত্ত্বেও এক সহকারী মৌলভীর বিরুদ্ধে নিজেকে ‘ভারপ্রাপ্ত সুপার’ দাবি করে অবৈধভাবে বেতন বিলসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক নথিপত্রে স্বাক্ষরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি বরাবর লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন মাদ্রাসার বৈধভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত সুপার ও সম্পাদক মোঃ নজির উদ্দিন মৃধা (ইনডেক্স নম্বর-০৭৬৮৪৮)।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ (২৩ নভেম্বর ২০২০ পর্যন্ত সংশোধিত)-এর ১৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মাদ্রাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মোঃ নজির উদ্দিন মৃধাকে গত ০৫/১১/২০২৪ তারিখে ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর আগে, গত ০১/০৯/২০২৪ তারিখে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ম্যানেজিং কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে মহাপরিচালকের পত্র এবং ম্যানেজিং কমিটির রেজুলেশনের ভিত্তিতেই তিনি ধারাবাহিকভাবে প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
তবে সম্প্রতি মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী মোঃ মাসুম বিল্লাহ (ইনডেক্স নম্বর-৩৫৮০৯৪) বিধিবহির্ভূতভাবে নিজেকে ‘ভারপ্রাপ্ত সুপার’ দাবি করেন। কোনো ধরনের বৈধ অনুমোদন ছাড়াই তিনি ২০২৬ সালের জুন, জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বিল ও অন্যান্য দাপ্তরিক নথিতে নিজের স্বাক্ষর বসিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেন।
মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মোঃ নজির উদ্দিন মৃধা জানান, সহকারী মৌলভী মাসুম বিল্লাহর দাখিল করা বিল, ভাউচার ও প্রশাসনিক ফাইল সম্পূর্ণ বেআইনি ও ভুয়া। এসব অবৈধ নথিপত্রে অনুমোদন না দেওয়া এবং প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা এড়াতে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। আবেদনের স্বপক্ষে তিনি ডিজি কার্যালয়ের চিঠি, ম্যানেজিং কমিটির রেজুলেশন এবং পূর্ববর্তী বেতন বিলের কপি সংযুক্ত করেছেন। অন্যদিকে, এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, নথিপত্রে জালিয়াতি ও নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগটি তদন্ত করে উপযুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





















